আজ থেকে তিন বিভাগের পেট্রোল পাম্পে তেল বেচাকেনা বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
১ ডিসেম্বর (রোববার) থেকে তিন বিভাগের পেট্রোল পাম্পের মালিকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটে যাচ্ছেন। একারণে খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সকল জেলার পেট্রোল পাম্পে তেল কেনাবেচা বন্ধ থাকবে। বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প অনার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং ট্যাংকলরি মালিক সমিতি যৌথভাবে ওই ধর্মঘটের আহবান জানিয়েছেন। ধর্মঘট আহবানে যশোরেও এর প্রভাব পড়েছে। আগে থেকেই তেল সংগ্রহের জন্য পেট্রোল পাম্পগুলোতে ভিড় করছে যানবাহন মালিকরা।
বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প অনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাজ্জাদুল করিম কাবুল জানিয়েছেন, সরকারে কাছে দীর্ঘদিন ধরে পেট্রোল পাম্পের মালিকরা বিভিন্ন দাবি পেশ করে আসছে। কিন্তু দাবি গুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে না। শুধু আশ্বাস দেয়া হচ্ছে। সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ১৫টি দাবি পেশ করা হয়েছে। কিন্তু আশ্বাস ছাড়া কার্যকর কোন সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। ফলে বাধ্য হয়ে পেট্রোল পাম্প মালিক ও ট্যাংকলরি মালিক সমিতি ওই ধর্মঘটের আহবান জানিয়েছে। যানবাহন চলাচল একেবারে যাতে বন্ধ না হয়ে যায় সে কারণে দেশব্যাপী ধর্মঘটের ঘোষণা দেয়া হয়নি। তবে সরকারের পক্ষে সাড়া না দিলে দেশব্যাপী ধর্মঘট পালনের বিষয়টি চিন্তা ভাবনায় আছে বলে জানান সাজ্জাদুল করিম কাবুল।
পেট্রোল পাম্পে ধর্মঘটের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে শনিবার সকাল থেকে যশোরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে ভিড় দেখা দেয়। মোটরসাইকেল থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন তেল নেয়ার জন্য ভিড় করে। যে দাবিতে ধর্মঘট ডাকা হলো-জ্বালানি তেল বিক্রির প্রচলিত কমিশন কমপক্ষে সাড়ে ৭ শতাংশ করা, জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা কমিশন এজেন্ট নাকি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান-বিষয়টি সুনির্দিষ্টকরণ, প্রিমিয়াম পরিশোধ সাপেক্ষে ট্যাংকলরি শ্রমিকদের ৫ লাখ টাকা দুর্ঘটনা বিমা প্রথা প্রণয়ন, ট্যাংকলরির ভাড়া বৃদ্ধি, পেট্রোল পাম্পের জন্য কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদফতরের লাইসেন্স গ্রহণ বাতিল, পেট্রোল পাম্পের জন্য পরিবেশ অধিদফতরের লাইসেন্স গ্রহণ বাতিল, পেট্রোল পাম্পে অতিরিক্ত পাবলিক টয়লেট, জেনারেল স্টোর ও ক্লিনার নিয়োগের বিধান বাতিল, সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃক পেট্রোল পাম্পের প্রবেশদ্বারের ভূমির জন্য ইজারা গ্রহণের প্রথা বাতিল।