কেশবপুর উপজেলা নদী ও খাল পুনঃখনন কাজে ধীরগতি

সিরাজুল ইসলাম, কেশবপুর :
কেশবপুরের অভ্যন্তরীণ নদী ও খাল পুনঃখনন কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বন্যা ও জলাবদ্ধতামুক্তকরণ এ প্রকল্পে আওতায় পানি উন্নয়ন বোর্ড(পাউবো) পরিচালিত খনন কাজ চলছে ঢিমেতালে।
কেশবপুর উপজেলার আপার ভদ্রা, হরিহর, বুড়িভদ্রা ও পার্শ্ববর্তী খাল গুলির জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য ৪৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকার প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে। এর মধ্যে চলতি অর্থ বছরে আরএডিবি বরাদ্দ ১৪ কোটি টাকা। এই অর্থ বছরে ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা ২৮ ভাগ। চলতি অর্থবছরে আর্থিক অগ্রগতি ৮ কোটি ৭৫ লাখ ২৪ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে প্রায় ২৪ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্প সমূহের মধ্যে রয়েছে হরিহর নদী বড়েঙ্গা হতে জামতলা পর্যন্ত পুনঃখনন ১৫ কিলোমিটার, বুড়িভদ্রা নদী বড়েঙ্গা হতে মজিদপুর পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার, আপার ভদ্রা নদী খনন ১৯.৪২৫ কিলোমিটার ও ৮টি খাল পুনঃখনন। খাল গুলো হলো কন্দর্পপুর, বারোপিট, গড়ালিয়া, পাথরা, বুড়–লি, আগরহাটি, ডহুরী ও খোজাখাল। এই প্রকল্পের মধ্যে ৯টি সুইস গেট মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বরাদ্দ রয়েছে। বর্তমান নদী খনন কাজ শুরু হলেও চলছে খুব ঢিমেতালে। আপার ভদ্রার ১২ কিলোমিটার খননের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। চারটি সুইস গেটের মধ্যে নর্ণিয়া ৪ ভেল্ট, বুড়–লি ৩ ভেল্ট, পাথরা ৪ ভেল্ট, খোজাখালি ৪ ভেল্ট মেরামত হয়েছে। কাশিমপুরে একটি ক্লোজার নির্মিত হয়েছে। ৫ টি সুইস গেটের জামতলা ৩ ভেল্ট, গড়ালিয়া ৩ ভেল্ট, মধ্যকুল ২ ভেল্ট, আগরহাটি ২ ভেল্ট ও ভরত-ভায়না ১ ভেল্ট মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়াও খোজাখাল, বারপিট, বুড়–লি, পাথরা, গরালিয়া খালের খনন কাজ চলমান রয়েছে। এই প্রকল্পের কাজ ২০২১ সালের জুন মাসের মধ্যে শেষ করার কথা।
স্থানীয়রা জানান, খননের শুরুতে কাজ খালো হলেও বর্তমানে দায়সারা গোছের হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ ব্যবস্থাপক মুন্সী আছাদুল্লাহ জানান, আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের মধ্যে স্বচ্ছতার সাথে শতভাগ কাজ সম্পন্ন হবে। স্কেভেটার মেশিন দিয়ে খনন কাজ অব্যাহত রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালক রোকনুদ্দৌলা ব্যক্তিগত ভাবে এ কাজ তদারকি করছেন।