দাবি না মানায় কালীগঞ্জ হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের কর্মবিরতি ঘোষণা

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : শ্রমিকদের দাবি না মানায় ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছে কালীগঞ্জ উপজেলা হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন। শুক্রবার থেকে ধান হাটায় কর্মবিরতি পালন করবে শ্রমিকরা।  বুধবার সন্ধ্যায় কালীগঞ্জ হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়া হয়েছে। শ্রমিকদের দাবির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি।

সংবাদ সম্মেলনে হ্যান্ডিলিং ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বাদশা মিয়া লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, কালীগঞ্জ শহরের ধান হাঁটাতে তাদের প্রায় দেড় শতাধিক হ্যান্ডরিং শ্রমিক কাজ করে। দীর্ঘদিন ধরে ওই হাটের ধান ব্যবসায়ী মহাজনেরা তাদের নায্য মুজুরি থেকে বঞ্চিত করে আসছে। শ্রমিকদের দাবি এ উপজেলার পাশর্^বর্তী অন্যান্য ধান হাটার সাথে সামসাজ্যতা রেখে মজুরি দিতে হবে।

বক্তব্যে আরো উল্লেখ করা হয়, বাজার মূল্যর উর্ধবগতিতে ধানহাটার কর্মরত শ্রমিকরা অসহায় দিন যাপন করছে। বার বার তারা রেট বৃদ্ধির কথা জানালেও মালিকরা কোন কর্ণপাত করছে না। এ নিয়ে সর্বশেষ ৬ ডিসেম্বর শ্রমিকরা ধান ব্যবসায়ী মালিক পক্ষের নিকট একটি লিখিত আবেদন জানায়। কিন্তু তারপরও মালিকরা তাদের দাবি না মানায় ২৭ ডিসেম্বর এ বিষয়টি নিয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট আবেদন করে। এছাড়াও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ কয়েকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে বৈঠক করেন। সেখানে ইউএনও মহোদয় সমস্যাটি সমাধানের আশ^াস দিলেও তিনিও অদ্যাবধি কোন ব্যবস্থা নেয়নি। তাই তাদের নায্য দাবি আদায়ে কর্মবিরতির  ডাক দিতে বাধ্য হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি সিদ্দিক মিয়া, শ্রমিক নেতা বাবু মন্টু গোপাল, সোনা মিয়া, কামাল হোসেন, আশরাফ আলী, আমির হোসেন ও ফজলুল করিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে হ্যান্ডিলিং শ্রমিকদের দাবির প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি আমির হামজা বাবলু।

শ্রমিকদের মুজুরি কম দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে কালীগঞ্জ ধান ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম জানান, শ্রমিকদের দাবি সম্বলিত একটি লিখিত কপি পেয়েছেন। তারা এ বিষয়টি কালীগঞ্জ বাজার কমিটিকে অবহিত করেছেন। তবে নতুন রেট বৃদ্ধি করতে হলে বছরের প্রথমে বৈশাখের আগে ছাড়া করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।