দাকোপে অর্থ সম্পদ আত্মসাৎকারী আলোচিত কালু শ্রীঘরে

আজগর হোসেন ছাব্বির,দাকোপ : খুলনার দাকোপে ইটালিয়ান সংস্থায় পিয়ন পদে চাকরি নিয়ে প্রকল্পের পরিচালক দাবিকারী সেই ধুরন্ধর কালু এখন জেল হাজতে। স্কুল পরিচালনা প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রতারণার মাধ্যমে সংস্থার অর্থে নিজ নামে সম্পত্তি ক্রয়ের অভিযোগে পৃথক ৮ টি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এর মধ্যে একটি মামলায় আদালতে আত্মসমার্পণ করলে গত ২ জানুয়ারি আদালত তাকে জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, হতদরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্য শিক্ষাসহ সামাজিক জনকল্যাণমূলক কাজের উদ্দেশ্যে দাকোপ উপজেলা শহর চালনায় ইটালিয়ান সংস্থা এফডিজে ট্রাস্ট ফিলোদিওতা পরিচালিত ২০০৪ সালে স্কুল কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। সে সময় চালনা আছাভুয়া গ্রামের মৃত্যু প্রফুল্ল্য রায়ের পুত্র দীপক রায় ওরফে কালু প্রতিষ্ঠানে পিয়ন পদে চাকুরীতে যোগদান করে। প্রতিষ্ঠানটিতে ইটালিয়ান নাগরিক আলেসান্দ্রো মসিনি (এ্যালেক্স) প্রশাসক, এডমিনেষ্ট্রেটর প্রটেক্টর পদে দায়িত্ব পালন করেন। দীপক ওরফে কালু প্রশাসক আলেসান্দ্রো এ্যালেক্সের আস্থাভাজন হয়ে প্রকল্পের অলিখিত দায়িত্বভার নিজ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। এভাবে এক সময় সে পিয়ন থেকে প্রকল্পের ট্রাস্টি সদস্য হয়ে নিজেকে পরিচালক ঘোষণা দিতে থাকে। প্রকল্পের জন্য নিজস্ব জমি ক্রয়ের প্রস্তাব করলে দীপক ওরফে কালু সংস্থা এবং বিদেশীর নামে সম্পত্তি ক্রয় করা যাবে না এ অজুহাতে অর্থ এবং সম্পত্তি হাসিলে ফন্দি আটে। ২০১০ সালে ট্রাস্টের নামে ১০০ শতাংশ জমি ক্রয়ের দায়িত্ব নিয়ে মাত্র ৩৭ শতাংশ জমি ট্রাস্টের নামে ক্রয় করে। পানখালী মৌজার জেএল নং ৪ সিএস ও এসএ ১২৭১ খতিয়ান, ৫৫৬৭ নং দাগ হতে স্থানীয় সনত বিশ্বাস গংদের নিকট থেকে দাকোপ সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের ২০১০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ১১৮০ নং দলিল বুনিয়াদে অবশিষ্ট ৬৩ শতাংশ জমি নিজ নামে ক্রয় করে। পরবর্তীতে ২০১৫ ট্রাস্টের ৩৭ শতাংশ জমিও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে দীপক ওরফে কালু নিজ স্ত্রীর নামে লিখে নেয়। জালিয়াতির বিষয়টি জানতে পেরে আলেসান্দ্রো মসিনি ৬৩ শতাংশ জমি ট্রাস্টের নামে ফেরত দিতে বললে কালু তা অস্বীকার করে এবং তাকে ভয়ভীতি প্রদান করতে থাকে। একই সাথে স্কুলসহ খলিশা ও পানখালি স্কুলের জমি বিক্রির পাঁয়তারায় স্কুলের তালা মেরে দেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় অভিভাবকদের সহায়তায় আলেসানদ্রো মসিনি তালা ভেঙে পুনরায় স্কুল চালু করেন। এ ছাড়াও সংস্থার শিক্ষা কার্যক্রমের টাকা আত্মসাতের মাধ্যমে দাকোপের চুনকুড়ি এলাকায় নিজ নামে ১০ বিঘা সম্পত্তি ক্রয় করে, অবৈধ অর্থে তৈরি করে আলিশান বাড়ি। তার এই অপকর্মকে স্থায়ীরূপ দিতে আলেসাদ্রো মসিনিকে বাংলাদেশে আসতে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকে। একই সাথে তার নিরুদ্দেশ অথবা মারা যাওয়ার অপপ্রচার চালাতে থাকে। কালুর সাথে যোগাযোগ এবং সম্পদ ফিরে পাওয়ার সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে নিরূপায় আলেসান্দ্রো মসিনি মহামান্য আদালতের শরণাপন্ন হন। সম্পত্তি এবং অর্থ আতœসাতের অভিযোগে দীপক ওরফে কালুর বিরুদ্ধে ৪টি দেওয়ানী এবং ৪টি ফৌজদারী মামলা দায়ের করে।  সি আর ১৭/১৮ নং মামলায় আদালত গত ২ জানুয়ারি অভিযুক্ত দীপক ওরফে কালুর জামিন বাতিল করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। আলেসান্দ্রো মসিনি (এ্যালেক্স) প্রশাসকের পক্ষে মৃত্যুঞ্জয় দাস নামের তার নিযুক্ত ব্যক্তি মামলা পরিচালনা করছেন।

এলাকাবাসী সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানের অর্থ সম্পদ আতœসাতকারী এই বহুলালোচিত কালুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে।