বিশ্রাম কক্ষে দুই চিকিৎসকের মাদকসেবন চলছেই !

বিল্লাল হোসেন :
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের দুইজন চিকিৎসকের মাদক সেবন থেমে নেই। ফেনসিডিলের পাশাপাশি এখন তারা ইয়াবায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দায়িত্বের ফাঁকে তারা ব্যক্তিগত কক্ষে গিয়ে মাদক সেবন করছে। সূত্র জানায়, দুই জনের মধ্যে যে কোন একজনের দায়িত্ব থাকলেই অপরজনও এসে হাজির হন। বিশেষ করে দায়িত্বের রাতে জমপেশ মাদকের আসর বসে। বিভিন্ন সময়ে তাদের ইয়াবা ও ফেনসিডিল পৌঁছে দিচ্ছেন ওষুধ কোম্পানির তিন জন প্রতিনিধি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক যেখানে বসে দায়িত্ব পালন করেন তার পিছনেই অবস্থিত পার্সোনাল কক্ষটি। ওই দুইজন চিকিৎসকের যথেচ্ছার কারণে ব্যক্তিগত বিশ্রাম কক্ষটি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। তারা দুই চিকিৎসক কক্ষটি নিজেদের ইচ্ছামতো ব্যবহার করছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জরুরি বিভাগের একজন কর্মচারী জানিয়েছেন, ওই কক্ষটি এখন মাদক সেবনের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ওই কর্মচারী আরো জানান, দুইজনের মধ্যে যে কোন একজনের দায়িত্ব থাকলেই তাদের একসাথে দেখা মেলে ওই কক্ষে। দায়িত্ব না থাকলেও অন্যজন নেশার টানে ছুটে আসেন সেখানে। আরেক কর্মচারী জানান, বিগতদিনে দৈনিক স্পন্দনে ওই দুই চিকিৎসকরে নাম উল্লেখ করে মাদক সেবনের খবর প্রকাশ হওয়ার পর বিশ্রাম কক্ষে বসে মাদন সেবন করা কিছু দিন বন্ধ ছিলো। কিন্তু এখন আরো জোরেসোরে মাদকের আড্ডা চলছে। আগে তারা শুধু ফেনসিডিল সেবন করতেন। বেশ কিছু দিন যাবৎ ফেনসিডিলের পাশাপাশি ইয়াবা সেবন শুরু হয়েছে। বিষয়টি দেখেও চুপ থাকতে হয়। তিনি আরো জানান, ওই দুই চিকিৎসক অধিকাংশ সময় নেশার ঘোরে থাকেন। যে কারণে জরুরি বিভাগে চিকিৎসার জন্য আসা রোগী ও স্বজনেরা তাদের রোষানলে পড়ে দুর্ব্যহারের শিকার হচ্ছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জানান, বেশ কিছুদিন আগে তিনি এক রোগীর জখমি সনদের বিষয়ে কথা বলার জন্য হঠাৎ করে চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত ওই কক্ষে ঢুকে পড়েন। এসময় তিনি দেখতে পান দুই চিকিৎসক বসে মাদক সেবন করছেন। তাকে দেখে তারা চমকে ওঠে। এসময় তিনি বের হয়ে আসেন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু জানিয়েছেন, জরুরি বিভাগে চিকিৎসকদের বিশ্রাম কক্ষে এখন কোন চিকিৎসক মাদক সেবন করছে কিনা তার জানা নেই। কোন চিকিৎসক বা কর্মচারী তার কাছে কখনো অভিযোগও করেনি। তবে বিগত দিনে এমন অভিযোগ দুই চিকিৎসককে সতর্ক করা হয়েছিলো। জরুরি বিভাগের বিশ্রাম কক্ষে বসে যদি কোন চিকিৎসক মাদক সেবন করে সেটা অবশ্যই অন্যায়। বিষয়টি তিনি গোপনে খোঁজ নেবেন।