মণিরামপুর বিএনপির কোন্দল দেখা গেল বিজয় দিবসেও

মণিরামপুর প্রতিনিধি:
মণিরামপুর বিএনপির দীর্ঘদিনের কোন্দল ও চাঁপা ক্ষোভ প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে বিজয় দিবসে। দু’গ্রপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, হামলা-ভাংচুর এবং দফায় দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় গ্রুপের অন্তত ১০ নেতা-কর্মী আহত হয়। সোমবার সকালে বিজয় দিবসে স্থানীয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ দু’পক্ষকে ধাওয়া দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় উভয় গ্রুপের দায়িত্বশীল নেতারা একে অপরকে দোষারোপ করে পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ তুলেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ৯ টার দিকে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. মুছা নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে পৌর শহরের দক্ষিণ মাথায় তাদের অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের পাশে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর একই শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসেন বর্তমান উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র অ্যাড. শহীদ ইকবাল হোসেন । শহীদ ইকবাল হোসেনের অভিযোগ শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে ফেরার সময় অপরপক্ষের কর্মী মাসুদ হোসেন বিএনপি’র সভাপতি খায়রুল ইসলামের উপর চড়াও হয়। এরপর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিকেলে সাবেক ছাত্রদল নেতা মিকাইল হোসেন দলীয় কর্মীদের হামলায় মারপিটের শিকার হয়। বিএনপি’র দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের সময় আশপাশের দোকান-পাট বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি পথচারীরা দিক-বিদিক ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। সাবেক সভাপতি মোঃ মুছা দাবি করেছেন তাদের সংক্ষিপ্ত সমাবেশ চলাকালে শহীদ ইকবালের লোকজন অতর্কিতভাবে তাদের উপর কয়েক দফা হামলা চালিয়ে তার পক্ষের বিএনপি নেতা শামছুজ্জামান শান্তকে মারপিট ও যুবদল কর্মী ইজাজুলকে রক্তাক্ত জখমসহ আরও অনেককে লাঞ্চিত করে। এছাড়া শহীদ ইকবাল পক্ষের হামলাকারীরা ইট পাটকেলসহ তার বাসভবনে হামলা চালিয়ে রাস্তার পাশে থাকা ৮/১০ মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। একই সময় তার বাসভবনের সামনে কয়েকটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হামলা চালিয়ে পৌর শহরের উত্তর মাথায় গিয়ে পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসাইনের কম্পিউটারের দোকান ভাঙচুর করেছে। ঘটনার পর থেকে উভয় গ্রুপের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনা জানার পর দুই গ্রুপকে ধাওয়া করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। উক্ত সংঘর্ষের ঘটনায় কোন পক্ষ মামলা দায়ের করেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনও পর্যন্ত থানায় কেউ এজাহার দায়ের করেনি। করলে উভয় পক্ষের মামলা গ্রহণ করা হবে।