আগামী শিশুর ডিজিটাল স্কুল

শিশুর বেড়ে ওঠার সময়টাকে আমরা সবসময় তুলনা করি নরম কাদামাটির সঙ্গে। নরম কাদামাটিকে যেমন যেকোনো আকৃতি দেয়া যায়, শিশুর মননও তেমনি। সে চারপাশে যা করতে দেখে, চলতে দেখে, বলতে দেখে সে অনুযায়ীই আপন মনে বেড়ে উঠে, গড়ে ওঠে। আর তাই, চার বা পাঁচ বছর বয়স হবার পরপরই শিশুকে স্কুলে ভর্তির ব্যাপারে বাবা-মায়ের চিন্তা শুরু হয়। কোন স্কুলে পড়াবেন, কীভাবে ভর্তি করাবেন, কেমন করে তাকে স্কুলে নেবেন ইত্যাদি খুঁটিনাটি বিষয় ভেবে তারপর শুরু করান শিশুর স্কুল জীবন ।

কখনও কি ভেবেছেন, শিশুকে ঠিক কীসের জন্য স্কুলে ভর্তি করাচ্ছেন? স্বাভাবিকভাবেই হয়তো বলবেন, পড়াশোনার জন্য। পড়ালেখা করে মানুষের মতো মানুষ হওয়ার জন্য। শিশু যেন তার নিজের জীবনটা গুছিয়ে নিয়ে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারে সেজন্য। একবারও কি ভেবেছেন, স্কুলে গিয়ে শিশু যা পড়ছে বা শিখছে, সেগুলো তার ভবিষ্যৎ জীবনটাকে সুন্দর ও সুনিশ্চিত করে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে কীনা? অনাগত সময়ের জন্য আমরা কি নতুন প্রজন্মকে প্রস্তুত করছি? আগামী দিনের ডিজিটাল বিশ্বের যোগ্য মানুষ হয়ে উঠতে হলে ঠিক কোন ধরনের শিক্ষা শিশুদের দেয়া দরকার? কীভাবে সেই প্রস্তুতিটা নিতে হবে? আমরা কী তা জানি? জ্বী, না। আপনার, আমার সন্তান পড়াশুনা শেষ করে বিজ্ঞানী, গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী, প্রশাসক, শিক্ষক, সৈনিক, বিচারক, রাজনীতিবিদ, কী হবে না হবে তা কেউ জানি না। তবে নিশ্চিত করে এটুকু জানি, শিশুর মনে নৈতিক মূল্যবোধের ভিত্তি তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি সৃজনশীলতার বীজ বপন করতে হবে। বর্তমান ডিজিটাল যুগের উপযোগী, পরিশ্রমী, দক্ষ, বুদ্ধিদীপ্ত মানব সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

আর তাই, নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তুলতে হবে। আগামী দিনে ডিজিটাল দুনিয়ায় বিপ্লব ঘটে যাবে। তথ্য-প্রযুক্তির বিপ্লব তথা হাইওয়ে থেকে সুপার হাইওয়েতে তথ্যের যাত্রার এ যুগে আগামী প্রজন্মকেও সঠিকভাবে গড়ে উঠতে হবে। আগামী দিনে শিশুর ভর্তির জন্য স্কুলের পেছনে ছুটতে হবে না। স্কুলই ছুটবে শিশুর পিছনে। সবচেয়ে যোগ্য ও উত্তম মেধাবী শিক্ষার্থী খুঁজে নিতে আজকের মতো অতো বেগ পেতে হবে না তখন। শিশুর নতুন ক্লাসে ভর্তি পরীক্ষার নামে গতানুগতিক পদ্ধতি আর থাকবে না। ইন্টারভিউ, ভাইভা বোর্ডের সামনে গিয়ে শিশুকে প্রমাণের কোনো ব্যাপার তখন থাকবে না। শিশু কী কী করতে পারবে, সেটার সাক্ষ্য দেবে অর্জিত ফলাফলের ডিজিটাল লিংক। শিশুর গুণাগুণ, পরিচয় জানিয়ে দেবে তার ডিজিটাল প্রোফাইল। যেটা তৈরি হবে, কী কী গুণাবলী সে সফলভাবে অর্জন করেছে তার উপর ভিত্তি করে। আগামীর পৃথিবীতে হাতের কাজ করবে যন্ত্র, কেবল মাথার কাজ করবে মানুষ। জ্বী, হ্যাঁ। শুনতে আজগুবি মনে হলেও ব্যাপারটা সত্যি। আপনার শিশু সেভাবে তৈরি হচ্ছে তো?

