গাইড বাণিজ্যে মণিরামপুরে এগিয়ে পাঞ্জেরী

# ৪০টি স্কুলের জন্য কমিশন ২৫ লাখ টাকা!
সমুদ্র হক:
বরাবরের মত প্রতিযোগিতায় নেমেছেন গাইড বই প্রকাশনীগুলো। মণিরামপুরে অনুপম, লেকচার, জননী এবং পাঞ্জেরী প্রকাশনীর প্রতিনিধিরা ছুটছেন শিক্ষক সমিতি এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানদের দ্বারে দ্বারে। তবে পাঞ্জেরী প্রকাশনী স্কুল দখলে এগিয়ে রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে।
মণিরামপুর উপজেলায় ১২০টি মাধ্যমিক এবং নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় কয়েকটি সমিতিভুক্ত। এরমধ্যে রাজগঞ্জ আঞ্চলিক শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সদস্য সংখ্যা বেশি। ৪০টি প্রতিষ্ঠান এ সমিতিভুক্ত। গত বছর এ সমিতি জননী প্রকাশনীর নোট গাইড শিক্ষার্থীদের কিনতে বাধ্য করেছিল। এ বছর পাঞ্জেরী প্রকাশনীর সাথে ২৫ লাখ টাকার মৌখিক চুক্তি হচ্ছে বলে জানা গেছে। অবশ্য শেষ পর্যন্ত বাণিজ্যে যারা এড়িয়ে থাকবে সেই প্রকাশনীর বই শিক্ষার্থীদের কিনতে বাধ্য করবে সমিতি। সমিতির নেতা মাসুদ কামাল তুষার জানিয়েছেন, পাঞ্জেরী কোম্পানীর সাথে মোটামুটি কথা হয়েছে। তারা ১৫ লাখ টাকা দিতে চাচ্ছেন।
এ সংগঠনের সিনিয়র নেতা কোমলপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খোরশেদ আলম জানান, পাঞ্জেরীর সাথে কথা হয়েছে। তবে কত টাকা দেবে তা তুষারই বলতে পারেন। আমি হজ করে আসার পরে ওই সব লেনদেনে জড়িত থাকছি না। তুষারসহ অন্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজগঞ্জ আঞ্চলিক সমিতি ছাড়াও মণিরামপুরে বোয়ালিয়াঘাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ সদরের লাগুয়া ২০টি প্রতিষ্ঠান চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন পাঞ্জেরী প্রকাশনীর সাথে। বোয়ালিয়াঘাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস জানিয়েছেন, পাঞ্জেরীর সাথে কথা হয়েছে। তবে আমার নয়, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাজ্জাদ আলমের সাথে। কিভাবে কত টাকা চুক্তি হয়েছে সে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি প্রধান শিক্ষক। এ কোম্পানীর মণিরামপুর প্রতিনিধি আলাউদ্দীন জানিয়েছেন, রাজগঞ্জ সমিতিসহ উপজেলার কতটি প্রতিষ্ঠানের সাথে কথা হয়েছে, কাদের সাথে চুক্তি হয়েছে তা বলতে পারবেন কোম্পানীর যশোর জেনারেল ম্যানেজার আমির হোসেন। মুঠোফোনে আমির হোসেন জানান, অন্যান্য কোম্পানীরা যে ভাবে চলছে আমরাও চেষ্টা করে যাচ্ছি। পাঞ্জেরী প্রকাশনী বই গুণগত ভাল থাকায় শিক্ষকরা পছন্দ করছেন। লেকচার প্রকাশনীর এ উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি বাপ্পা কুমার বসু জানান, নাগরঘোপ সমিতি, কুশখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ ৩০টি প্রতিষ্ঠানের সাথে তাদের চুক্তি হয়েছে। এ প্রকাশনী থেকে বই চালাতে প্রতি শিক্ষার্থীর বিপরীতে ২শ’ টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জানিয়েছেন, কুশখালী এবং নাগরঘোপের প্রতিনিধির সাথে লেকচার কোম্পানীর প্রতিনিধি বাপ্পা কুমার বসুর সাথে গত রোববার চূড়ান্ত আলোচনা হয়েছে। লেকচার প্রকাশনী এ উপজেলার ৩০টি প্রতিষ্ঠান দখলে রাখতে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। তবে চলতি ডিসেম্বরের মধ্যেই চুক্তির টাকা পরিশোধ করলে এসব প্রকাশনীর বই চালাবেন শিক্ষকরা। জননী প্রকাশনী কুয়াদা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, ছিলুমপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়সহ ২০টি প্রতিষ্ঠানের সাথে মৌখিক চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। কোম্পানীর স্থানীয় প্রতিনিধি আসাদ বিশ্বাস এ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের সাথে কথা বলে যাচ্ছেন। কুয়াদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহি উদ্দীন জানিয়েছেন, জননীর সাথে কথা হয়েছে, তবে সেটি এখনো চূড়ান্ত না। কত টাকায় চুক্তি হচ্ছে এমন প্রশ্ন করলে প্রধান শিক্ষক মহি উদ্দীন তার সঠিক জবাব না দিয়ে তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ওদিকে সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ডিসেম্বর শেষ নাগাদ বই নেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে। অনুপম প্রকাশনীর স্থানীয় প্রতিনিধি ইমরান আলী দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছেন। কতটা প্রতিষ্ঠানে এবার তার প্রকাশনীর বই দিতে পারবেন সে ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছুই জানাতে পারেননি তিনি। নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে এ বছর উপজেলার ১২০টি মাধ্যমিক-নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা রয়েছে ২৯ হাজার ৫শ’। এরমধ্যে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ৮ হাজার,৭ম শ্রেণিতে ৭ হাজার ৫শ’, ৮ম শ্রেণিতে ৭ হাজার এবং ৯ম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী রয়েছে ৭ হাজার। বৃহত এ উপজেলায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি থাকায় বিভিন্ন প্রকাশনীর প্রতিনিধিরা বাজারে টিকে থাকতে ডোনেশনের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ শরিফী জানান, এ ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে গতবারও চেষ্টা করেছি ব্যবসা ভিত্তিক অবস্থান থেকে সরাতে। জেলার দায়িত্ব প্রাপ্তদের সাথে কথাও বলেছি। তবে তার কোনো ভাল ফল পাইনি। এবছর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সাথে কথা বলে চেষ্টা করবো বন্ধ করার জন্য। তাতেও না হলে এ ধরনের ব্যবসা বন্ধ করতে যা করণীয় সেটাই করা হবে।