পরকীয়ার জেরে কলেজছাত্র সোহাগ হত্যা, মিশনে ছিল ৬ জন

#আটক তিন আসামির
আদালতে স্বীকারোক্তি>
নিজস্ব প্রতিবেদক :
পরকীয়ার জেরে হত্যা করা হয়েছে যশোরে কলেজছাত্র সোহানুর রহমান সোহাগ ওরফে মাইকেলকে। আর এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে সোহাগের ধর্ম ভাই পরিচয়দানকারী রাকিবসহ ৬ জন। রোববার ও সোমবার এই মামলার তিন আসামিকে আটক করে হত্যার পেছনের রহস্য ও হত্যাকারী কারা তা শনাক্ত করেছে যশোর ডিবি পুলিশ। এই বিষয়ে পুলিশ সাংবাদিকদের ব্রিফিংও দিয়েছে।
আটককৃতরা হলো শহরের মোল্লাপাড়ার মৃত খায়রুল ইসলামের ছেলে রায়হান, একই এলাকার নগেন কুমারের ছেলে কালীপদ ও ছোট শেখহাটির ওহেদ আলীর ছেলে দাউদ ।
একইসাথে হত্যার কাজে ব্যবহৃত ছুরি ও মদের সাথে মেশানো ঘুমের ওষুধ, মদের বোতল ও তিনটি মোবাইলফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) তৌহিদুল ইসলাম সোমবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান। এ সময় ডিবি পুলিশের ওসি মারুফ আহমেদ, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মফিজুল ইসলামসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে সোমবার তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গৌতম মল্লিক আসামিদের জবানবন্দী গ্রহণ করেছেন বলে জানাগেছে।
তৌহিদুল ইসলাম বলেন, গত ২১ অক্টোবর দিবাগত রাতে যশোর শহরের মোল্লাপাড়ার ভৈরব নদের পাড়ে কলেজছাত্র সোহাগ ওরফে মাইকেলকে কুপিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় কোতয়ালি থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলার আসামি রাকিব আদালতে আত্মসমর্পণ করে। আর কোরবানকে আটক করে জেল হাজতে পাঠানো হয়।
তিনি জানান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মফিজুল ইসলাম তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিশ্চিত হন রায়হান রাজধানীতে অবস্থান করছে। রোববার বিকেলে ঢাকার চকবাজার থেকে রায়হানকে আটক করা হয়। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী যশোর শহরের মোল্লাপাড়া থেকে কালীপদ ও দাউদকে আটক করে পুলিশ।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, এই মামলার প্রধান আসামি রাকিবের ধর্ম ভাই ছিলো নিহত সোহাগ। রাকিবের স্ত্রী অনন্যার সাথে সোহাগের পরকীয়া গড়ে ওঠে। সেই কারণে রাকিবের সাথে অনন্যার সম্পর্ক বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর থেকে রাকিব ক্ষিপ্ত হয়ে সোহাগকে মারতে পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মোতাবেক কৌশলে সোহাগকে নদের পাড়ে নিয়ে হত্যা করা হয়।