নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে সাংসারিক ব্যয় বেড়েছে কয়েকগুণ

মুর্শিদুল আজিম হিরু :
নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে চরম অসুবিধায় নিম্ন-মধ্য আয়ের মানুষ। যে টাকার বাজারে এক সপ্তাহ চলত এখন সেই টাকা দিয়ে বাজার করলে তিনদিনও চলছে না। গত চার মাসে পেঁয়াজ-রসুনের দাম কেজিতে চারগুণ বেড়েছে। এছাড়া চাল, ডাল, ভোজ্য তেল, শাক-সবজির দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বৃহস্পতিবার যশোর শহরের বড় বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
বড় বাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দেশে আমদানি পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়ে গেছে। নতুন পেঁয়াজ বাজারে এসেছে। গত কয়েক দিনের তুলনায় যশোরের বাজারে আমদানি ও নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়ে গেলেও দাম কমার কোন লক্ষণ নেই।
বাজারে কয়েকজন ক্রেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, দাম বাড়লেও বাজার করা বন্ধ নেই। তবে আগের তুলনায় কম। আগে বাজারে আসলে পেঁয়াজ-রসুন, আলু এক কেজির কম কেনা হতো না। দাম বাড়ার ফলে এ সব পণ্য এক পোয়া করে কিনতে হচ্ছে। যে হারে পণ্যের দাম বাড়ছে তাতে নিম্ন-মধ্য আয়ের মানুষের খেয়ে পরে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে যাবে। গত কয়েক মাসের মধ্যে অনেক পণ্যের দাম ২ থেকে ৪ গুণ বেড়েছে।
বাজারে প্রতি কেজি দেশি পুরাতন পেঁয়াজ বিক্রি হয় ২শ’৪০টাকা। ১শ’৮০টাকা কেজি বিক্রি হয় নুতন পেঁয়াজ। আমদানি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ১শ’২০টাকা। প্রতি কেজি দেশি রসুন বিক্রি হয় ১শ’৬০ টাকা থেকে ১শ’৮০ টাকা। ১শ’৩০ টাকা থেকে ১শ’৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয় আমদানিকৃত রসুন। প্রতি কেজি পুরাতন আলু বিক্রি হয় ২৮ টাকা থেকে ৩০ টাকা কেজি। ৪০ টাকা থেকে ৪৫ টাকা কেজি বিক্রি হয় নতুন আলু। প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি হয় ৪০ টাকা।
বাজারে চালের দাম কিছুটা নিম্নমুখি। প্রতি কেজি স্বর্ণা চাল বিক্রি হয় ২৫ টাকা থেকে ২৭ টাকা। ২৮ টাকা থেকে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হয় আমদানিকৃত মোটা চাল। প্রতি কেজি বিআর-১০ চাল বিক্রি হয় ৩২ টাকা থেকে ৩৪ টাকা। ৩৪ টাকা থেকে ৩৫ টাকা কেজি বিক্রি হয় রনজিৎ চাল। প্রতি কেজি বিআর-২৮ ও কাজললতা চাল বিক্রি হয় ৩৫টাকা থেকে ৩৭ টাকা। ৪২ টাকা থেকে ৪৪ টাকা কেজি বিক্রি হয় মিনিকেট চাল।
ঊর্ধ্বদামের অপরিবর্তিত আছে শাক-সবজির দাম। প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হয় ৫০ টাকা। ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টাকা কেজি বিক্রি হয় কুমড়া। প্রতি কেজি কুশি বিক্রি হয় ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা। ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয় ধেঢ়স। প্রতি কেজি পটল বিক্রি হয় ৪০ টাকা। ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয় বরবটি। প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হয় ২০ টাকা। ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হয় উচ্ছে। প্রতি কেজি ডাটা বিক্রি হয় ২০ টাকা। ২০ টাকা কেজি বিক্রি হয় পুঁইশাক। প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হয় ৮০ টাকা। ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয় কচুরলতি। প্রতি কেজি কলা বিক্রি হয় ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা। ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হয় ধুন্দল। ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হয় ঝিঙে। প্রতি কেজি শিম বিক্রি হয় ৫০ টাকা। ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হয় কচুরমুখি। প্রতি কেজি ব্রুকলি বিক্রি হয় ৫০ টাকা। ২০ টাকা কেজি বিক্রি হয় মুলা। ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হয় বাধা কপি। প্রতি কেজি ফুল কপি বিক্রি হয় ৫০টাকা। ২০ টাকা কেজি বিক্রি হয় পালংশাক। প্রতি কেজি পেঁয়াজের কালি বিক্রি হয় ৮০ টাকা।
বাজারে ঊর্ধ্বদামে অপরিবর্তিত আছে ভোজ্য তেলের দাম। প্রতি কেজি সয়াবিন তেল বিক্রি হয় ৮৮ টাকা। ৭৫ টাকা কেজি বিক্রি হয় সুপার পাম তেল। প্রতি কেজি পাম তেল বিক্রি হয় ৭০ টাকা।
বাজারে ডালের দাম ঊধ্বমুখি। প্রতি কেজি দেশি মসুর ডাল বিক্রি হয় ১শ’ টাকা থেকে ১শ’১০ টাকা। ৫০ টাকা থেকে ৫৫ টাকা বিক্রি হয় আমদানিকৃত মসুর ডাল। প্রতি কেজি ছোলার ডাল বিক্রি হয় ৮০ টাকা থেকে ৮৫ টাকা। ৩৫ টাকা থেকে ৩৮ টাকা কেজি বিক্রি হয় বুটের ডাল। প্রতি কেজি মুগের ডাল বিক্রি হয় ১শ’১০ টাকা থেকে ১শ’২০ টাকা। ৫৫ টাকা থেকে ৫৮ কেজি বিক্রি হয় কলাইয়ের ডাল।
বাজারে নতুন চাল আসেনি। পুরতান চালের দাম বেশ চড়া। প্রতি কেজি স্বর্ণা চাল বিক্রি হয় ২৮ টাকা থেকে ৩০ টাকা। ৩৪ টাকা থেকে ৩৬ টাকা কেজি বিক্রি হয় বিআর-২৮ চাল। প্রতি কেজি কাজল লতা চাল বিক্রি হয় ৩৬ টাকা থেকে ৩৮ টাকা। ৪২ টাকা থেকে ৪৫ টাকা কেজি বিক্রি হয় মিনিকেট চাল।
বাজারে প্রতি কেজি বড় ইলিশ মাছ বিক্রি হয় ৯শ’টাকা। ৪শ’টাকা থেকে সাড়ে ৭শ’টাকা কেজি বিক্রি হয় মাঝারি সাইজের ইলিশ। ঝাটকা ইলিশ বিক্রি হয় ৩শ’টাকা থেকে ৩শ’২০টাকা। প্রতি কেজি রুই মাছ বিক্রি হয় ১শ’৬০ টাকা থেকে ২শ’২০টাকা। পাংঙ্গাশ মাছ বিক্রি হয় ১শ’৪০ টাকা কেজি। প্রতি কেজি কৈ মাছ বিক্রি হয় ১শ’২০ টাকা থেকে ১শ’৫০টাকা। ১শ’২০ টাকা থেকে ১শ’৪০ টাকা কেজি বিক্রি হয় তেলাপিয়া মাছ। প্রতি কেজি শিং মাছ বিক্রি হয় ৪শ’ টাকা থেকে সাড়ে ৪শ’ টাকা। ১শ’৬০ টাকা থেকে ২শ’ টাকা কেজি বিক্রি হয় কাতলা মাছ। প্রতি কেজি বাটা মাছ বিক্রি হয় ১শ’২০টাকা। ১শ’২০টাকা থেকে ১শ’৪০টাক কেজি বিক্রি হয় থাই পুটি মাছ। প্রতি কেজি চিলবারর্কাপ মাছ বিক্রি হয় ১শ’২০টাকা থেকে ১শ’৪০টাকা। ১শ’৫০টাকা থেকে ১শ’৮০ টাকা কেজি বিক্রি হয় গ্রাসকার্প মাছ।