রূপদিয়ায় ভাইয়ের হাতে প্রাণ হারালেন এনজিও কর্মী বোন!

গোলাম মোস্তফা, রূপদিয়া (যশোর) :
প্রথমে জমির ধানের ভাগ করা নিয়ে কথা কাটাকাটি এরপর উত্তেজিত ভাইয়ের মারপিটের শিকার হয়ে এনজিও কর্মী মুক্তা খাতুন (৩৫) প্রাণ হারিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর পোস্ট অফিস এলাকার মোড়ল পাড়ায়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত করে মরদেহ পরিবারের হাতে বুঝে দিয়েছে।
অবশ্য হত্যার ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছিলো মুক্তার পরিবারের সদস্য। এলাকাবাসির চাপে পুলিশি হস্তক্ষেপে তা সম্ভব হয়নি। মুক্তা প্রতিক্ষা নামে একটি এনজিওর রূপদিয়া শাখার মাঠকর্মী ছিলেন।
গ্রামবাসী জানিয়েছে, নরেন্দ্রপুর গ্রামের মোড়ল পাড়ার মৃত আমজাদ আলী মোড়লের মেয়ে মুক্তা খাতুন (৩৫) গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নিজ বাড়িতে জমির ধান ভাগাভাগির হিসাবকে কেন্দ্র করে আপন (মেঝ) ভাই আজাদ হোসেনের সাথে তর্ক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে আজাদ হোসেন উত্তেজিত হয়ে মুক্তাকে এলোপাতাড়ি মারপিট কিল ঘুষি মারেন। এতে গুরুতর আহত হন মুক্তা। তার স্বজনরা দ্রুত মুক্তাকে রূপদিয়া বাজারের পল্লী চিকিৎসক রেজাউল ইসলামের কাছে নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানে গেলে মুক্তার মৃত্যু হয়।
গ্রামবাসী আরো জানিয়েছে, তার স্বজনরা মৃত্যুর ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার আগে তাকে বাড়িতে নিয়ে যায়। এবং প্রচার করে গ্যাস্ট্রিক ও উচ্চ রক্তচাপ জনিত কারণে অসুস্থ হয়ে মুক্তা মারা গেছেন। মুক্তার ভাই আব্দুল আলিম এই বিষয়টি ভিন্নভাবে প্রচারের চেষ্টা করেন। তিনি স্থানীয় গ্রাম্য নেতাদের হাত করে মুক্তার মৃত্যুর সংবাদ স্বাভাবিক বলে প্রচারের চেষ্টা করেন। কিন্তু এই বিষয়টি নিয়ে তার নিকটতম প্রতিবেশীরা কানাঘোষা করতে থাকেন। একএক করে প্রকৃত ঘটনা গ্রামবাসীর অনেকে জানতে পারেন। পরে স্থানীয় নরেন্দ্রপুর পুলিশ ক্যাম্পে সংবাদ দেয়া হয়। এরপর সংবাদ পেয়ে কোতয়ালি থানার এসআই সাইফুল মালেক ঘটনান্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে রাতেই যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। শনিবার লাশের ময়না তদন্ত করেছেন ডাক্তার বাবুল কিশোর।
এসআই সাইফুল মালেক জানিয়েছেন, এই ঘটনায় একটি জিডি হয়েছে কোতয়ালি থানায়। ময়না তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।