কোটচাঁদপুর সরকারি কলেজ চলছে যেভাবে

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ)  প্রতিনিধি  : ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর সরকারি কে,এম,এইচ কলেজের অধ্যক্ষের উদাসিনতার কারণে পরীক্ষার তিন মাস আগেই বিদায় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কলেজ থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এতে অভিভাবক মহলে চরম ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। বর্তমান অধ্যক্ষের অদক্ষতার কারণে প্রশাসনিক ও শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। কলেজে নিয়ম নীতির বালাই নেই, অধিকাংশ শিক্ষকরা কলেজে থাকেন অনুপস্থিত আবার। অনুপস্থিতের জন্য ছুটি নেয়ার প্রয়োজন বোধ করেন না। কলেজটিতে মাল্টিমিডিয়ার ক্লাস বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। গত ২০১৯ সালের ৩০ মে অনুতোষ কুমার কোটচাঁদপুর সরকারি কে,এম,এইচ কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে অনিয়ম ও দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে কলেজটি। সব মিলিয়ে কলেজটি চলছে হ য ব র ল অবস্থায়।

অভিযোগ উঠেছে দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা ১ এপ্রিল। এখনো ৩ মাস বাকি অথচ কোটচাঁদপুর সরকারি কে,এম,এইচ কলেজের দ্বাদশ শিক্ষার্থীদের বিদায়ী সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। গত ২ জানুয়ারি কলেজ চত্বরে অধ্যক্ষ অনুতোষ কুমারকে প্রধান অতিথি করে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এ বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। কলেজ কর্তৃক বিদায় সংবর্ধনার বিষয়টি অস্বীকার করে কলেজের অধ্যক্ষ অনুতোষ কুমার বলেন, কলেজের শিক্ষার্থীরা এ অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছে। তবে শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনার জন্য অনুমতি দিয়েছেন বলে তিনি জানান। পরীক্ষা শুরুর এত আগে বিদায় সংবর্ধনার অনুমতি দেয়ার কারণ কি জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। কলেজ কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অধিকাংশ অভিভাবকেরা বলেন, পরীক্ষার ৩মাস আগে ছাত্রছাত্রীদের কলেজ বন্ধ করে দেয়া ঠিক হয়নি। তাদের শিক্ষকদের কাছ থেকে এখনো অনেক শেখার আছে।

ওই কলেজের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক ফারজ্বেল হোসেন মন্ডল বলেন, শিক্ষকদের কাছে শিক্ষার্থীদের যাওয়া আসা থাকলে শিক্ষার্থীদের মনোবল বাড়ে ছাড়া কমে না। কিন্তু পরীক্ষার ৩ মাস আগে কলেজ থেকে ছেড়ে দিলে এই দীর্ঘ সময়ে অনেক ছাত্রছাত্রীর পড়াশুনা থেকে অমনোযোগী হতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে বেশ কয়েকজন ছাত্রছাত্রী জানায়, অধিকাংশ শিক্ষক কলেজে আসেন না। যে কারণে ক্লাস হয় কম।

প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস করানো জন্য বর্তমান সরকারের কঠোর নির্দেশনা থাকলেও কোটচাঁদপুর সরকারী কে,এম,এইচ কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ অনুতোষ কুমার মাল্টিমিডিয়া ক্লাস উঠিয়ে দিয়েছেন। ক্লাস গুলি থেকে প্রজেক্টর খুলে নেয়া হয়েছে। বর্তমানে ক্লাসের প্রজেক্টরের খাঁচা গুলি পড়ে আছে অসহায়ের মত।

এছাড়া কলেজের আর্থিক দূর্নীতি তো রয়েছে লাগামহীন। অভিযোগ উঠেছে, অধ্যক্ষ অনুতোষ কুমার তার আজ্ঞাবহ ৩ সদস্য ক্রয় কমিটির মাধ্যমে এ দূর্নীতিগুলি পাস করে নেন।

এছাড়া কোনো শিক্ষক এ দুর্নীতি সম্পর্কে কথা বললে তাকে এসিআর (বার্ষিক গোপনীয় রিপোর্ট) রিপোর্টে কম নম্বর দেয়ার এবং বদলি সুপারিশের ভয় দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। যে কারণে শিক্ষকরা অধ্যক্ষ অনুতোষ কুমারের অপকর্ম মেনে নিয়ে চলছেন বলে ওই কলেজের একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান। শিক্ষকরা আরো বলেন, প্রতিটি বিষয়ে তদন্ত করলে অধ্যক্ষের অপকর্মের থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।

কলেজের একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, কলেজের শিক্ষকেরা কলেজে না আসলেও ছুটি নেয়ার প্রয়োজন বোধ করেন না। শিক্ষকদের ছুটির বইয়ের আলামত নেই ওই কলেজে। এমনকি বছরে ২০দিন ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করেন সরকারি চাকরিজীবিরা তারও আলামত নেই কলেজটিতে।

এ ছাড়া জাতীয় প্রোগ্রামে তিনি কখনোই হাজির থাকেন না। তা ছাড়া কলেজে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য যে এ্যাসেম্বলী হয় সেই এ্যাসেম্বলী পিয়ন পরিচালনা করেন। অধ্যক্ষ কোনো দিনও এ্যাসেম্বলীতে উপস্থিত হননি বলে অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থীরা।

এছাড়া কলেজের অত্যাধুনিক কম্পিউটার ল্যাব বন্ধ রাখার কারণ কি প্রশ্ন করা হলে অধ্যক্ষ অনুতোষ কুমার এ প্রতিবেদককে  বলেন, কম্পিউটার বেশ ক’টি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এবং চালু কম্পিউটার অফিসের কাজে প্রয়োজন হওয়ায় কম্পিউটার ল্যাবটি বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া এ্যাসেম্বলীর জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে গেম টিচার রিজাউল করিমকে। তিনি অসুস্থ থাকায় আপাতত অফিসের পিয়ন দিয়ে এ্যাসেম্বলী পরিচালনা করা হচ্ছে বলে তিনি স্বীকার করেন।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ-৩  (কোটচাঁদপুর-মহেশপুর) আসনের এমপি অ্যাড. শফিকুল আজম খান চঞ্চলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন এমন অভিযোগ আমি আগেই শুনেছি। বিষয়টি দেখা হবে।