ঝাড়খণ্ডে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পথে বিজেপি

নিউজ ডেস্ক : ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে যাচ্ছে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

এর আগে ২০১৪ সালে আঞ্চলিক দল অল ঝাড়খণ্ড স্টুডেন্ট ইউনিয়নের (এজেএসইউ) সঙ্গে জোট বেঁধে রাজ্য বিধানসভার ৮১টি আসনের মধ্যে ৪২টিতে জয় পেয়েছিল বিজেপি; যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসনের চেয়ে একটি বেশি ছিল।

কিন্তু এবার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস ও এর আঞ্চলিক মিত্র ঝাড়খন্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম) কাছে বিজেপি পরাজিত হতে যাচ্ছে, এটিই প্রায় স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এজেএসইউ এবার আলাদাভাবে নির্বাচন করেছে।

এনডিটিভি প্রদর্শিত সর্বশেষ ফলাফলে দেখা গেছে, কংগ্রেস ও জেএমএমের জোট ৪১টি আসনে এগিয়ে আছে আর বিজেপি এগিয়ে ৩০টি আসনে।

বুথ ফেরত অন্তত তিনটি জরিপে ঝাড়খন্ডে কংগ্রেস-জেএমএম-রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) জোট জয় পেতে যাচ্ছে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে।

৩০ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ ধাপে ঝাড়খণ্ড বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হয়।

এর মধ্যে তিনটি ধাপের ভোট বিজেপি সরকারের নতুন নাগরিকত্ব আইন নিয়ে দেশজুড়ে প্রতিবাদের মধ্যেই গ্রহণ করা হয়। নাগরিকত্ব আইনটিকে মুসলিম বিরোধী বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ আইন নিয়ে চলা প্রতিবাদ-বিক্ষোভে সহিংসতায় ১০ দিনে ভারতজুড়ে ২০ জনের বেশি লোকের মৃত্যু হয়েছে।

ঝাড়খণ্ডের বিধানসভা নির্বাচনে স্থানীয় ইস্যুগুলো প্রাধান্য পেলেও এখানে বিজেপির পরাজয় হলে তাকে দলটির নীতিগত পরাজয় বলেই বিবেচনা করা হবে। তাই এ নির্বাচনের ফলের দিকে তাকিয়ে আছে পুরো দেশ।

এই নির্বাচনের ফলাফল বিজেপির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গত বছর দলটি রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়ের বিধানসভার নির্বাচনে কংগ্রেসের কাছে পরাজিত হয়েছে।

চলতি বছর মহারাষ্ট্রে মিত্র শিব সেনার সঙ্গে ক্ষমতা নিয়ে বিরোধে রাজ্যটি তাদের হাতছাড়া হয়ে গেছে। ঝাড়খন্ডে পরাজিত হলে ভারতের কেন্দ্রস্থলীয় আরেকটি রাজ্য বিজেপির প্রভাববলয় থেকে ছিটকে পড়বে।