যবিপ্রবি শিক্ষিকার বাড়িতে গৃহকর্মী নির্যাতন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ডরমেটরি ত্যাগের নির্দেশ

মোসাব্বির হোসাইন, যবিপ্রবি:
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষিকার স্বামীর বিরুদ্ধে গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ৩০ নভেম্বর শনিবার সকালে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।
প্রভাষক শাহানাজ আক্তারের স্বামী পূবালী ব্যাংক যশোর শাখার কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম তাদের গৃহকর্মী সখিনা খাতুনের ওপর চড়াও হন। তাকে শারীরিকভাবে ও নির্যাতন চালান। নির্যাতনে অসুস্থ হওয়ার পর সখিনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা দীপক কুমার মন্ডল জানান, তাকে খুবই খারাপ ভাবে আঘাত করা হয়েছে। লাঠির আঘাতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্ত জমাট বেধেছে এবং টিস্যু খুবই খারাপভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আহত সখিনা খাতুন সাংবাদিকদের বলেন আমাকে বকা ও গালিগালাজ করতেন মাজহারুল ইসলাম। এক পর্যায়ে আমি কাজ ছেড়ে দিব বলে সিদ্ধান্ত নিই। যার প্রেক্ষিতে আমাকে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করেন।
এই বিষয়ে যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন গৃহকর্মী নির্যাতনের যে ঘটনাটি ঘটেছে এর জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, অন্যায়ের কাছে কখনও মাথা নত করি নি আর করবোও না। ৭২ ঘণ্টার ভেতর তাদেরকে ডরমিটরি ত্যাগ করতে বলা হয়েছে আর যদি বাদীপক্ষ কোনো মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।
সখিনার পিতা আবুল হোসেনের সাংবাদিকদের জানান, মারধরের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষক ভুক্তভোগী গৃহকর্মীর পিতা ও অভিভাবকদের নিয়ে শিক্ষক ডরমিটরিতে প্রথমে ২০ হাজার টাকা দিয়ে মীমাংসার চেষ্টা চালান, তারা প্রস্তাবে রাজি না হলে পরবর্তীতে টাকার অঙ্ক বাড়িয়ে ৩০ হাজার পর্যন্ত করা হয়।
নির্যাতনের শিকার সখিনা খাতুন যশোর জেলার চৌগাছা থানার ফুলসারা ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের আবুল হোসেনের মেয়ে। দুই সন্তানের জননী সখিনার স্বামী মৃত মাহামুদুল হাসান মারা যাবার পর সাংসারিক অসচ্ছলতার কারণে প্রায় দুই বছর ধরে তিনি ওই শিক্ষকের বাসায় কাজ করতেন।