সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিনের প্রচেষ্টা সরকারি হচ্ছে শার্শার নাভারণ ফজিলাতুন্নেছা মহিলা কলেজ

মিরাজুল কবীর টিটো : সরকারি হচ্ছে যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারণ ফজিলাতুন্নেছা মহিলা কলেজ। সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিনের প্রচেষ্টায় কলেজটি সরকারিকরণের তালিকাভুক্ত হয়েছে। সর্বশেষ ঘোষিত সারাদেশের ৬৮ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকায়  এ কলেজটির নাম রয়েছে।

নাভারণ ফজিলাতুন্নেছা মহিলা কলেজ ১৯৯৭ সালে স্থাপিত হয়। যশোর জেলা আওয়ামী লীগের এক সময়কার সভাপতি তবিবর রহমান সরদার কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠাকালে ১৯ জন শিক্ষক ও ১৫০ জন ছাত্রী ছিল কলেজটিতে। ১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংসদ সদস্য আফিল উদ্দিনের প্রচেষ্টায় কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়। পরবর্তীতে যশোর জেলা প্রশাসন কলেজ পরিচালনা করলেও কলেজের শিক্ষা, শৃঙ্খলা, পরিবেশের কোনো অগ্রগতি হয়নি। এভাবে কলেজের কার্যক্রম চলতে থাকে ২০০৮ সালে পর্যন্ত। ২০০৯ সালে কলেজের সভাপতি নির্বাচিত হন শার্শা-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন। কলেজ অধ্যক্ষ লায়লা আফরোজ বানু জানান, শেখ আফিল উদ্দিন সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর কলেজের শিক্ষার মান বেড়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক পরিবেশের পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে এ কলেজে এইচএসসি, অনার্স, ডিগ্রিতে ১ হাজার ২শ’ ছাত্রী অধ্যায়নরত আছে। এর মধ্যে  অনার্সে ৩শ’, ডিগ্রিতে ২৫০জন ও এইচএসসিতে সাড়ে ৬শ ছাত্রী। ৭০ জন অভিজ্ঞ শিক্ষক দিয়ে তাদের পাঠদান করা হচ্ছে। সেই সাথে ৬শ ছাত্রীদের আইসিটি বিষয়ে ক্লাস নেয়া হয়। পাঠদানের কার্যক্রম ৪৫টি সিসি ক্যামেরা দিয়ে পর্যাবেক্ষণ করা হয় প্রতিদিন। ছাত্রী পাঠদানের জন্য রয়েছে কলেজে চারটি ভবনে ৩৫টি সুন্দর শ্রেণিকক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে ১টি চারতলা, ২টি দুইতলা ও ১টি তিনতলা ভবন। ২০১৯ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় এ কলেজ থেকে ৩২৩ জন ছাত্রী অংশ নিয়ে পাস করেছে ২৩৩ জন। সেই সাথে জিপিএ-৫ পায়-১১ ছাত্রী। ২০১৯ সালে প্রকাশিত ডিগ্রি পরীক্ষার ফলাফলে ৪৭ জন ছাত্রী পাস করে।  ১১ জন ছাত্রী প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয় । একই সালে প্রকাশিত অর্নাসের ফলাফলে সমাজ বিজ্ঞান, হিসাব বিজ্ঞান ও একাউন্টিং বিষয়ে অংশগ্রহণকারী ৬১ ছাত্রীর সবাই পাস করে। প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয় ২৫ ছাত্রী।

অধ্যক্ষ লায়লা আফরোজ বানু জানান কলেজের সভাপতি শেখ আফিল উদ্দিন মায়েদের নিয়ে মা সমাবেশ, অভিভাবক সমাবেশ করেন। পাশাপাশি  শিক্ষকরা যাতে ভালভাবে ছাত্রীদের পাঠদান করেন সে বিষয়েও তিনি সবসময়ে তদারকি করেন। ২২ বছর পর কলেজটি সরকারিকরণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় কলেজের শিক্ষক,ছাত্রী খুশি হয়েছেন।