খাবারে ভেজাল রুখতে না পারলে জাতি হিসেবে পঙ্গু হয়ে যাবে: রাষ্ট্রপতি

রাজশাহী প্রতিনিধি :
বাংলাদেশে এখন নির্ভেজাল খাবার দুষ্প্রাপ্য হয়ে গেছে মন্তব্য করে এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করেছেন রাষ্ট্রপ্রতি মো. আবদুল হামিদ।

এই প্রবণতা থেকে মানুষকে ফেরাতে না পারলে জাতি হিসেবে পঙ্গু হয়ে যেতে হবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন তিনি।

রোববার রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্যে চিকিৎসকদেরও কঠোর সমালোচনা করেছেন আবদুল হামিদ।

বর্তমানে কলকাতার হাসপাতালগুলোতে ‘অধিকাংশ রোগীই বাংলাদেশি’ জানিয়ে তার জন্য এদেশের চিকিৎসকদের সমালোচনা করেছেন তিনি।

খাবারে ভেজাল নিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, “পৃথিবীর ৮০-৮৫টি দেশে আমি ঘুরেছি। পৃথিবীর কোনো দেশে খ্যাদ্যের মধ্যে এ ধরনের প্রতারণা কোথাও তারা করে না। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত-নেপালও খ্যাদ্যের মধ্যে ভেজাল দেয় না। খাদ্যে ভেজাল দেওয়ায় পৃথিবীর মধ্যে আমরাই চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেছি।”

সংকটের মাত্রা সম্পর্কে তিনি বলেন, “কচু ছাড়া সব কিছুতেই ফরমালিন। নির্ভেজাল খাবার এখন দুষ্প্রাপ্য হয়ে গেছে। খাদ্য ভেজালের কারণে ক্যান্সারসহ জটিল রোগ হচ্ছে। এ থেকে মানুষকে ফেরাতে হবে। নইলে জাতি হিসেবে আমরা পঙ্গু হয়ে যাব। এর হাত থেকে নিজেদেরকে বাঁচাতে হবে। নইলে জাতি হিসেবে আমরা কখনোই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারব না।”

‘মানুষ মানুষের জন্যে, জীবন জীবনের জন্যে, একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না’ ভূপেন হাজারিকার এই গানের উদ্ধৃত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, “এখন বাংলাদেশের অবস্থা, মানুষই দানব হয়ে যাচ্ছে। এ থেকে ফেরাতে হবে মানুষকে। এ ক্ষেত্রে গ্রাজুয়েটদের ভূমিকা রাখতে হবে। কারণ তোমরা তাদের ভালো করে বোঝাতে পারবে। এদের জাগ্রত করতে হবে এ সব ব্যবহার না করার জন্য।”

দেশের চিকিৎসক ও নার্সদের সমালোচনা করে আবদুল হামিদ বলেন, “পাশের দেশ ভারতের কলকাতায় গিয়ে দেখা যাবে সেখানকার হাসপাতালে যারা চিকিৎসা নিচ্ছেন তাদের ৮০ ভাগই বাংলাদেশের। সামান্য অসুখ হলেও তারা কলকাতায় যায় চিকিৎসা করাতে। কিন্তু কেন? আমাদের দেশেও তো চিকিৎসক কম নেই।

“ভারতের চিকিৎসকরা রোগীর পেছনে যে সময় দেয়, তাদের নার্সরা রোগীর সাথে যে আচরণ করে সেটি আমাদের দেশের চিকিৎসক-নার্সরা করে না। এটা কেন হবে? এ থেকে আমাদের নিষ্কৃতি পাওয়া প্রয়োজন। আমাদের রাজনীতিবিদ, শিক্ষক ও ছাত্রসমাজকে এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে সবাইকে বুঝাতে হবে।”

ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে মানবসত্তা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভাসিত হয়ে সমাজের সব অন্ধকার দূর করতে রুয়েট গ্র্যাজুয়েটদের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

সনদপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “উচ্চ শিক্ষা শেষে শুধু একটা ভালো চাকুরি পাওয়াই জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য হত পারে না। শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে, নিজে শিক্ষিত হওয়া ও অন্যকে শিক্ষিত করা, বৃহৎ মানবতার কল্যাণ করা। তাই ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে মানবসত্তা দিয়ে দেশকে আলোকিত করবে, বিশ্বকেও সে আলোর আভায় রাঙিয়ে তুলবে।”

রাষ্ট্রপতি বলেন, “২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়ার যে মহাপরিকল্পনা সরকার হাতে নিয়েছে, তা বাস্তবায়নের প্রধান কারিগর হচ্ছে প্রকৌশলীরা। সুতরাং প্রকৌশলীদের স্ব স্ব বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করে জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখতে হবে।”

সমাবর্তনে দুই হাজার ৫১৬ জন স্নাতক এবং পিএইচডিসহ স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ৭০ জনকে সনদ দেন রাষ্ট্রপতি। অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াটেক অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. সাইফুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপাচার্য রফিকুল ইসলাম শেখ।