‘ভুয়া ডাক্তার’ আমিরুল ফের চাঙ্গা

বিল্লাল হোসেন : ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ভুয়া ডাক্তার প্রমাণিত সেই আমিরুল ইসলাম আবারো চিকিৎসার নামে প্রতারণা শুরু করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জামিনে বেরিয়ে আসার পর তিনি প্রতারণা বন্ধ রাখার পর নতুন করে টাকা আদায়ের ফাঁদ পেতে বসেছেন। একজন জনপ্রতিনিধি ও কয়েকজন প্রভাবশালীর কাছ থেকে সাহস পেয়ে আমিরুল ইসলাম নিজস্ব চেম্বার গড়ে মানুষের সর্ব রোগের চিকিৎসা করছেন। প্রতারক আমিরুল ইসলাম যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা গ্রামের আমিরুল ইসলাম বাগডাঙ্গা বাবু বাজার এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, জেল জরিমানার আগে তিনি ল্যাপটপ ও এনালাইজার মেশিনে রোগ শনাক্তের নামে অতি গোপনে মানুষ ঠকিয়েছেন।

এক সময়ের মুদি দোকানি আমিরুল ইসলাম হঠাৎ করে ডাক্তার বনে যান। তিনি এনালাইজার ও ল্যাপটপে রোগ শনাক্ত করার নামে মানুষকে বোকা বানিয়ে চিকিৎসার নামে প্রতারণা করছিলেন। আর মারাত্মক রোগের কথা বলে চিকিৎসাসেবা বাবদ হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অংকের টাকা। সংশ্লিষ্ট  কর্তৃপক্ষের চোখ ফাঁকি দিয়ে যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা বাবু বাজারে একটি টোং ঘরের মধ্যে চিকিৎসার নামে দীর্ঘদিন ধরে এ অনৈতিক কর্মকাণ্ড করছিলেন আমিরুল ইসলাম। টোং ঘরের সামনে একটি সাইনবোর্ডও ঝুলানো ছিলো। সাইনবোর্ডে লেখা ছিলো আয়েশা ফার্মেসী। প্রোপাইটার ডা. আমিরুল ইসলাম। সেখানে বসে তিনি একাই করতেন সর্ব রোগের চিকিৎসা। আবার স্ক্যানিং ও ক্রসমেসিং ছাড়াই রোগীর শরীরে রক্ত ঢোকাতেন। তার প্রতারণা নিয়ে ২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর দৈনিক স্পন্দন পত্রিকায় সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এ প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসনে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়রা জানান, পত্রিকায় খবর প্রকাশের দিনই আমিরুল ইসলাম রোগ শনাক্তের নামে টাকা কামানোর ধান্দায় ব্যবহৃত ল্যাপটপ ও এনালাইজার মেশিন চেম্বার থেকে বাড়িতে লুকিয়ে রাখেন। ১৬ সেপ্টেম্বর বাগডাঙ্গা বাবুবাজারের আয়েশা ফার্মেসিতে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ফার্মেসিতে বসে আমিরুল রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছিলেন বলে দেখতে পায় ভ্রাম্যমান আদালত। আদালত আমিরুলের একাডেমিক সনদ দেখতে চায়। তিনি তার ডাক্তারি পড়ার একাডেমিক সনদপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী নাজীব হাসান ভুয়া ডাক্তার আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে ৪ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ১ অক্টোবর ভুয়া ডাক্তার আমিরুল ইসলাম কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। এরপর তিনি বাড়ি থেকে খুব কম সময় বাইরে বের হতেন। কয়েক মাস পার হওয়ার পর তিনি মাঝে মধ্যে আয়েশা ফার্মেসিতে বসা শুরু করেন। কিন্তু তার প্রতারণা ফাঁস হওয়ায় ওই সময় খুব বেশি রোগী আসতেন না। এরই মধ্যে তিনি বাবুবাজারে তার নিজ মার্কেটে চিকিৎসাকেন্দ্র খুলে বসেন। সেখানে তিনি পুরোদমে রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করছেন।

স্থানীয়ভাবে ঝামেলা এড়াতে আমিরুল ইসলাম এলাকার একজন জনপ্রতিনিধি ও কয়েকজন প্রভাবশালীকে ম্যানেজ করেছেন। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, ভুয়া ডা. আমিরুল সেই ল্যাপটপ ও  এনালাইজার মেশিন দোকানে আনছেন না। প্রতারণা গোপন রাখতে ল্যাপটপ ও এনালাইজার মেশিন বাড়িতে রেখেছেন। চেম্বারে আসা অনেক রোগীকে কৌশলে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। এভাবে আগের মতোই চলছে রোগ শনাক্তের নামে  আমিরুল ইসলামের মহাপ্রতারণা। এ বিষয়ে আমিরুল ইসলাম জানান, ফার্মেসির পাশাপাশি মাঝে মধ্যে রোগীর ব্যবস্থাপত্র প্রদান করছি। কিন্তু রোগ সনাক্তে এখন ল্যাপটপ ও এনালাইজার ব্যবহার করছেন না।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. দিলীপ কুমার রায় জানান, বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) কর্তৃক স্বীকৃত ডিগ্রি ছাড়া কেউ নামের আগে ডাক্তার লিখতে পারবেন না। যারা পি.এল.এম.এ.এফ ও আর.এম.পিসহ বিভিন্ন শর্টকোর্স করেছেন তারা ভিজিটিং কার্ড ও প্রচারপত্রে নামের আগে পল্লী চিকিৎসক লিখতে পারবেন। কিন্তু নামের আগে সরাসরি ডাক্তার লেখা সম্পূর্ণ অন্যায়। সিভিল সার্জন আরো জানান, তার জানা মতে আমিরুল ইসলাম একজন ভুয়া ডাক্তার।  এনালাইজার এবং ল্যাপটপে রোগ শনাক্তে ভাওতাবাঁজি ও চিকিৎসা প্রতারণায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে আটক করে জেলহাজতে পাঠায়। আমিরুল ইসলামের ফের চিকিৎসা প্রতারণার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।