মালিকানা জমি ফিরে পেতে চুড়ামনকাটি ও কাশিমপুরের কৃষকদের মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
যশোরে ভৈরব নদ সংলগ্ন বেদখল হওয়া জমি ফিরে পাওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছে কৃষকরা। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার দৌলতদিহি নদের পাড়ে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চুড়ানকাটি ও কাশিমপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের পাঁচ শতাধিক কৃষক অংশগ্রহণ করেন। কৃষকদের দাবি, নদ খননের সময় তাদের মালিকানাধীন চাষযোগ্য জমিতে তৈরিকৃত মাটির স্তুপের উপর পানি উন্নয়ন বোর্ডের রোপণকৃত বৃক্ষ অপসারণ করা হোক। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, চুড়ামনকাটি গ্রামের কৃষক কুদ্দুস সালাম, চাঁদ আলী, ইসলাম বিশ্বাস, খোজারহাটের কোবাদ আলী, সঞ্জয় দেবনাথ, ডহেরপাড়ার রাজু আহমেদ, দৌলদিহির আব্দুর রশিদ, রজব আলী, আব্দুস সোবহান, রহিম তরফদার, বিজয়নগরের শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
তারা বলেন সি.এস, এস.এ ও আর.এস রেকর্ডের বুনিয়াদে কাশিমপুর ও চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ভৈরব নদের দু’পাড়ের কিছু অংশের জমির মালিক তারা। ভৈরব নদ খননের পুর্বে এই সব জমিতে ধান, গম, ছোলা, খেসাড়ি, মুগ, মুসরি, আলুসহ বিভিন্ন আবাদ করতেন। কিন্তু নদী খননের সময় নদীর পাড়ের মাটি অনেক দূরে কৃষকদের মালিকানা জায়গায় রাখা হয়। এছাড়া নদীর পাড় হতে বিস্তার জায়গা নিয়ে মাটির স্তুপ করা রাখে কর্তৃপক্ষ। এই মাটির স্তূপ কোনো কোনো স্থানে নামমাত্র মাটি সমান করা হয়। খাল খননের পর ওই মালিকানা জমির দু’পাড় দিয়ে বৃক্ষরোপণ শুরু করে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ড। যার কারণে তাদের মালিকানা জমির একটি অংশ বেদখল হয়ে যায় । তাদের জমিতে চাষ করতে না পেরে অসহায় জীবনযাপন করছে বলে জানিয়েছেন। কৃষকরা আরো জানান, এর আগে গত ৬ নভেম্বর একই দাবিতে কৃষকরা প্রেসক্লাব যশোরের সামনে মানববন্ধন করে। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। কিন্তু এখনো কোনো ফলাফল পাননি তারা। পানি উন্নয়ন বোর্ড নদ খননের নামে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি দখলে নিয়ে বৃক্ষরোপণ অব্যাহত রেখেছে। এই ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের প্রকৌশলী তাওহিদুর রহমান জানান, স্কেচ অনুযায়ী নদ খননের পর মাটির স্তুপ তৈরি করে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। তবুও কৃষকদের দাবির পেক্ষিতে ফের নদের জমি মাপা হবে। যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ জানান,কৃষকদের স্মারকলিপি পাওয়ার পর মতামত জানার জন্য সেটি পানি উন্নয়ন বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে মতামত পাওয়ার পর কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।