কিন্তু না। বর্তমান গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থায় স্কুলগুলোর শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল প্রসেসর মনে করে থাকেন। গৎবাঁধা মুখস্থ পড়াশোনা আর গাদা-গাদা পরীক্ষায় ভালো ফল করলেই কি শিশুরা তাদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে? শিশুরা যদি একের পর এক প্রশ্ন করতে না শেখে, চারপাশটাকে অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে দেখতে না শেখে, তাহলে তার এই চিন্তাশীল ব্যক্তিত্বটা তৈরি হবে কিভাবে? কারণ, গভীরভাবে চিন্তার সক্ষমতাই শিশুকে আগামীর পৃথিবীতে টিকে থাকার রসদ যোগাবে। আমাদের স্কুলগুলো কি শিশুকে একের পর এক ইচ্ছে মতো প্রশ্ন করতে শেখায়? শিশুর সামনে চিন্তার এক অবারিত জগতের দ্বার খুলে দেওয়া হয়? শিশুর চিন্তাশক্তিকে উন্নত করার লক্ষ্য নিয়ে কোনো স্কুলের সিলেবাস রচিত হয় কি? অবাক হলেও সত্যি- প্রযুক্তিতে উন্নত দেশে নতুন ধারার ডিজিটাল স্কুলগুলো শিশুদের ইচ্ছে মতো প্রশ্ন করতে শেখাচ্ছে। তারা শিক্ষার মানোন্নয়ন ঘটাচ্ছে ডিজিটাল মাধ্যমে। যদিও অনেক স্কুলই এখনো উপলব্ধি করতে পারেনি এই নতুন ধারার ডিজিটাল স্কুলের প্রয়োজনীয়তা। তবুও শিশুর চিন্তাশক্তিকে উন্নত করার লক্ষ্য নিয়ে ইতোমধ্যে সঠিক পথে পা বাড়িয়েছে চীন, জাপান, সুইডেন, নরওয়ে, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যুক্তরাষ্ট্রের মিডল স্কুল, জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি, ওয়াশিংটন ডিসি স্কুল, মন্টানা স্টেট ইউনিভার্সিটি ইত্যাদির কথা। নতুন ধারার এসব স্কুলে শিক্ষার্থীরা তাদের অ্যান্ড্রয়েড গেজেটকে- পেন্সিল, বই-খাতার মতো সমানতালে ব্যবহার শুরু করেছে। কারণ নতুন ধারাটা হলো ‘অডিও ভিজুয়াল প্রেজেন্টেশন’ বা এভিপি নির্ভর শিক্ষাদান। এটা অনলাইন মাল্টিমিডিয়া, ইন্টারঅ্যাক্টিভ হোয়াইটবোর্ডের সমন্বয়ে সরাসরি শিশুকে সম্পৃক্ত করে পাঠদানের আধুনিক প্রযুক্তিগত এক নতুন কৌশল।

