প্রাইভেটকার ও গহনা চুরির স্বীকারোক্তি তিনজনের

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের ঝিকরগাছা ও বেনাপোলের আলাদা চুরি মামলায় তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মাহাদী হাসান আসামিদের জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

ঝিকরগাছার মোবারকপুর গ্রাম থেকে প্রাইভেটকার চুরি মামলায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে আটক তরিকুল ইসলাম ও নয়ন। তরিকুল বেনাপোলের সাদীপুরের শহিদ হোসেন ও নয়ন ঝিকরগাছার পঞ্চনগর গ্রামের কদম আলীর ছেলে।

জবানবন্দিতে তারা জানিয়েছে, গত ১৪ জানুয়ারি রাতে তারা ঝিকরগাছার শিকারপুর গ্রামে ওয়াজ শুনতে যায়। ওয়াজ শেষে তারা তিনজন বাড়ি ফিরছিল। পথিমধ্যে মোবারকপুর গ্রামের রাস্তায় একটি প্রাইভেট কার দেখতে পায় তারা। এ সময় তাদের সহযোগীর কাছে কাথা প্রাইভেটকারের চাবি দিয়ে ওই গাড়ির দরজা খোলা হয়। এরপর তারা গাড়ি নিয়ে নড়াইল আত্মীয় বাড়ি রেখে আসে। পরে প্রাইভেট কার বিক্রি করতে গেলে পুলিশ তাদের আটক করেছে বলে জানিয়েছে।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রাইভেটকারটি মোবারকপুর গ্রামের আব্দুল ওয়াদুদ চালাত। গত ১৪ জানুয়ারি রাতে গাড়িটি আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ির সামনে রেখে বাড়ি চলে যান। পরদিন সকালে এসে তিনি দেখেন প্রাইভেট কারটি চুরি হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে গাড়ির মালিক সাইফুল ইসলাম অপরিচিত ব্যক্তিদের আসামি করে ঝিকরগাছা থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চুরি যাওয়া প্রাইভেটকারসহ ওই দুইজনকে আটক করেন। গতকাল তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে চুরির সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ওই জবানবন্দি দিয়েছে।

অপরদিকে শার্শার নাভারণ রেলবাজারের গোলাম সরোয়ারের বাড়ি থেকে সোনার গহনা চুরি মামলায় আটক জুলেখা বেগম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জুলেখা কাজিরবেড় গ্রামের নয়নের বাড়ির ভাড়াটিয়া সিরাজুল ইসলাম কালুর স্ত্রী।

জবানবন্দিতে জুলেখা জানিয়েছে, সে আব্দুস সামাদের বাড়িতে কাজ করত। ১০১৯ সালে ১০ নভেম্বর দুপুরে আলমারির তালা খুলে সে ২টা চেইন, কানের দুল, ২টি আংটি ও বালা চুরি করে। এরপর তার পরিচিত এক জননের কাছ ১০ হাজার টাকায় বন্ধক রাখে। যখন সে জানতে পারে গহনাগুলো চুরি করে আনা তখন সে টাকা দিলেও গহনা ফিরিয়ে দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে।

শনিবার এ চুরির ঘটনায় আব্দুস সামাদ তিনজনকে আসামি করে শার্শা থানায় মামলা করেন। পুলিশ চুরির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ জুলেখা ও তার ছেলে মেহেদী এবং তার স্ত্রী পাপীয়াকে আটক করে। এদিন তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে জুলেখা চুরির কথা স্বীকার করে আদালতে ওই জবানবন্দি দিয়েছে।