কিশোরীকে গণধর্ষণে তিন আসামির আদালতে স্বীকারোক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার এক কিশোরীকে (১৪) ফুঁসলিয়ে অপহরণ ও গণধর্ষণের ঘটনা দায়ের করা মামলায় তিন আসামিতে আটক করেছে পুলিশ। একই সাথে ধর্ষণের আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। যশোরের একটি সংঘবদ্ধ কিশোর গ্যাং ওই গণধর্ষণের আসামি।

খুলনা, গোপালগঞ্জ ও যশোরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে। ওই কিশোরীকে দুই দফায় ৬ জন ধর্ষণ করে। শনিবার দুপুরে  জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেসব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।

আটককৃতরা হলো ওই কিশোরীর বন্ধু যশোর শহরের শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ এলাকার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে আল আফসান পুষ্প (১৫), খড়কি হাজামপাড়ার আব্দুর রশিদের ছেলে রায়হান ও সোহরাব হোসেনের ছেলে শাকিল।

অন্যদিকে শনিবার বিকিলে ওই তিন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দীতে তারা ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। একই সাথে ওই কিশোরী দ্বিতীয় দফা ধর্ষণের বর্ণনা দিয়েছে। আদালত তার জবানবন্দি ২২ ধারায় রেকর্ড করেছে।

যশোর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিপএসবি) তৌহিদুল ইসলাম জানান, ওই কিশোরীর সাথে আসামি পুষ্পর বন্ধুত্ব সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে গত ১ নভেম্বর রাত ১০ টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে করে পুষ্প ওই কিশোরীকে নিয়ে খড়কী ডাক্তার বাড়ির পেছনে প্রাচীরঘেরা মেহগুনি বাগানের মধ্যে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে তাকে প্রথমে মদ পান করানো হয়। পরে পুষ্প ও তার বন্ধু রায়হান, শাকিল, রবিউল ও শাহদিয়া পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে ওই কিশোরীকে পুষ্প তার বন্ধু লোন অফিস পাড়ার হৃদয় ওরফে ভাগ্নে হৃদয়ের ভাড়াবাড়িতে নিয়ে যায়। তিনতলা ভবনের ওই বাড়িতে কিশোরীকে সারারাত আটকে রেখে দ্বিতীয় দফা পুষ্প, হৃদয়, ভাগ্নে মামুন, ন্যাটা মামুন ধর্ষণ করে। পরদিন সকালে ওই কিশোরীর বান্ধবী নাজির শংকরপুর এলাকার মুসকান, হৃদয়, ন্যাটা মামুন ও ভাগ্নে মামুন পৌরপার্কে নিয়ে যায়। সেখানে ওই কিশোরী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনায় কিশোরীর মা কোতয়ালি থানায় একটি মামলা করেন। এই মামলার প্রধান আসামি পুষ্পকে খুলনা থেকে, রায়হানকে গোপালগঞ্জ থেকে এবং যশোরের খড়কী থেকে রায়হানকে আটক করে ডিবি ও কোতয়ালি থানা পুলিশ। তাদের স্বীকারোক্তিতে খড়কীর মেহগুনি বাগান থেকে ধর্ষণের কাজে ব্যবহৃত আলামত কনডম উদ্ধার করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরো জানিয়েছেন, আসামিরা যশোরের কিশোর গ্যাং এর সদস্য। তারা মাদক বিক্রি ও সেবন, বিভিন্ন মেয়েকে প্রথমে প্রেমের ফাঁদে ফেলা এবং পরে ফুসলিয়ে অপহরণ করে ধর্ষণ, ছিনতাই, মারামারিসহ নানা ধরনের অপরাধের সাথে যুক্ত।

এক প্রশ্নের জবাবে তৌহিদুল ইসলাম বলেছেন, যশোরে কত গুলো কিশোর গ্যাং রয়েছে তার সঠিক সংখ্যা নিরুপন করা বেশ কঠিন। তবে এই সব সদস্যরা প্রভাবশালীদের অধিনে প্রশ্রয়ে থাকে। পুলিশ চেষ্টা করছে কিশোর অপরাধীদের গুরুদের আটক করার।

তবে ওই কিশোরী  ঘটনার সময় সাংবাদিকদের জানিয়েছিলো, ১ নভেম্বর রাত ৮টার দিকে রিকশাযোগে বকচর থেকে শহরের মণিহার এলাকায় যাচ্ছিলো মণিরামপুরে যাওয়ার বাস ধরতে। বকচর র‌্যাব-৬ ক্যাম্পের অদূরে পৌঁছালে কয়েকজন তাকে চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে যায়। এরপর অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে চাকু ঠেকিয়ে মেয়েটিকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার ভয় দেখায়। এরপর তাকে ধর্ষণ করে। পরে ভাগ্নে হৃদয়ের বাড়িতে  নিয়ে গিয়ে সেখানে অচেতন করে ধর্ষন করা হয়। পরে মুসকানের সাথে পৌরপার্কে দেখা করতে গিয়ে সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়ি এবং তারা হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ ঘটনায় ৩ নভেম্বর কিশোরীর মা চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো তিনজনের কথা উল্লেখ করে গণধর্ষণের মামলা করেন।

ডিবি ও কোতয়ালি থানা পুলিশের যৌথ তদন্তে আসামিদের শনাক্ত করা হয়। এরপর ডিবি পুলিশ গত ২ জানুয়ারি খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি পুষ্পকে গ্রেফতার করে এরপর তার দেয়া তথ্য মতে গোপালগঞ্জ থেকে রায়হান ও যশোর শহরের খড়কি এলাকা থেকে শাকিলকে আটক করা হয়। তাদের দেখানো মতে ঘটনাস্থল থেকে ধর্ষণের আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতয়ালি থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) আহসান উল্লাহ চৌধুরী জানিয়েছেন, আটক তিন আসামি শনিবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শম্পা বসুর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। এতে তারা ধর্ষণের বর্ণনা দিয়েছে। আর ওই কিশোরী ফের আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে। এর আগেও একবার ওই কিশোরী জবানবন্দী দিয়েছিল। সেখানে ৫/৬জনের কথা উল্লেখ করেছিল সে।