তালায় বিদ্যালয় ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পাশেই ইটের ভাটা !

তপন চক্রবর্তী, তালা (সাতক্ষীরা) : সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জেঠুয়া পালপাড়ার পাশেই ‘জেঠুয়া বিসমিল্লাহ ব্রিক্স’ এর অবস্থিত। এ ভাটার পাশেই একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও বাজার। ভাটার চার পাশে জনবসতি ও ফসলি জমি। কপোতাক্ষ  নদের ভেড়িবাঁধের মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ইট ভাটায়। এ মাটি দিয়ে তৈরি ইট।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩ অনুযায়ী  আবাসিক এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার ও ফসলি জমির এক কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। এ ছাড়া কোনো সড়ক ও মহাসড়ক থেকে অর্ধকিলোমিটার দূরত্বে ইটভাটা স্থাপন করতে হবে। অথচ এই আইন মানেনি জেঠুয়া বিসমিল্লাহ ব্রিক্স।

অনুসন্ধানে জানা গেছে ভাটা কর্তৃপক্ষের নেই ভাটা পরিচালনার সরকারি অনুমোদন।

শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, জেঠুয়া বাজারের উত্তরপাশে পালপাড়ার মধ্যেই এ ইটের ভাটা অবস্থিত। এ ভাটার পাশেই রয়েছে জাগরনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও জালালপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং জেঠুয়া বাজার। এরমধ্য দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ভাটায় যাতয়াতের রাস্তা। তবে এ রাস্তা দিয়ে ভাটায় প্রবেশ মুখে দুর্গন্ধ। অফিসের সামনে বসে থাকেন ম্যানেজার। ভেতরে সাতটি মহেন্দ্রা গাড়ি ভেড়িবাঁধের থেকে মাটি নিয়ে ভাটার ভেতরে টাল দিচ্ছেন। প্রতিদিন শ’শ’ গাড়ি মাটি নিয়ে আসা হচ্ছে ভাটায়। তারা ভেড়িবাঁধের মাটি কেটে নেয়ায় আতঙ্কে এলাকার সাধারণ মানুষ।

গ্রামবাসীর ভাষ্যমতে, ভাটা কর্তৃপক্ষ যে ভাবে স্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে, তাতে আগামী বর্ষা মৌসুমে ওই এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশংকা রয়েছে। তারা অভিযোগ করে বলেন, তাদের ভয়ে এলাকার মানুষ কেউ কথা বলে না। তারা গায়ের জোরে এ ভাটা পরিচালনা করছে।

জেটুয়া বিসমিল্লাহ ব্রিক্স এর মালিক জহরুল ইসলাম বলেন,‘আমি ভাটার পরিচালনার জন্য কোন কাগজ বা অনুমোদন পায়নি। তবে সবার সাথে কথা বলে ভাটার কার্যক্রম শুরু করেছি।’ তিনি জানান কাল থেকে ভেড়িবাঁধের মাটি ভাটায় নিয়ে নেবেন না।

তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ভাটার বিষয়ে আমার কাছে একটি তদন্ত এসেছে। আমি তদন্ত করে এখনও প্রতিবেদন দেয়নি। তবে ফসলি জমিতে কেউ ইটের ভাটা করতে পারবে না।

পরিবেশ অধিদফতরের সাতক্ষীরা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরদার শরীফুল ইসলাম বলেন, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩ অমান্য করে কেউ ইটভাটা স্থাপন করতে পারবে না। আইন অমান্যকারীকে কারাদণ্ড দেয়ার ও অর্থদণ্ড করার বিধান রয়েছে। তাদের আমরা কোনো অনুমোদন দেয়নি। তারা অবৈধ ভাবে ভাটা পরিচালনা করছে। বিষয়টি তিনি জেলা প্রশাসককে জানাবেন বলে জানান তিনি।

তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেন জানান,ইট ভাটার বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি বিষয়টি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।