উন্নত দেশে স্কুলের প্রতিটা শ্রেণিকক্ষেই এখন ইন্টারঅ্যাক্টিভ হোয়াইটবোর্ড ব্যবহার করা হচ্ছে। যা শিক্ষার জন্য অতি চমৎকার ও কার্যকর প্রযুক্তিগত দরকারি হাতিয়ার। তাই লেখাপড়া আর কষ্টকর কাজ নয়, লেখাপড়া আজ হয়ে উঠেছে মজার খেলাপড়া। শিশুরা ম্যাজিকের মতো বিজ্ঞান-প্রযুক্তির নতুন নতুন উদ্ভাবন, কাজ-কর্ম স্বচক্ষে দেখে জাদুর মতো ব্যাপক আকৃষ্ট হচ্ছে। শুধু কি তাই? এই হোয়াইটবোর্ডে বিভিন্ন রঙ ব্যবহার করা যায়। ব্ল্যাকবোর্ডের মতো যখন তখন মুছেও ফেলা যায়। মুছতে বা লিখতে কোনো খরচ লাগে না। জামা-কাপড়ে কালি রঙ লাগার কোনো ভয় নেই। শিশুরা যখন-তখন, যেমন খুশি রঙিন স্টিকার বানাতে পারছে। আরও মজার ব্যাপার হলো, শিক্ষক যখন ব্যাকরণ পড়ান কিংবা গানের ক্লাস নেন তখনকার ক্লাসরুমের পরিবেশ আর বিজ্ঞানের ক্লাসরুমের পরিবেশগত পরিবর্তন ম্যাজিকের মত অটোমেটিক ঘটে যায়। যখন-তখন ক্লাসে বিষয়ভিত্তিক নান্দনিক আবহ সজ্জিত হয়ে উঠে পরবর্তী ক্লাসরুম। এই ডিজিটাল আবহ শিশুদের আনন্দময় শেখার স্বপ্নময় পরিবেশ সৃষ্টি করছে। শিশুরা এতে আরও বেশি সৃজনশীল হতে পারছে। আর শিক্ষার্থীরা দরকারে নিজেদের অ্যান্ড্রয়েড গেজেটে কপি করে নিয়ে বাসায় আনন্দময় শিক্ষা চর্চার সুযোগ পাচ্ছে। শিশুরা এতে গল্প শিখতে পারছে। তাদের নিজেদের বই প্রিন্ট করতে পারছে এবং গণিত, প্রজেক্ট, গ্রাফিক্স, আর্ট, স্প্রেডশিট বা এ জাতীয় সকল প্রোগ্রাম ব্যবহার করতে পারছে। যুক্তরাজ্যের বেশকিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাসরুম নেটওয়ার্কিংয়ের সাহায্যে ইন্টারনেট বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ব্যবহৃত হচ্ছে। যা ক্লাসরুমের দেয়ালকে অতিক্রম করে ক্লাসের পরিধিকে দুরবর্তী দেশ পর্যন্ত প্রসারিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু এলাকায় ভয়েস মেইল সিস্টেম স্থাপিত হয়েছে। যার সাহায্যে অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুলের প্রতিদিনের হোমওয়ার্ক বা অন্যান্য ঘোষণা জেনে নিতে পারছেন। এমনকি শিশুরা দরকারে বিছানায় শুয়েও ক্লাশে অংশ নিতে পারছে। শিশুরা বাড়ির কাজের জন্য বা ব্যক্তিগত পড়াশুনার জন্যে স্কুলের ইলেকট্রনিক্স রিসোর্স ব্যবহার করতে পারছে। শিক্ষা পদ্ধতি এমন দারুণ মজার হলে আর কি চাই?

শুধু কি তাই? শিক্ষকরা কোন দিন, কোন ক্লাসে কি পড়াবেন? গতানুগতিক নিয়মে সাধারণত ক্লাসে যাবার আগে শিক্ষকরা এসব পরিকল্পনা করে রাখেন। এই পরিকল্পনা সাজাতে গিয়ে সিনিয়র শিক্ষকদেরও হিমশিম খেতে হয়। এ কাজে লম্বা সময় ব্যয় হয়ে যায়। অথচ এসবে মিছেমিছি সময় ব্যয় করার সময় এখন কারও নেই। কারণ? এই হোয়াইটবোর্ড সব অটোমেটিক করে দিচ্ছে। এই বোর্ডে আইডিয়া উপস্থাপন করা খুবই সহজ। শিক্ষকরা দরকার মতো শিক্ষার্থীদের কাজ, প্রজেক্ট, পোস্টার, হোমওয়ার্ক, রেজাল্টশিট, খাতার নম্বর সব কিছু আপডেট রাখতে পারছেন। এ ব্যাপারে স্কুলের জনৈক অধ্যক্ষের খোলা মত: ‘সব সিস্টেমেই ভালো মন্দ দু’টো দিক রয়েছে। তবে শিক্ষকদের কর্মক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব জগৎ থাকা দরকার। তাই আলাদা থিয়েটার রুমের মতো ক্লাসরুম তৈরি করা হয়েছে। যেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী স্বচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। পাশাপাশি তাদের ক্লাসের জন্য যাবতীয় জিনিস এই হোয়াইটবোর্ডে সজ্জিত করে রেখে দেয়া হয়েছে।’

