যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে খাবার নিয়ে নয়ছয়

বিল্লাল হোসেন:
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রোগীদের খাবার সরবরাহে নয়ছয় বন্ধ করবে কে! অনিয়মের বিষয়ে হাসপাতাল জেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জোরালো আলোচনা, পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তাদের পরিদর্শনের পরও খাবার সরবরাহে অনিয়ম থেমে নেই। বরং পূর্বের তুলনায় এখন মাংশ ও মাছের টুকরো ছোট হয়েছে বলে খোদ হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী জানিয়েছেন।
গত কয়েকদিন হাসপাতালে অবস্থান করে দেখা গেছে, রোগীদের মাঝে ছোট সাইজের এক টুকরা মাছ ও সামান্য পরিমান ভাত বিতরণ করা হয়। রোগীর স্বজনরা লাইনে দাঁড়িয়ে ওই খাবার নিচ্ছেন। রোগীর স্বজন শাহনাজ পারভীন, তারা বেগম, রেজাউল ইসলাম, জানান, সরকারি এই হাসপাতালে রোগির জন্য কতটুকু পরিমাণে কি খাবার সরকারিভাবে সরবরাহের কথা তা জানেন না। যে খাবার দিচ্ছে তাই বাধ্য হয়ে নিচ্ছি। অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরেই হাসপাতালে নিম্নমানের খাবার বিতরণ করা হয়। এছাড়া রান্নার মান ভালো না। ফলে অনেকেই খাবার না নিয়ে বাইরে থেকে কিনে খান। হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহে ২ দিন সোমবার ও শুক্রবার দুই বেলা (দুপুর ও রাত) ভাতের সাথে খাশির মাংস ও ৫ দিন বড় সাইজের রুই মাছ সরবরাহ করার জন্য সরকারিভাবে নির্দেশনা রয়েছে। অথচ বাস্তবে দেখা গেছে, খাতা কলমের এই নিয়ম মানা হয় না। নিয়মিত পোল্ট্রি মুরগীর ৬০ থেকে ৭০ গ্রাম পরিমানে মাংস, ছোট সাইজের সিলভারকার্প ও মৃগেল মাছ দেয়া হয় । তবে মাসে ১ দিন রুই মাছ দেয়া হলেও পরিমানে খুব ছোট। সকালে নাস্তা বিতরণেও অনিয়মের কথা জানিয়েছেন রোগীরা। সকালে ২টি করে কলা, ১টি করে ডিম এবং একশ’ গ্রাম ওজনের পাউরুটি দেবার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু ১ টি কলা, ছোট সাইজের ডিম ও পাউরুটি দেয়া হয় রোগীদের। অথচ প্রতিদিন প্রতি রোগীর খাবার বাবদ সরকারিভাবে ১শ’ ২৫ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এদিকে, শিশু রোগীদের দুধ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের জন্য আলাদা খাবার দেয়ার নিয়ম থাকলেও মানা হচ্ছে না। সকল রোগীদের জন্য একই খাবার বিতরণ করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালে খাদ্য বিভাগের দায়িত্বে থাকা এক কর্মচারীর নেতৃত্বে মাছ মাংস তেল মসলা লুটপাট হয়ে যাচ্ছে। আর রোগীদের মাঝে সরবরাহ করা হচ্ছে নিম্নমানের খাবার। অনিয়মের বিষয়টি নিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জোরালোভাবে আলোচনা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সভাপতি পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য, কমিটির সদস্য জেলা প্রশাসক, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন প্রমুখ। সভায় অংশগ্রহণ করেন স্থানীয় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, চিকিৎসক ও কর্মকর্তা কর্মচারীরা। সেখানে হাসপাতালে রোগীদের মাঝে পরিমাণে কম ও নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা নিয়ে অনেকেই বক্তব্য রাখেন। এসময় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য রোগীদের সঠিক পরিমাণে উন্নত খাবার দেয়ার নির্দেশনা দেন। কিন্তু পরে আর মানা হয়নি। এদিকে, খাবার বিতরণে অনিয়মের বিষয়টি দৈনিক স্পন্দনে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এরপরেও থেমে থাকেনি অনিয়ম। গত ৩০ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) যশোরের কর্মকর্তারা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে নিম্নমানের খাবার বিতরণের সত্যতা পেয়েছিলেন। দুদক যশোরের উপপরিচালক আবদুল গাফ্ফারের নেতৃত্বে চার সদস্যর একটি টিম সেদিন হাসপাতাল পরিদর্শনে এসেছিলেন। ওই দিনই অনিয়মের বিষয়টি দুদকের ঢাকা অফিসে লিখিতভাবে জানিয়েছিলো যশোরের কর্মকর্তারা। ওই সময় খাবার সরবরাহকারীদের সতর্ক করলেও বিষয়টি কর্ণপাত করা হয়নি। এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু জানান, সংশ্লিষ্টদের বারবার নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে রোগীদের সঠিক পরিমাণে উন্নত খাবার পরিবেশনের জন্য।