যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ১২টার পর ওমিপ্রাজল বিতরণ বন্ধ!

বিল্লাল হোসেন : সোহরাব হোসেন (৪৫)। পেশায় একজন দিনমজুর। পেট ও বুকে যন্ত্রণার জন্য সোমবার চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন যশোর ২৫০  শয্যা জেনারেল হাসপাতালে। ৫ টাকার টিকিট কেটে তিনি বহির্বিভাগে ডাক্তার দেখান। দায়িত্বরত চিকিৎসক গ্যাসের ট্যাবলেট ওমিপ্রাজলসহ আরো কয়েক প্রকারের ওষুধ লিখেছেন। বিনামূল্যে ওমিপ্রাজল পাওয়ার জন্য চিকিৎসক একটি শর্ট স্লিপ দেন। সোহরাব হোসেন জানিয়েছেন, শর্ট স্লিপ নিয়ে বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে তিনি হাসপাতাল ফার্মেসিতে যান। কিন্তু তাকে ওমিপ্রাজল দেয়া হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোহরাব হোসেনের মতো অনেক রোগী বিনামূল্যের গ্যাসের ওষুধ পাননি। ফার্মেসি থেকে তাদের বলা হয়েছে ওমিপ্রাজল শেষ। সূত্র জানায়, গত ১ সপ্তাহ ধরে বেলা ১২টার পর রোগীদের ওমিপ্রাজল দেয়া হচ্ছে না। ফার্মেসি ইনচার্জ জানিয়েছেন, উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায়  ৬ হাজার ওমিপ্রাজল শেষ হলে বিতরণ বন্ধ রাখা হচ্ছে।

আখিরন খাতুন ও শিরিন সুলতানা জানান, হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যের ওষুধ না পেয়ে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ৫০ টাকা করে দুই পাতা গ্যাসের ওষুধ কিনতে হয়েছে তাদের। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাধ্য না থাকার কারণেই তারা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এসেছেন। চিকিৎসক বিনামূল্যের ওষুধ লিখে দিলেও ফার্মেসি থেকে বলা হচ্ছে নেই। ফার্মেসি বিভাগের ইনচার্জ রতন সরকার জানিয়েছেন, প্রতি সপ্তাহে ৫৪ হাজার ওমিপ্রাজলের চাহিদাপত্র দেয়া হচ্ছে। কিন্তু স্টোর থেকে দেয়া হচ্ছে ৩০ হাজার। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদিন ৬ হাজার ওমিপ্রাজল রোগীদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। ১২ টার আগেই ওষুধ শেষ হয়ে যাওয়ায় বলা হচ্ছে নেই।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা.আরিফ আহমেদ জানান,  বহির্বিভাগে চাহিদার তুলনায় ওষুধ সংকট। এছাড়া এক শ্রেণির দালালরা ৫ টাকার টিকিট কেটে চিকিৎসকের কাছ থেকে গ্যাসের ওষুধ ও এন্টিবায়োটিকের শর্ট স্লিপ নিচ্ছেন। স্লিপ দেখিয়ে তারা বিনামূল্যের ওষুধ তুলে কম দামে বাইরে বিক্রি করছেন।