সোমালিয়ায় গাড়িবোমা বিস্ফোরণে নিহত ৯০

নিউজ ডেস্ক :

সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশুতে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি তল্লাশি কেন্দ্রে গাড়িবোমা হামলায় অন্তত ৯০ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছে।

শনিবার স্থানীয় সময় সকালের ব্যস্ত সময়ে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে দেশটিতে কাজ করা একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে এটি বড় ধরনের প্রাণঘাতী হামলা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই আন্তর্জাতিক সংগঠনটির প্রতিবেদনে মৃতের সংখ্যা ৯০ জনের বেশি উল্লেখ করা হয়েছে। এক সোমালি এমপি’ও টুইটে মৃতের সংখ্যা ৯০ জনের বেশি উল্লেখ করেছেন এবং এর মধ্যে ১৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন।

সোমালিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নিহতদের মধ্যে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আছে এবং দুইজন তুর্কি নাগরিকও আছেন। আর হামলায় কয়েকডজন মানুষ আহত হওয়ার কথা রয়টার্সকে জানিয়েছেন দেশটির আমিন অ্যাম্বুলেন্সের প্রতিষ্ঠাতা আব্দিকাদির আব্দিরাহমান হাজি আদেন।

হামলার দায় এখন পর্যন্ত কেউ স্বীকার করেনি। বিস্ফোরণের পরপরই কাছাকাছি এলাকার বাসিন্দা জানান, বিকট শব্দ শুনে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

“অসংখ্য আহত ব্যক্তি সাহায্যের জন্য কাতরাচ্ছিলেন; পুলিশ তখন গুলি ছোড়া শুরু করলে আমি ফের ঘরে চলে আসি,” টেলিফোনে এমনটাই বলেছেন ৫৫ বছর বয়সী এ ব্যক্তি।

আহতদের অনেককে কাছাকাছি মদিনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলা মোগাদিশুর মেয়র ওমর মাহমুদ প্রাথমিকভাবে বিষ্ফোরণে অন্তত ৯০ জন আহত হওয়ার খবর জানান।

তিন প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় জানা গেছে, তল্লাশিকেন্দ্র থেকে শহর অভিমুখে একটি রাস্তা তৈরির প্রকল্পের কাজে তুরস্কের প্রকৌশলীদের একটি দল গাড়িবোমা বিস্ফোরণের সময় ওই তল্লাশিকেন্দ্রে ছিল। তাদের গাড়ি বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়েছে।

তাৎক্ষণিকভাবে কেউ হামলার দায় স্বীকার না করলেও সরকারি কর্মকর্তারা হামলার পেছনে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদা সংশ্লিষ্ট আল-শাবাবকে সন্দেহ করছেন।

সোমালিয়ার জাতিসংঘ সমর্থিত সরকারকে উৎখাতে আফ্রিকান এ জঙ্গিগোষ্ঠীটি প্রায়ই এ ধরনের হামলা চালায়। এর আগে ২০১৭ সালের অক্টোবরে মোগাদিসুর জ্বালানি ট্যাংকারের কাছে আরেকটি বড় প্রাণঘাতী হামলায় প্রায় ৬শ’ মানুষ নিহত হয়েছিল।