যবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের গায়ের জোর প্রদর্শন

বিল্লাল হোসেন : প্রকাশ্যে গায়ের জোর দেখালো যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা। তবে জোর প্রয়োগ করে বেশি সময় টেকেনি। এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে তাদের উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ড থামাতে বাধ্য হয়। এসময় ছাত্র ও জনতার মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি বাজারে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলোচনায় বসে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট করতে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

স্থানীয়রা জানায় দুপুর ৩ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ছাত্র মুনতাসির, পেট্রোলিয়াম এন্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের জোনায়েদ ও এক ছাত্রী ঝিনাইদহ থেকে রুপসা পরিবহন যোগে চুড়ামনকাটি বাজারে পৌছায়। বাস থামার পর ওই দুই ছাত্র নেমে যান। কিন্তু ছাত্রী নামার আগেই বাস ছেড়ে দেয়। এসময় হেলপার তার হাত ধরে নামতে সহায়তা করেন। গায়ে হাত দেয়ার ঘটনায় বাসের হেলপারের ওপর চটে যায় ছাত্রী। পরে দুই ছাত্র তাকে (হেলপার) কিলঘুষি মারেন। এসময় স্ট্যাটাররা সেখানে যান। অকারণে মারপিটের প্রতিবাদ জানানো হলে স্ট্যাটারদের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া দুই ছাত্রের তর্কবিতর্ক শুরু হয়। তখন তাদের মধ্যে একজন মোবাইল ফোনে বিষয়টি অন্য ছাত্রদের জানান। চুড়ামনকাটির স্ট্যাটার পলাশ আহমেদ জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাসে ২৫/৩০ জন ছাত্র  চুড়ামনকাটি বাজারে এসে রুপসা পরিবহনের হেলপারকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন ছাত্রদের বাধা দিয়ে বলা হয় অপরাধ করলে তাকে পুলিশে দেন। তাকে ক্যাম্পাসে ধরে নিয়ে যাবেন কেনো। একটু অপেক্ষা করেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে তিনি এসে সমাধান করবেন। সেখানে উপস্থিত লোকজন জানান, এসময় ছাত্রদের মধ্যে একজন চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মুন্না সম্পর্কে বাজে উক্তি ছোড়েন। আর ওই সময় ঘটনাস্থলে হাজির হন চেয়ারম্যান। তিনি ওই উক্তির প্রতিবাদ করলে ছাত্ররা উত্তেজিত হন। এসময় চেয়ারম্যান বাজে উক্তি করা ছাত্রের চপেটাঘাত করেন।  চুড়ামনকাটির ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আনিসুর রহমান জানান, দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা বাজারে পৌঁছেই গায়ের জোর দেখানো শুরু করেন। বাসের হেলপারকে অপহরণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে তারা যশোর -ঝিনাইদহ মহাসড়ক অবরোধ করে। এসময় চেয়ারম্যান ও সাধারণ মানুষ তাদের কর্মকাণ্ডে বাধা হয়ে দাঁড়ান। উপায় না পেয়ে ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফিরে যান। এরপর বিকেল ৫ টার দিকে ৬টি বাস যোগে কয়েকশ ছাত্র চুড়ামনকাটি বাজারে  এসে জড়ো হয়। প্রথমে তারা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে সকল যানবাহন চলাচলা বন্ধ করে দেয়। তাদের চিৎকারে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এসময় এলাকার সর্বস্তরের মানুষ ছাত্রদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তখন উভয়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। ছাত্ররা গায়ের জোর দেখানো শুরু করলে তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষ। এসময় উভয়ের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে ছাত্ররা পিছু হটতে বাধ্য হয়। এই বিষয়ে চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মুন্না জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের অন্যায় মেনে নিতে পারেনি সাধারণ মানুষ। তারা বাজারে অবস্থান নিয়ে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে চেয়েছিলো। কিন্তু জনগণ তাদের উদ্দেশ্য সফল হতে দেয়নি। সাজিয়ালী পুলিশ ফাঁড়ির  এএসআই উজ্জল জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিবাদ হয়েছিলো। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন জানান, চুড়ামনকাটি ইউনিয়নবাসীর সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সব সময় সু সম্পর্ক রয়েছে। যা আগামীতেও থাকবে ছাত্রদের এমনটাই বলেছি। তিনি জানান, ঢাকা থেকে ক্যাম্পাসে ফিরেই ঘটনাটি জানতে পারি। ওই সময় আমি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মুন্নার সাথে আলোচনায় বসেছিলাম। তিনি আরো বলেন, বিগত দিনে বিভিন্ন অপরাধে যে সব ছাত্রদের বহিষ্কার করেছিলাম তাদের ইন্ধনে কিছু ছাত্র চুড়ামনকাটি বাজারে গিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। বহিষ্কৃত ওই ছাত্রদের উদ্দেশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দূর্নাম রটানো।