বাংলাদেশের ভাগ্য নিয়ে যেন কেউ ছিনিমিনি খেলতে না পারে : প্রধানমন্ত্রী

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে কেউ যেন ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভবিষ্যতে আর এ দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে কেউ যেন ছিনিমিনি খেলতে না পারে সেই দায়িত্বটা বাংলাদেশের জনগণকে নিতে হবে। আমাদের তরুণ সমাজকে নিতে হবে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে।

“আমাদেরকে এটা চিন্তা করতে হবে… এই বাংলাদেশের মাটি, আমরা এখানে দেখি সেই মীরজাফর, মুস্তাক থেকে শুরু করে বেঈমানদের জন্ম বার বার হয়েছে। জিয়ার মতো খুনিরা বারবার এসেছে।”

জাতির পিতা যে স্বাধীন বাংলাদেশ দিয়ে গেছেন, সেই স্বাধীনতা সমুন্নত রেখে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় জানিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, “বিশ্বসভায় যেন বাংলাদেশ তার মর্যাদা নিয়ে চলতে পারে, তাহলেই শহীদদের আত্মত্যাগ, তাদের মহান অবদান- এটা চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের শেষ ভাগে এদেশের দোসরদের সহযোগিতায় পাক হানাদার বাহিনী হত্যা করেছিল হাজারো বুদ্ধিজীবীকে। সেই থেকে ১৪ ডিসেম্বর দিনটিকে জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে, পালন করে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঙালির কাছে পরাজয় মানতে হবে, বা মিত্র বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে- এটা পাকিস্তান কখনো ‘বরদাশত’ করতে পারেনি।

“কাজেই বাংলাদেশ যেন ভবিষ্যতে আর চলতে না পারে, তাই আমাদের দেশের শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, সংস্কৃতিসেবী, বুদ্ধিজীবী যারা ছিলেন… একটা রাষ্ট্র পরিচালনায় বা একটা সমাজকে গড়ে তুলতে যারা কাজ করেন, তাদেরকে তারা নিশ্চিহ্ন করে দিতে চেয়েছে।”

ছবি: ইয়াসিন কবির জয়

ছবি: ইয়াসিন কবির জয়
যে বুদ্ধিজীবীরা এদেশের মানুষের জন্য জীবন দিয়েছেন, এক সময় তাদের নামও যে মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, “সেটা তারা মুছে ফেলতে পারেনি। কারণ আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যায় না। আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যায় নাই। সেটাই প্রমাণ হয়েছে এখন বাংলাদেশে।”

শোষিত বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন সংগ্রামের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি তাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করার পর স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির অপপ্রচার চালানোর কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে জাতির পিতার নামও যে মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “সত্যকে কেউ কখনো একেবারে মুছে ফেলতে পারে না।‌ আজকে সেটা প্রমাণ হয়েছে। ইনশাল্লাহ ভবিষ্যতে কেউ পারবে না এটা মুছে ফেলতে।”

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খন্দকার মোশতাকের ক্ষমতা গ্রহণের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, “যারা বেঈমানি করায়, তারাও এই বেঈমানদের বিশ্বাস করে না। তারাও জানে বেঈমান বেঈমানই। কিনে ফেলেছে, তাদের দিয়ে কাজ সেরে ফেলেছে, আর দরকার কী? ছুড়ে ফেলে দিয়েছে আস্তাকুঁড়ে। মোশতাকের ভাগ্যেও ঠিক তাই হল, সে তিন মাসও পূর্ণ করতে পারেনি।”

আর জিয়াউর রহমান সেই খন্দকার মোশতাকের ‘সবচেয়ে বিশ্বস্ত’ ছিল মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “১৫ অগাস্ট হত্যাকাণ্ডের সাথে যদি জিয়া জড়িত না থাকবে, বা ষড়যন্ত্রের সাথে যদি জড়িত না থাকবে, বা তার শক্তিতেই যদি এই হত্যাকাণ্ড না ঘটাবে, তাহলে মোশতাক প্রেসিডেন্ট হয়ে জিয়াকে কেন সেনাপ্রধান বানাবে। এটাও একটা বড় ব্যাপার।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান ক্ষমতা নেওয়ার পর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃত করার পাশাপাশি জাতির পিতার শুরু করে যাওয়া যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়াও বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

“তাদের (যুদ্ধাপরাধী) মুক্ত করে দেওয়া, জাতির পিতার হত্যাকারীদের যেন বিচার না হয় সেজন্য ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে আইন হিসেবে পাস, জাতির পিতার খুনিদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দেওয়া হয়েছিল।

“যারা আমাদের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে তাদেরকে মন্ত্রী বানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছে। তাদেরকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। গোলাম আযম যে ফেরত এসেছিল, সে তো ফেরত এসেছিল পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে। ফেরত নিয়ে আসল কে? জিয়াউর রহমান। ”

সেই জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তাদের ছেলে তারেক রহমানের দুর্নীতিতে সাজা হওয়ার কথাও প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বলেন।

“একটা দেশের জন্য, মানুষের জন্য যাদের এতোটুকু দরদ নেই, এই দেশটা যে লাখো শহীদের রক্তের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে, এ বিষয়ে তাদের কোনো রকম কোনো সহানুভূতি ছিল না। পাকিস্তানের প্রতি তারা গভীর আনুগত্যই দেখিয়ে গেছে, তোষামোদি, চাটুকারিতা করে গেছে, করে যাচ্ছে এখনো।”

বিএনপি-জামায়াত ২০০১ সালে সরকার গঠনের পর দেশে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ‘সৃষ্টি করেছে’ এবং পরে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে ‘অগ্নিসন্ত্রাস শুরু করে’ বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “যার মধ্যে এতটুকু মনুষ্যত্ব থাকে, সে কি পারে জীবন্ত মানুষগুলোকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যা করতে? বাসে আগুন, ট্রেনে আগুন, লঞ্চে আগুন, গাড়িতে আগুন, সিএনজিতে আগুন… জীবন্ত মানুষকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে… এটাই নাকি খালেদা জিয়ার আন্দোলন ছিল। অর্থাৎ মানুষ হত্যা করা, মানুষ পোড়ানো… মানুষ খুন করা, গ্রেনেড হামলা করা।”

অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আব্দুল মতিন খসরু, আব্দুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, সুরকার আলতাফ মাহমুদের কন্যা শাওন মাহমুদসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও মহানগরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে।