বাতিল নূরমহল এখন মাতৃসেবা ক্লিনিক

#সব ঠিকঠাক, শুধু বদলেছে সাইনবোর্ড:
বিল্লাল হোসেন>
চিকিৎসক ও আয়া- কর্মচারী সবই এক শুধু বদলে গেছে সাইনবোর্ড। আগে ছিলো নূর মহল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। আর এখন মাতৃসেবা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু ও নানা অনিয়মের অভিযোগে নূর মহলের লাইসেন্স বাতিলের পর মাতৃসেবা ক্লিনিক নাম দিয়ে কৌশলে চিকিৎসা প্রতারণা অব্যাহত রেখেছেন ডা. মোজাম্মেল হক। লাইসেন্স বিহীন মাতৃসেবা ক্লিনিকে মালিক ডা. মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে ডিগ্রি প্রতারণারও অভিযোগ রয়েছে।
যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, নূরমহল ক্লিনিক স্থাপনের পর অনুমোদন পাওয়ার পর মালিক পক্ষ স্বাস্থ্য নীতিমালা উপেক্ষা করে আসছিলো। সেখানে রোগীর অস্ত্রোপচার, অজ্ঞান করা, নানা রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করতেন ডা.মোজাম্মেল হক। এমবিবিএস পাশ করা এই চিকিৎসক সেখানে রোগীদের আল্ট্রাসনো করতেন। জুলাই মাসে ডা. মোজাম্মেল হকের ভুল অস্ত্রোপচারে এর নারী মারা যান। এই ঘটনায় সিভিল সার্জনের নির্দেশে একটি তদন্ত কমিটি গঠন হয়। কমিটির প্রধান ছিলেন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এমদাদুল হক রাজু। তদন্ত কমিটি ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু ও সেখান নানা অনিয়মের সত্যতা পান। ওই তদন্ত প্রতিবেদন স্বাস্থ্য অধিদফতরে পাঠিয়ে দেয় যশোরের সিভিল সার্জন ডা. দিলীপ কুমার রায়। তদন্ত প্রতিবেদনে নূর মহল ক্লিনিকের লাইসেন্স বাতিল ও রোগীর মত্যুর ঘটনায় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হয়। ২ নভেম্বর নূর মহলের লাইসেন্স বাতিলের পত্র আসে সিভিল সার্জন অফিসে। পরে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নূর মহলের লাইসেন্স বাতিলের কয়েকদিন পরেই সেখানে মাতৃসেবা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়া হয়। নামটা পরিবর্তন হলেও সেখানে সব কিছুই এক। অভিযোগ উঠেছে, নূরমহলের লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পর ডা. মোজাম্মেল হক কৌশলে নাম করণ করেছে মাতৃসেবা ক্লিনিক। এভাবে চিকিৎসা প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সরেজমিনে দেখা গেছে, ডা, মোজাম্মেল ছাড়া সেখানে আর কোনো চিকিৎসক নেই। ডিপ্লোমাধারী সেবিকাও নেই। ওয়ার্ড ও কেবিনের পরিবেশ নোংরা। কর্তপক্ষের অনুমতি না নিয়েই নিজেদের ইচ্ছায় মাতৃসেবা ক্লিনিক চালু করেছে ডা. মোজাম্মেল। অভিযোগ উঠেছে, লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকারী ডা. মোজাম্মেল হক ভিজিডিং কার্ড ও প্রচারপত্রে ভুয়া ডিগ্রির নাম ব্যবহার করেছেন। লেখা হচ্ছে ওআরএইচ এন্ড সিএসআই (গাইনী)। এই বিষয়ে যশোরের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. ফতে আলী হাসান গাইনীতে এই নামে কোনো ডিগ্রি নেই। এছাড়া তিনি নিজেকে মা ও শিশু রোগে উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হিসেবে দাবি করেন। এই বিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্য মাতৃসেবা ক্লিনিকে গিয়েও প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোজাম্মেল হককে পাওয়া যায়নি। তার ব্যহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএইচ এম মঞ্জুর মোর্শেদ জানান, লাইসেন্সের জন্য অনলাইনে আবেদন করে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. দিলীপ কুমার রায় জানান, ১০ শয্যার প্রতিটি হাসপাতাল অথবা ক্লিনিকে রোগী প্রতি ফ্লোর স্পেস থাকতে হবে নূন্যতম ৮০ বর্গফুট। জরুরি বিভাগ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঝুঁকিমুক্ত অপারেশন থিয়েটার, চিকিৎসার জন্য যন্ত্রপাতি, ওষুধ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরি থাকতে হবে। শর্তানুযায়ী ৩ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ডিপ্লোমাধারী ২ জন সেবিকা, ৩ জন সুইপার ও ৮শ’ বর্গফুট জায়গা থাকা বাধ্যতামূলক । কিন্তু নূরমহল ক্লিনিক স্থাপনের পর অনুমোদন পাওয়ার পর মালিক পক্ষ এসব স্বাস্থ্য নীতিমালা উপেক্ষা করে আসছিলো। নূর মহল যদি মাতৃসেবা ক্লিনিক হয়ে থাকে তাহলে ওই প্রতিষ্ঠানেও একই ধরণের অনিয়ম হচ্ছে। তিনি জানান, মাতৃসেবা ক্লিনিকের লাইসেন্স নেই। অনলাইনে আবেদন করলে প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে আমার কাছে চিঠি আসতো। অবৈধ মাতৃসেবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।