কপিলমুনির স্থপতি রায় সাহেবের ৮৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি : দক্ষিণ খুলনার দানবীর রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধুর ৮৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। সমাজ সংস্কারক ও জ্ঞান পিপাসু রায় সাহেবের হাতের স্পর্শে কপিলমুনিতে গড়ে উঠেছিল অসংখ্য জনহিতকর প্রতিষ্ঠান।

১২৯৬ সনের ২৬ বৈশাখ খুলনা জেলার দক্ষিণাঞ্চলের অজপাড়া গাঁ কপিলমুনিতে জন্মগ্রহণ তিনি। পিতা যাদব চন্দ্র সাধু সাধু, মাতা সহচরী দেবী, শৈশব ও কিশোর জীবন পেরুতে না পেরুতেই তার  সমাজ সাধনার দিন শুরু হয়। তিনি মাত্র ১৩ বছর বয়সে নিজেকে ব্যবসায় জড়িয়ে ফেলেন, তৎকালীণ সময়ে ব্যবসার প্রসার ঘটাতে তিনি কলকাতার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে কপিলমুনির উন্নয়ন কাজ শুরু করেন। তার ব্যবসায়ীক উপার্জনের পয়সা দিয়ে বৃহত্তর কপিলমুনির মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থা করেছেন। মায়ের নামে সহচরী বিদ্যামন্দির (বর্তমানে স্কুল এন্ড কলেজ), ২০ শয্যা বিশিষ্ট ভরত চন্দ্র হাসপাতাল, যার দার উদঘাটন করেন তৎকালীণ ভারতের বীর বাহাদুর যদুনাথ সরকার। পাশাপাশি এলাকার মানুষের বেকারত্ব ঘুচাতে প্রতিষ্ঠা করেন অমৃতময়ী টেকনিক্যাল স্কুল। তার সমাজ সেবার  পুরস্কার হিসেবে তৎকালীন সরকার তাকে রায় সাহেব  উপাধিতে ভূষিত করেন।

মাত্র ৪৫ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনের প্রতিটি ক্ষণ সমাজ তথা মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করেছিলেন। যখন খুলনা অঞ্চলে বিদ্যুৎ এর ব্যবস্থা ছিল না তখন তিনি কপিলমুনি বাজারকে আলোকিত করেছিলেন  কলকাতা থেকে জেনারেটর এনে। এলাকার মানুষের সুপেয় পানি পান করানোর জন্য তিনি খনন করেন ‘সহচরী সরোবর’ নামে একটি বৃহৎ পুকুর (বর্তমানে বালির মাঠ)। ক্ষণজন্মা এই মহা মনিষীকে এলাকার সকল মানুষ মহা মানব হিসেবে স্মরণ করে থাকেন। তার নিজ অর্জিত টাকায় ক্রয়করা প্রায় ৫০একর সম্পত্তির উপর প্রতিষ্ঠা করেন ‘বিনোদগঞ্জ’ যা এখন কপিলমুনি বাজার নামে পরিচিত। হাসপাতাল, খেলার মাঠ ও বিনোদনের জন্য পাবলিক স্টেডিয়াম সবই তার স্মৃতি বহন করে। তিনি ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় একই সময় প্রতিষ্ঠা করেন উৎকর্ষ সমিতি ও সিদ্ধেশ্বরী ব্যাংক (বর্তমান বণিক সমিতি)। ব্যবসায়ীরা তাদের প্রয়োজনে উক্ত ব্যাংক থেকে অর্থ গ্রহণ করতেন। এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে তিনি স্ট্রেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ায় বহু টাকা সঞ্চয় করেন, কিন্তু দেশ ভাগের পর তার রাখা অর্থ ফেরৎ পাওয়া যায়নি। তার স্মরণে আজ কপিলমুনির রায় সাহেব স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ, বিনোদ স্মৃতি সংসদ ও গুনীজন স্মৃতি সংসদ বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।