নাসির-ইমরুলদের দেখে রোমাঞ্চিত নিক্সন

 

ক্রীড়া প্রতিবেদক :

জাতীয় ক্রিকেট একাডেমি মাঠের সেন্টার উইকেটে স্পিনারদের বল এদিক-ওদিক ওড়াচ্ছিলেন নাসির হোসেন। মাঝে মধ্যেই ছক্কা না আউট, এ নিয়ে বোলারদের সঙ্গে চলছিল খুনসুটি। আম্পায়ারের জায়গায় দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ তার ব্যাটিং দেখলেন পল নিক্সন। কিছু বড় শটে দেখা গেল হাততালি দিতে।

নাসিরের পর একই উইকেটে ব্যাটিং করেন ইমরুল কায়েস ও পিনাক ঘোষ। নাসিরের পর তাদের সঙ্গেও অনেকটা সময় নিয়ে কথা বলেন নিক্সন। অনুশীলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় নতুন দল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের খেলোয়াড়দের নিয়ে মুগ্ধতার কথা জানান ইংল্যান্ডের সাবেক এই কিপার-ব্যাটসম্যান।

“ছেলেদের যে প্রাণ শক্তি আছে আর এই ছোট দল নিয়েও আমরা যে উদ্দীপনা জাগাতে পেরেছি, এটা অসাধারণ। দলে কয়েকজন ভালো খেলোয়াড় আছে…ওদের নিয়ে আমি খুব রোমাঞ্চিত।”

“এখানে আসার পর ছেলেদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমাদের স্থানীয় খেলোয়াড়দের এটা বিশ্বাস করা জরুরি যে, ওরা ম্যাচ উইনার। ওদের জন্য ভালো করা এটা দারুণ একটা সুযোগ। ওরা মাঠগুলো চেনে, পিচগুলোও চেনে। আমার মনে হয়, এখানে আসা বড় নামদের জন্য কাজটা কঠিন হবে। স্থানীয়রা ওয়ার্কহর্স যারা আসলে ম্যাচ জেতায়। আজ ওরা (অনুশীলনে) যেভাবে খেলেছে তাতে আমি রোমাঞ্চিত।”

২০১১ সালে ২৩ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি টানার পর যুক্ত হন কোচিংয়ে। ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে কোচিংয়ের অভিজ্ঞতায় হয়েছেন সমৃদ্ধ। প্রথমবারের মতো বিপিএলে কোচিং করাতে এসে নিক্সন জানালেন, চূড়ান্ত লক্ষ্য অবশ্যই জয়। সঙ্গে স্কিলের উন্নতির দিকেও থাকবে মনোযোগ।

“অবশ্যই জয়। এ কারণেই আমরা এসেছি। দিন দিন আমরা স্কিলে উন্নতি করতে চাই। নতুন আইডিয়া ও স্মার্ট ক্রিকেটের জন্য আমাদের মন খোলা। আমরা খেলা থেকে নিজেদের অহম দূরে রাখার চেষ্টা করব। আমাদের স্মার্ট হতে হবে। আমাদের দলে বাংলাদেশের চমৎকার কয়েকজন খেলোয়াড় আছে। ম্যাচ ওদের জেতাতে হবে।”

“শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেটে পার্থক্য খুব কম থাকে। চাপের মধ্যে যে মৌলিক কাজগুলো ভালোভাবে করে সে ম্যাচ জেতার মোমেন্টাম পেয়ে যায়।”

৩৬ বছর বয়সে হয় আন্তর্জাতিক অভিষেক। ইংল্যান্ডের হয়ে ২০০৭ সালে খেলেন ১৯টি ওয়ানডে ও একটি টি-টোয়েন্টি। ২০০৭ বিশ্বকাপে সুপার এইটে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৪ উইকেটের জয়ের ম্যাচটিতে খেলেছিলেন নিক্সন। এক যুগ পরেও সেই ম্যাচের কথা মনে আছে ৪৯ বছর বয়সী এই কোচের।

“ম্যাচটার কথা আমার মনে আছে। এটা ছিল বারবাডোজে। খুব আঁটসাঁট ম্যাচ ছিল। আমি আর (পল) কলিংউড ম্যাচটা শেষ করে এসেছিলাম।”

বাংলাদেশ টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার আগে এমসিসির হয়ে ঢাকায় এসেছিলেন নিক্সন। সেই সময়ের পর থেকে দেশটির ক্রিকেট এগিয়েছে অনেক দূর। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে আরেকটু এগিয়ে নিতে এসেছেন এবার।