বাবা ‘রাজাকার’ বলে তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ফখরুল : খালিদ

কাজী মোবারক হোসেন, দিনাজপুর থেকে :

রাজাকারের তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কঠোর সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, “মির্জা ফখরুল ইসলামের বাবা ক্যুখাত রাজাকার ছিলেন বলেই রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ করে বিএনপিকে হেনস্তা করার কথা বলছেন তিনি।”

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় রোববার প্রথম দফায় একাত্তরে রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস বাহিনীর বেতনভোগী ১০ হাজার ৭৮৯ জন স্বাধীনতাবিরোধীর তালিকা প্রকাশ করে। মুক্তিযোদ্ধারা বিজয় দিবসের প্রাক্কালে এই তালিকা প্রকাশে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও এর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম।

স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরে কেন এই তালিকা প্রকাশের প্রয়োজন পড়ল সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেছেন, “এটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে।”

মঙ্গলবার দুপুরে দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে ফখরুলের ওই বক্তব্যের জবাব দেন ক্ষমতাসীন দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, “আমরা যখন বিজয়ের ঊষালগ্নে শহীদ স্মৃতিসৌধে ৩০ লক্ষ শহীদদের শ্রদ্ধা জানাচ্ছি তখন আমরা দেখতে পাচ্ছি এই অপরাধী আর জঙ্গিবাদের আশ্রয়দাতা ওরা কী কথা বলছে। ওই মির্জা ফখরুল বলেছে, এই রাজাকারের তালিকা নাকি বিএনপিকে হেনস্তা, পর্যদুস্ত করার জন্য করা হয়েছে।

“তাহলে কি মির্জা ফখরুল আপনি মেনে নিলেন আজকের বিএনপি রাজাকার দ্বারাই পরিচালিত হয়? তবে এটাও সত্য, মির্জা ফখরুল আপনি মির্জা রুহুল আমিনের সন্তান, মির্জা রুহুল আমিন ঠাকুরগাঁওয়ের কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী ছিলেন, তার রক্তের উত্তরাধিকার আপনি। আপনার মুখে তো রাজাকারদের পক্ষে কথা বের হবেই, এটাই স্বাভাবিক। কারণ এখনও আপনি বিএনপির মহাসচিব।”

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ফাইল ছবি

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ফাইল ছবি
দিনাজপুরের সাংসদ খালিদ মাহমুদের পাশের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাড়ি।

৪৮ বছর পরে রাজাকারের তালিকা কেন: ফখরুল

বিএনপি প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই ‘রাজাকারদের পৃষ্ঠপোষকতা’ করছে বলে অভিযোগ করেন খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, “বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান শাহ আজিজ, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, আব্দুল আলীমদের মন্ত্রী বানিয়েছেন। আপনার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজামী, মুজাহিদকেও মন্ত্রিত্ব দিয়েছিলেন, আপনি এই লাইনে কথা বলবেন এটাই স্বাভাবিক।”

মুক্তিযুদ্ধের এই বাংলাদেশে স্বাধীনতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধীদের ঠাঁই হবে না মন্তব্য করে এই আওয়ামী লীগে নেতা বলেন, “আমাদের পূর্বসূরিরা জীবন দিয়ে আমাদের জন্য রাষ্ট্র তৈরি করে গেছেন। আমরা তাদের কাছে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, জীবন দিয়ে হলেও আমরা সেই ঋণ শোধ করব।

“বঙ্গবন্ধুর রক্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলতে চাই, এই বাংলাদেশে কোথাও যুদ্ধাপরাধীদের জায়গা হবে না। বাংলাদেশের কোথাও তারা রাজনীতি করার সুযোগ পাবে না। বাংলাদেশের মানুষ তাদের গ্রহণ করবে না।”

ধারাবাহিকভবে সব স্বাধীনতাবিরোধীর তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানান নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

বোচাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু সৈয়দ হোসেনের সভাপতিত্বে দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুকউজ্জামান চৌধুরী মাইকেল, মির্জা আশফাক, সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইমাম চৌধুরী, বোচাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফসার আলী বক্তব্য রাখেন।