ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্যের ভিত্তিতে আসামি শনাক্তের চেষ্টা

#আনসার সদস্য হোসেন হত্যা>
নিজস্ব প্রতিবেদক:
এক সপ্তাহ পার হলেও যশোর সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নের হাশিমপুর বাজারে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত আনসার সদস্য হোসেন আলী তরফদার (৫৭) নিহতের মামলায় পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি। প্রকাশ্য দিবালোকে এই ধরণের ঘটনা ঘটার পর ওই এলাকার মানুষ আসামিদের নাম পরিচয় জানতে উদগ্রিব হয়। কিন্তু পুলিশ এখনো পর্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে কাউকে আটক করতে পারেনি। হোসেন আলী ইছালী তরফদারপাড়ার মৃত আরশাদ আলীর ছেলে।
পুলিশের ভাষ্য, ঘটনার পর আসামিরা এলাকাছাড়া। ওই ঘটনার পর প্রত্যক্ষদর্শীরাও ইছালী ইউনিয়নে সন্দেহভাজনদের দেখেনি। এছাড়া বাদি সুনির্দিষ্টভাবে কাউকে আসামি করেনি। ফলে হত্যার পেছনে কারা তা এখনই জানা সম্ভব নয়।
তবে হাশিমপুর বাজার এলাকার একটি সূত্র জানিয়েছে, বাজারের একটি দোকানের বাইরে বসানো সিসি ক্যামেরায় ঘটনার সময়কার ফুটেজ রয়েছে। পুলিশ ওই ফুটেজ দেখে হত্যাকারীদের শনাক্ত করেছে।
নিহতের ছেলে হুমায়ুন কবিরের দায়ের করা মামলায় অজ্ঞাত ৯/১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৬ সালে তার পিতা আনসার সদস্য পদে যোগ দেন। বর্তমানে ঢাকার রুপগঞ্জ থানায় কর্মরত রয়েছেন। ৩০ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে তিনি হাশিমপুর বাজারে গিয়ে নাস্তা করে বাড়ি ফিরে আসেন। পরে তার মোবাইল ফোনে একটি কল আসলে তিনি বাড়ি থেকে বাইরে চলে যান। বাজারের মোশারফ হোসেনের দোকানে বসে চা পান করার সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ৯/১০জন দুষ্কৃতিকারী সেখানে উপস্থিত হয়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পরে কয়েকটি মোটরসাইকেলযোগে দুষ্কৃতিকারীরা মাগুরার দিকে চলে যায়। পরে তিনি সংবাদ পেয়ে তার পিতার মারা যাওয়ার সংবাদ শোনেন।
কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, কয়েদখালি গ্রামের জুয়েল, মুন্না, তারক, আনোয়ার, মুছা, রাসেল, বার্মিজ, বাবু ওরফে ছোটবাবুসহ অজ্ঞাত ১৫/১৬ জন পূর্বপরিকল্পিত এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। হোসেনের অবস্থান জেনে পায়ে হেটে হাশিমপুর বাজারের জামে মসজিদ গলির পূর্ব দিকে ১৫/১৬ জন অবস্থান নেয়। আর যশোর-মাগুরা সড়ক দিয়ে তিন মোটরসাইকেলে ৬ জন এসে চা দোকানি মোশারেফ ও কসাই জহুরুলের দোকানের সামনে এসে দাঁড়ায়। সে সময় আনসার সদস্য হোসেন চা পান করছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী হোসেনকে প্রথমে গুলি করে তারক। এরপর গুলি ছোড়ে আনোয়ার। পিস্তল এবং সর্টগান ব্যবহার হয় এই হত্যাকাজে। ঘটনার সময় রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে ছিল মুন্না, জুয়েলসহ অন্যরা। তাদের হাতেও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। গুলি করার সাথে সাথে দুইটি মোটসাইকেল খাজুরার দিকে চলে যায়। আর একটি যায় ইছালী গ্রামের দিকে। বাজারের মসজিদের আশপাশে অবস্থান নেয়া সন্ত্রাসীরা যে যার মতো সটকে পড়ে। অনেকে বাজারে মিশে যায় সাধারণ মানুষের সাথে।
হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ হিসাবে গ্রামবাসি জানিয়েছে, বছর দুইয়েক আগে পুলিশের কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হন চরমপন্থি সংগঠনের সদস্য বুলি। কথিত আছে বুলিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল একটি ঘেরের পাশে। পরে ওই মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ম্যানেজ করে ক্রসফায়ার হিসাবে দেখানো হয়েছিল। বুলির পরিবারের ধারণা ওই হত্যার নেপথ্যের কারিগর ছিলেন হোসেন। তিনি আনসারে চাকরি করলেও বাড়ির পরিবেশ পরিস্থিতির নিয়মিত খোঁজ খবর রাখতেন। এলাকায় এসে প্রভাব বিস্তারও করতেন। যে কারণে পূর্ব শত্রুতার জেরে তাকে খুন হতে হয়েছে।
হোসেন হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতয়ালি থানার এসআই শাহজুল ইসলাম জানিয়েছেন,
ঘটনার পর আসামিরা এলাকাছাড়া। ফলে কাউকে আটক করা যায়নি। তবে পুলিশ হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে কিছু তথ্য পেয়েছে। ওই তথ্যের ভিত্তিতে আসামি আটকের জন্য চেষ্টা করছে।