হানাদারমুক্ত যশোরের মাটিতে প্রথম জনসভার দিন আজ

রিমন খাঁন:
আজ ১১ ডিসেম্বর। জাতীয় জীবনের স্মরণীয় একটি দিন । ৬ ডিসেম্বর যশোর হানাদার মুক্ত হয়। এরপর বাংলাদেশের মধ্যে টাউনহল ময়দানে প্রথমবারের মতো আজকের এইদিনে অনুষ্ঠিত হয় প্রকাশ্য জনসভা। এই জনসভায় প্রবাসী সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ, মন্ত্রী পরিষদ সদস্য ক্যাপ্টেন মনসুর আলী, ফণিভূষণ মজুমদার, সোহরাব হোসেন, চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান, অভিনেতা হাসান ইমাম, চরমপত্র পাঠক এমআর আক্তার মুকুল এই সমাবেশে যোগ দেন। সমাবেশে সভাপতিত্বে করেন বৃহত্তর যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রয়াত রওশন আলী আরা সভাটি পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ এর রাজনৈতিক সচিব আলী তারেক।
যশোরের মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেন এলএলবি, খান টিপু সুলতান, ভমিসেন, খুরশীদ আনোয়ার বাবলুসহ অনেক মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন মঞ্চে। অন্ষ্ঠুান শুরুতে অভিনেতা হাসান ইমাম এর নেতৃত্বে পরিবেশিত হয় জাতীয় সঙ্গীত ’আমার সোনার বাংলা.. আমি তোমায় ভালোবাসি’। সমাবেশের আগের দিন এবং সেদিন সকালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ওলিউল উল ইসলামের ব্যবস্থাপনায় বের হয় প্রচার মাইক। মুক্তিযোদ্ধা ভীমসেন, খুরশীদ আনোয়ার বাবলু ও রওশন আলীর ছেলে আবু সেলিম রানা এই প্রচারনায় অংশ নেন।
মুক্ত স্বদেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত প্রথম এ জনসভার খবর সংগ্রহের জন্য উপস্থিত ছিলেন লন্ডনের ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকার সাংবাদিক পিটার গিল, নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকার সিডনি এস এইচ সানবার্গ, বালটিমোর সান পত্রিকার প্রতিনিধি, ওয়াশিংটন পোস্ট’র প্রতিনিধিসহ বহু বিদেশি সাংবাদিক।৭ ডিসেম্বর ভোর রাতে ৮ নং সেক্টরের অধিনায়ক মেজর মঞ্জুর মিত্র বাহিনীর নবম ডিভিশনের কমান্ডার মেজর জেনারেল দলবীর সিং যশোরে প্রবেশ করেন। এ বিষয়ে যুদ্ধকালীন বৃহত্তর যশোরের মুজিব বাহিনীর উপপ্রধান মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম বলেন ২ সহস্রাধিক লোকের ওই সমাবেশে আমি নিজেও উপস্থিত ছিলাম। তিনি বলেন এই দিনটি জাতীয় জীবনের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ। রবিউল আলম বলেন, ৭১ এর ৬ ডিসেম্বরের পর মানুষ তখন গ্রাম থেকে শহরে আসতে শুরু করেছে । চারিদিকে বিজয়ের উল্লাস আর থেকে থেকে জয়বাংলা শ্লোগান এখনো কানে ভেসে আসছে। তিনি বলেন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবলমুক্ত বাংলাদেশের মাটিতে এই ১১ ডিসেম্বর প্রথম বিজয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় যশোর টাউন হল ময়দানে। শুধু যশোর নয় দেশবাসীর জন্যে দিন টি গৌরবের।
যশোর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার রাজেক আহমেদ বলেন ১১ ডিসেম্বরের সমাবেশ জাতীয় জীবনের একটি স্মরণীয় দিন। তিনি বলেন ঐ সমাবেশ আয়োজনের দায়িত্ব পালন করেছিলাম আমি।
এদিকে দিনটি স্মরণে সেই সমাবেশ স্থলে প্রশাসনের উদ্যোগে চিত্র প্রদশর্নী ও স্মৃতিচারণমূলক আলোচনসভার আয়োজন কারা হয়েছে।