তবে হ্যাঁ। শুধু গতানুগতিক পড়াশোনাই কেবল তথ্য আহরণের একমাত্র উপায় হতে পারে না। অন্যান্য উল্লেখ্যযোগ্য প্রচেষ্টার ন্যায় শিক্ষা প্রযুক্তির ব্যাপারেও কিছু ত্রুটি রয়েছে। সমাজবিজ্ঞানী ও গবেষকরা বলছেন: ‘স্কুলে সফটওয়্যারের এমন ব্যবহারের মাধ্যমে সুযোগপ্রাপ্ত ও বঞ্চিত দু’টো ধারার সৃষ্টি হবে। যাদের মধ্যে থাকবে ব্যাপক তথ্য গ্যাপ। একদিকে থাকবে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ স্কুল। আর অন্যদিকে থাকবে প্রত্যন্ত অঞ্চল, গ্রাম বা শহরতলীর বঞ্চিত স্কুলগুলো।’ তবে এসব ত্রুটি সম্বন্ধে সচেতন শিক্ষা প্রযুক্তিবিদরা বসে নেই। তারা আগামী দিনের স্কুল শিক্ষা নিয়ে আরও বড় স্বপ্ন দেখছেন। এদেরই একজন এমআইটির মিডিয়া ল্যাবের শিক্ষা গবেষণার ফেলো প্রফেসর এস প্যাপার্ট এমন দিনের স্বপ্ন দেখছেন, যখন শিশুরা জ্ঞান মেশিন ব্যবহার করতে পারবে। এই মেশিন ব্যবহারকারী শিশুদের পছন্দমাফিক বিষয় নাড়াচাড়া করার সুযোগ দেবে আর এখানে শিশুদের স্কুল পাঠাগারের সীমিত পরিসরের কোনো বাধা থাকবে না। তিনি মনে করেন, সিডি রম প্রোগ্রাম বা ইন্টারঅ্যাক্টিভ ভিডিও হলো এই জ্ঞান মেশিনের প্রাথমিক ধাপ। মূল বিষয়টা হলো ইন্টারঅ্যাক্টিভিটি। ব্যাবহারকারীরা একটা অদ্বিতীয় উপায়ে তথ্য নাড়াচাড়া করতে পারে। কোনো শব্দ বা শব্দসমষ্টি মাউসের সাহায্যে ক্লিক করে। এমন ধরণের ভিডিও অডিও, স্পর্শ বা গন্ধও শিক্ষা প্রক্রিয়ার বিপ্লব ঘটাবে। এসব স্বপ্নের মাঝে শিক্ষকদের মনে একটা প্রশ্নের উদ্রেক হতে পারে যে, তারা কি বেকার হয়ে পড়বেন? এর পরিস্কার উত্তর- জ্বী, না। শিক্ষকরা বেকার হবেন না। কম্পিউটারেরও শিক্ষকের প্রয়োজন। সুতরাং এমন দিন দূরে নয়, যখন স্কুলে স্কুলে কম্পিউটার হবে শিক্ষার্থীদের জন্য তথ্য আহরণের গেটওয়ে। উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের প্রত্যক্ষদর্শী আর নিষিদ্ধ কোচিং ও প্রাইভেট পড়ানোর মাধ্যমে অতিরিক্ত উপার্জনে আগ্রহী পরিশ্রমকারী শিক্ষকদের প্রিয় বন্ধু।

