এটা যে কত বড় পাওয়া, ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না: হাসিনা

স্পন্দন নিউজ ডেস্ক : ক্ষমতায় থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের সুযোগ পাওয়ায় জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

এই সুযোগকে ‘জীবনের বড় প্রাপ্তি’ অভিহিত করে তিনি বলেছেন, এর চেয়ে ‘বড় সৌভাগ্য’ হতে পারে না।

১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন শেখ মুজিবুর রহমান, কালক্রমে তার হাত ধরেই স্বাধীনতা পায় বাংলাদেশ।

বেঁচে থাকলে এই বছরই ১০০ বছর পূর্ণ করতেন জাতির জনক; আর তাই তার জন্মশতবার্ষিকী ঘটা করে উদযাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ। আগামী ১৭ মার্চ থেকে শুরু হবে ‘মুজিববর্ষ’-এর বছরব্যাপী কর্মসূচি, যার ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশপ্রত্যাবর্তন দিবস গত ১০ জানুয়ারি।

বুধবার জাতীয় সংসদে সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ বিষয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “আজকে আমার সৌভাগ্য ২০২০ সালে আমরা সরকারে আছি। আর সরকারে আছি বলেই আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করার সুযোগ পেয়েছি। যে নামটা এক সময় বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা হয়েছিল।”

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভ করে বাঙালি জাতি যে সম্মান অর্জন করেছিল, জাতির জনককে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর সেই সম্মান ভুলুণ্ঠিত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

মুজিববর্ষ: স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রতীকী মঞ্চায়নে ক্ষণগণনা শুরু

তিনি বলেন, “আজকে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ইউনেস্কো কর্তৃক যৌথভাবে উদযাপনের মাধ্যমে সারা বিশ্বব্যাপী উদযাপনের সুযোগ আর বিশেষ করে বাংলার মাটিতে উদযাপন করতে পারা- এটা আমি মনে করি, এর থেকে বড় সৌভাগ্য হতে পারে না।

“শুধু জাতির পিতার কন্যা হিসেবে নয়, আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে আমি মনে করি, বাংলাদেশের জনগণ আমাদের এই সুযোগ দিয়েছে কাজেই আমি বাংলাদেশের জনগণকে আবারও কৃতজ্ঞতা জানাই।”

মুজিববর্ষ জাতিকে দেবে নতুন জীবনীশক্তি: প্রধানমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, “এটা যে করে যেতে পারছি। এটা যে কত বড় পাওয়া আমি, আমার ছোট বোন রেহানা আমাদের কাছে, সেটা হয়ত ভাষায় আমরা প্রকাশ করতে পারব না।”

নিজের জীবনে চাওয়া-পাওয়ার হিসাব না করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তোলাই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “কী পেলাম কী পেলাম না সে হিসাব আমি মেলাই না। আমি চলি একটি আদর্শ, একটি স্বপ্ন কীভাবে বাস্তবায়ন করব। যে মানুষটি তার জীবনের সবকিছু ত্যাগ স্বীকার করেছে একটি জাতির জন্য, তার অবদান যেন বৃথা না যায়। যে লাখো শহীদ রক্ত দিয়ে গেছে দেশের স্বাধীনতার জন্য, তাদের রক্ত যেন বৃথা না যায়।

“বাংলাদেশ যেন সফল হয়। সারা বিশ্বে যেন একটা মর্যাদা নিয়ে চলে। বাঙালি জাতি যেন বিশ্বে মর্যাদা নিয়ে চলতে পারে সেটুকু করে যাওয়া। সেই প্রচেষ্টাই করা।”

সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নুর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘মুজিববর্ষ’ পালনের পরিকল্পনার কথা জানান। ‘মুজিববর্ষ’ উপলক্ষে সংসদের বিশেষ অধিবেশন বসবে বলেও জানান তিনি।