চিরবিদায় নিলেন গুরুমা চম্পা হিজড়া

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : চলে গেলেন সবার প্রিয় গুরুমা চম্পা হিজড়া। প্রায় একশ’ বছর বয়সে যশোর শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া তুলোতলা এলাকায় বসবাসকারি চম্পা হিজড়া সোমবার সকালে ইন্তেকাল করেন। এদিন বাদ আছর রেলস্টেশন মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে নামাজে জানাজা শেষে কারবালা কবরস্থানে তার দাফন হয়েছে। গুরুমা বিদায় নেয়ায় তার স্থলাভিসিক্ত হয়েছেন নিলু হিজড়া।

চম্পা হিজড়ার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে হিজড়াদের মধ্যে। তার মৃত্যুর সংবাদ শুনে দেশ বিদেশ থেকে কয়েকশ’ হিজড়া হাজির হন তার বাড়িতে। তারা শোকে মূহ্যমান হয়ে পড়েন।

নীলু হিজড়া জানিয়েছেন, পাবনা সদর উপজেলার চরঘোষপুর গ্রামের মৃত তছির মন্ডলের মেয়ে চম্পা হিজড়া। দেশ স্বাধীনের আগেই তিনি যশোরে চলে আসেন। ওঠেন চাঁচড়া রায়পাড়া তুলোতলা এলাকার তারা হিজড়ার আস্তানা ‘তারা মঞ্জিলে’। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তারা মঞ্জিলে কাটিয়েছেন। তারা হিজড়া ছিলেন তিনিসহ সকল হিজড়ার গুরুমা। তারা হিজড়া মারা যাওয়ার পর চম্পা হিজড়া গুরু মায়ের দায়িত্ব পালন করতেন। মৃত্যুর মাস দুইয়েক আগে তিনি প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে দেখভাল করতেন যশোরের হিজড়ারা। শুধু যশোর নয় দক্ষিণ বঙ্গ, ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা এবং ভারতের বিভিন্ন স্থানে বসবাসকারী হিজড়ারা তার খোঁজ খবর রাখতেন। তিনিও সকল হিজড়াকে মায়ের ¯েœহ দিতেন। এখন তার পরিবর্তে গুরু মায়ের দায়িত্ব পালন করবেন তিনি (নীলু হিজড়া)।

চম্পার ভাইয়ের ছেলে আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, তার একমাত্র ফুফু ছিলেন চম্পা হিজড়া। তারা একভাই এক বোন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি পরিবারের সকলের খোঁজ খবর রেখেছেন। অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন তিনি।

মায়ের মৃত্যুর সংবাদ শুনে ভারতের বনগাঁ থেকে ছুটে এসেছেন সখি হিজড়া, ঝর্ণা হিজড়া, পাখি হিজড়া, নয়ন হিজড়া ও শীলা হিজড়া। তারা বলেছেন, গুরু মায়ের সংবাদ শুনে তারা থাকতে পারেননি। এক নজর দেখার জন্য ভারত থেকে এসেছেন। এছাড়া ভারত জুড়ে যত হিজড়া আছে সকলেই তাকে ভালোবাসতেন। অনেকে সময়ের অভাব এবং ভিসা না পাওয়ায় আসতে পারেনি।  শুধু বাংলাদেশ নয় পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের হিজড়াদের সাথে তাদের যোগাযোগ আছে। কিন্তু সব দেশের হিজড়াদের পরিস্থিতি একই রকম। জীবন মান খুবই নাজুক। তিনিসহ দেশের সকল হিজড়া এই সম্প্রদায়ের লোকজনের বিশেষ দৃষ্টি দেয়ার দাবি জানায়।