নড়াইলে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

ফরহাদ খান, নড়াইল:
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পারবিষ্ণুপুর গ্রামে গৃহবধূ তামান্না খাতুনকে (২০) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গৃহবধূর স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে গেছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
তামান্না খাতুনের বাবা কালিয়া খড়রিয়া গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক আকতার মোল্যা জানান, তিন বছর বছর আগে পারবিষ্ণুপুর গ্রামের রব্বেল শেখের ছেলে দিনমজুর শিপানের সাথে তার মেয়ের বিয়ে দেন। বিয়ের সময় জামাই শিপানকে এক লাখ টাকাসহ আরো এক লাখ টাকার আসবাবপত্র দেন। তবে মেয়ের জীবন সুখের হয়নি। বিয়ের পর থেকে স্বামী শিপানসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার মেয়ে তামান্নাকে প্রায়ই মারধর ও নির্যাতন করত। স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তামান্না কয়েকবার বাবার বাড়িতে চলে আসে। এ নিয়ে পুরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একবার সালিশ করেও কাজ হয়নি। গত ১৬ নভেম্বর শিপানদের প্রতিবেশী লিটন ও আনোয়ার এসে তামান্নাকে বাবার বাড়ি (খড়রিয়া) থেকে শ্বশুরবাড়ি নিয়ে যায়। তামান্নাকে আর নির্যাতন করবে না-এমন অঙ্গীকার করেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এরপরও তাকে একমাসের কম সময়ের মধ্যে তিনবার নির্যাতন করা হয়েছে। সর্বশেষ শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে মাছকাটাকে কেন্দ্র করে তামান্নাকে তার শাশুড়ি মারধর করে বলে, তোকে (তামান্না) মেরে গাঙ্গে (নদী) ভাসিয়ে দেবো।
আকতার মোল্যা বলেন, শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে আমার মেয়ে মোবাইল ফোনে এ মারধরের কথা আমাকে জানায়। এ সময় তামান্নার এক বছরের শিশু সন্তান তাসলিমাও আমার সঙ্গে আধো আধো কথা বলার চেষ্টা করে। এরপর রাত ১২টার দিকে শিপানের প্রতিবেশী আনোয়ার তার মোবাইল ফোনে আমার মেয়ে তামান্নার অসুস্থতার খবর জানিয়ে এক্ষুণি ওই বাড়িতে (শ্বশুরবাড়ি) আমাদের আসতে বলেন। মেয়ের অসুস্থতার খবরে বিচলিত হলে পড়লে এক পর্যায়ে আনোয়ার আমাকে বলেন, তামান্না মারা গেছে। আমাদের পরিবারের লোকজন ওই বাড়িতে গিয়ে দেখতে পায়, তামান্নাকে পিটিয়ে হত্যা করে ঘরের মধ্যে লেপ দিয়ে ঢেকে রেখে তার স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের সাত সদস্য সবাই বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে। তামান্নার মুখের বাম পাশে আঘাতের চিহ্ন আছে। তাকে বালিশ চাপা দেয়া হয়েছে বলেও মনে হচ্ছে।
আকতার মোল্যা আরো বলেন, আমি মেয়ে হত্যার যথাযথ বিচার চাই। ওরা আমার শান্তশিষ্ট মেয়েটিকে নির্মম ভাবে হত্যা করেছে। তিন মেয়ের মধ্যে আমার বড় মেয়ে তামান্নাকে অকালে হারাতে হলো।
এ ব্যাপারে পুরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম মনি বলেন, তামান্নাকে নির্যাতনের ঘটনায় সালিশ করেও তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের হয়নি। অবশেষে মেয়েটিকে লাশ হতে হলো। কালিয়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, শনিবার সকালে গৃহবধূ তামান্নার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ময়না তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনায় তামান্নার শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছে।