ঢাকা বিমানবন্দর থেকে যশোরের যুবলীগ নেতা মিলন আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর জেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক জাহিদ হোসেন মিলন ওরফে টাক মিলন ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক হয়েছেন। গত রোববার দুবাই থেকে ফেরার পরে বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে যশোর ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। তার আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন যশোর পুলিশ প্রশাসনের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।
আটক মিলনের বিরুদ্ধে আদালত থেকে জারি হওয়া তিনটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। এছাড়া যুবলীগ কর্মী সোহাগ হত্যা মামলায় এক আসামির স্বীকার করা জবানবন্দীতে মিলনের নাম রয়েছে। মিলন ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের বাড়িতে বোমা হামলা মামলার আসামি বলে জানিয়েছেন ডিবি পুলিশের ওসি মারুফ আহম্মদ।
এদিকে মিলন আটক হওয়ার সংবাদ যশোরে পৌঁছালে যুবলীগের ব্যানারে একটি প্রতিবাদ মিছিল হয়েছে শহরে। মিছিল থেকে তাকে মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে।
যশোর পুলিশের ওই মুখপাত্র জানান, বিভিন্ন ঘটনায় বছর খানেকের মতো গা ঢাকা দিয়ে চলতেন মিলন। তাকে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে খুঁজেছে। কিন্তু পরবর্তীতে জানতে পারে তিনি মধ্যপ্রাচ্যর দেশ আরব আমিরাতের দুবাইতে অবস্থান করছেন। বিষয়টি ইমিগ্রেশন পুলিশকে আগে থেকেই জাহিদ হোসেন মিলনের বিষয়ে ইনফরমেশন দেয়া ছিলো। গত রোববার তিনি দুবাই থেকে ঢাকায় আসার পর ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে যশোর ডিবি পুলিশে সংবাদ পাঠায়। তার বিরুদ্ধে ৩টি মামলার ওয়ারেন্ট রয়েছে। এছাড়া যশোর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের বাড়িতে ২০১৯ সালের জানুয়ারি বোমা হামলা চালানোর মামলার আসামি মিলন।
যুবলীগ কর্মী সোহাগ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ওসি মারুফ আহম্মদ জানান, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত আকাশ নামে একজন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। তার জবানবন্দি থেকে জাহিদ হোসেন মিলনের হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি প্রকাশ পায়। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরকসহ আরো ৪টি মামলা রয়েছে।
ডিবি পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে হত্যা মামলার আসামি যুবলীগ নেতা জাহিদ হোসেন মিলনকে ঢাকা থেকে যশোরে নিয়ে আসা হয়। আজ (মঙ্গলবার) তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
পুলিশের অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০১৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গভীররাতে শহরের পুরাতন কসবা কাজীপাড়ায় নিজবাড়ির সামনে সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হন যুবলীগ কর্মী শরিফুল ইসলাম সোহাগ। দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। নিহত শরিফুল ইসলাম কাজীপাড়ার মৃত সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত ২৯ সেপ্টেম্বর নিহতের ভাই ফেরদাউস হোসেন সোমরাজ ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৫/৬ জনকে আসামি করে কোতয়ালি থানায় মামলা করেন। পরবর্তীতে এই মামলায় মিলনের নাম উঠে আসে।