মায়ের দোয়ায় অপচিকিৎসা

পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম নিজেই ডাক্তার !
বিল্লাল হোসেন:
৪ বছর আগে লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হলেও যশোরের চৌগাছায় মায়ের দোয়া প্রাইভেট হাসপাতালে কার্যক্রম চলছে। অবৈধ এই স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম নিজেই ডাক্তার সেজে রোগীর ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন। বিগত দিনে মায়ের দোয়া হাসপাতালে অপচিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ডিপ্লোমাধারী সেবিকা, টেকনোলজিস্ট কিছু নেই এখানে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় নানা অনিয়মের মধ্যে অপচিকিৎসা চলে আসছে মায়ের দোয়া হাসপাতালে।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মায়ের দোয়া প্রাইভেট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পায়। যার নিবন্ধন নম্বর ২৮১৭। ৪ বছর আগে লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি অবৈধ তালিকায় স্থান পেয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানে ১০টি শয্যা বসানোর কথা থাকলেও বসানো হয়েছে ২৫টি। কেবিন রয়েছে আরো তিনটি। এখানে জরুরি বিভাগসহ অন্য বিভাগেও সার্বক্ষণিকভাবে কোনো চিকিৎসক থাকেন না। জটিল প্রয়োজনের সময় চিকিৎসক ভাড়া করে আনা হয়। বাকি সময়গুলোতে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিয়ে থাকেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক জাহাঙ্গীর। তিনি চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রোগীদের সাথে প্রতারণা করছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের নীতিমালা অনুযায়ী ঝুঁকিমুক্ত অপারেশন থিয়েটার, চিকিৎসার জন্য যন্ত্রপাতি, ওষুধ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরি, পরিবেশ অধিদপ্তরের সার্টিফিকেট নেই। এখানে প্যাথলজি পরীক্ষা নিরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করে প্রতারণা করা হচ্ছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদানের নামে অর্থবাণিজ্যে লিপ্ত রয়েছে মালিক পক্ষ। সূত্র জানায়, বিগত দিনে এই হাসপাতালে অপচিকিৎসায় সুফিয়া খাতুন (৪৫) নামে এক রোগী মারা যান। তিনি চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের পলুয়া গ্রামের শফিউদ্দিনের স্ত্রী। জরায়ুর সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে মায়ের দোয়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। অপারেশনের পর অপচিকিৎসায় তিনি মারা যান। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মায়ের দোয়া হাসপাতালে উন্নত কোনো চিকিৎসাসেবা নেই। জরুরি মুহূর্তে চিকিৎসক খুঁজে পাওয়া যায় না। অর্থ আদায় করাই এদের মূল ধান্দা। রাতের বেলায় অনভিজ্ঞ সেবিকারা এখানে ডাক্তারের ভূমিকায় দায়িত্ব পালন করে থাকেন। মুঠোফোন কথা হলে মায়ের দোয়া হাসপাতালের পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিনি ডিপ্লোমা কোর্স করেছেন। যে কারণে রোগীদের ব্যবস্থা পত্র দিয়ে থাকেন। ডিপ্লোমা কোর্স করে চিকিৎসক হিসেবে হাসপাতালের রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিতে পারেন কিনা প্রশ্ন করলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি দাবি করেছেন লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১৭ সালে। এরপর আর অনুমোদন নেয়া হয়নি। লাইসেন্স নবায়ন করার জন্য আবেদন করা হয়নি। যশোরের সিভিল সার্জন ডা.দিলীপ কুমার রায় জানান, অবৈধ মায়ের দোয়া প্রাইভেট হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।