বর্তমান বিশ্বে আধুনিক প্রযুক্তির দুরন্ত অগ্রযাত্রা চলছে। আমাদের জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে নানান নামে অ্যান্ড্রয়েড-কম্পিউটার অনুপ্রবেশ করেছে বহুবিধ সফটওয়্যারসহ। অথচ আমাদের সামাজিক অবকাঠামোর মূল ভিত্তি স্কুলগুলোতে তা অবহেলিতই রয়ে গেছে। এক্ষত্রে যেসব প্রচেষ্টা সাধিত হয়েছে, তা কেবল কম্পিউটার ল্যাবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আর তা শিশু ও তরুণ শিক্ষার্থীদের তাদের সত্যিকার শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা থেকেই পৃথক করে রেখেছে। এ বিষয়টা খুব অল্পই অনুভূত হয়েছে যে, স্কুলে কম্পিউটারের প্রকৃত সুফল পেতে হলে কম্পিউটারকে ল্যাংগুয়েজ ল্যাবের হেডফোন বা টেপরেকর্ডার কিংবা ফিজিক্স ল্যাবের অ্যাস্ট্র্যোনমিক্যাল টেলিস্কোপের ন্যায় সহকারী যন্ত্র হিসেবে তুলনা করলে চলবে না। সুতরাং আগামী দিনের নাগরিকদের জীবনের প্রারম্ভিক মুহূর্তে কম্পিউটারের র্নিবুদ্ধিতামূলক ব্যবহারের কারণ কি? এটা কি এক্সপার্টদের অভাবে হচ্ছে? বেশিরভাগ উন্নয়নশীল দেশে অর্থের অভাবে বা শিক্ষকদের অপ্রতুল প্রশিক্ষণের কারণে কিংবা শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের অমনোযোগিতা এক্ষেত্রে বড় বাধা। সম্ভবত দু’টো কারণেই হচ্ছে।

আমাদের দেশের বর্তমান ক্ষুদে নাগরিকরা যেন মেধা, মনন যুক্ত করে নতুন নতুন উদ্ভাবনী কাজে নিয়োজিত হতে পারে। ব্যাপকভাবে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বর্তমান প্রজন্ম যেন বদলে দিতে পারে আগামীর বাংলাদেশ। সেই প্রত্যাশা ও প্রচেষ্টায় সুন্দর জনবান্ধব আগামী প্রজন্ম তৈরির লক্ষ্যে দৃঢ়ভাবে কাজ করছে বর্তমান সরকার। বড়ই আশার কথা, বাংলাদেশের সকল প্রাথমিক স্কুলে অচিরেই কম্পিউটার ল্যাব ও ল্যাংগুয়েজ ক্লাব তৈরি হতে যাচ্ছে। যাতে থাকবে ইংরেজি ভাষা চর্চার সুযোগ। এ লক্ষ্যে সারাদেশের ৫০৯ টি উপজেলায় কম্পিউটার ল্যাব ও ল্যাংগুয়েজ ক্লাব স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পড়ালেখার পাশাপাশি এখন থেকে উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে একদিন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও ইংরেজি ভাষা চর্চার সুযোগ পাবে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে কম্পিউটার শেখার সুযোগ মিলবে। প্রাথমিক শিক্ষার বয়সেই নানাবিধ উদ্ভাবন, বিজ্ঞান প্রকল্প তৈরির মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে বদলে যাবে অনেকের আগামী ভাগ্য। বাড়বে সচেতনতা। দূর হবে জনদুর্ভোগ। তৈরি হবে সুশাসন। ডিজিটাল কর্মচঞ্চলতায় মুখরিত হবে আগামীর উন্নত বাংলাদেশ ।

লেখক : শেখ আনোয়ার ইভাল্যুয়েশন অ্যান্ড ডকুমেন্টেশন অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট-এ (বিআইবিএম)। গবেষক, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।