কপিলমুনি হাসপাতাল ৩১ শয্যা হচ্ছে

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি  : অবশেষে ৩১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে কপিলমুনি সরকারি হাসপাতাল। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাসপাতালটিতে ইতোমধ্যে ভূমি জরিপ কার্যক্রমও সম্পন্ন করা হয়েছে।

১৯১৫ সালের ৭ এপ্রিল রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধু ২০ শয্যা বিশিষ্ট যাদব চন্দ্র চ্যারিটেবল ডিসপেনসারি ও ভরত চন্দ্র হাসপাতাল হিসেবে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতার প্রদেয় অর্থের লভ্যাংশ দ্বারা হাসপাতালটি পরিচালিত হত। হযরত পীর জাফর আউলিয়া, মহাভারতীয় যুগে মুনি কপিল, বৌদ্ধ যুগে বাগনাথমহন্ত স্মৃতি বিজড়িত এবং কপোতাক্ষ তীরবর্তী দক্ষিণ খুলনার সব চেয়ে বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্র। দানবীর রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধু যার আধুনিক রূপকার। ভৌগলিক অবস্থান বিন্যাসে খুলনা, সাতক্ষীরা ও যশোর সীমানার প্রায় ২০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে কপিলমুনি হাসপাতাল প্রায় অর্ধ কোটি মানুষের স্বাস্থ্য সেবা প্রদানে একমাত্র সরকারি হাসপাতাল। জগৎ বিখ্যাত বিজ্ঞানী আচার্য স্যার পি সি রায় এর অনুপ্রেরণায় বিনোদ বিহারী সাধু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শিক্ষা, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার জন্য বাণিজ্যিক কেন্দ্র, টেকনিক্যাল স্কুল, মন্দিরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে হাসপাতাল নির্মাণে তৎকালীন সময়ে নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থাসহ এক্স-রে মেশিন স্থাপন করেন। কপিলমুনি হাসপাতালটি প্রায় তিন একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত। এখানে একতলা বিশিষ্ট বহিঃবিভাগ, দ্বিতল বিশিষ্ট আন্তঃ বিভাগ, পুকুর ২ টি, বেড সংখ্যা ১০টি, অক্সিজেন সিলিন্ডার -৬টি, অক্সিজেন ফ্লোমিটার ২টি, আবাসিক ভবন (সবগুলি পরিত্যাক্ত) এবং জনবল কাঠামো, ডাক্তার ২ জন, নার্স (পদ ৪টি) শূন্য ১টি, ফার্মসিস্ট, অফিস সহকারী ২জন এবং রয়েছে ২জন পরিদর্শন কর্মী। আয়া, বাবুর্চি, নাইটগার্ড, ওয়ার্ডবয় ও ফ্লোর ক্লিনার নেই। হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স, অপারেশন থিয়েটার, লেবার রুম ও লেবার ওয়ার্ড নেই।

নাছিরপুর গ্রামে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা শেখ নেছার আলী জানান, এই ঐতিহাসিক ও বর্ধিষ্ণু জনপদের বিশাল জনগোষ্ঠির চিকিৎসা সেবা প্রদানে প্রয়োজনীয় জনবল এবং অবকাঠামোগত অবস্থা হাসপাতালটির নেই। ফলে বলাচলে এলাকার মানুষ সুচিকিৎসা বঞ্চিত ছিল। তবে শয্যা বাড়ালে মানুষ সেবা পাবে।

সাবেক উপাধ্যক্ষ মোঃ আফসার আলী বলেন, ‘বৃহত্তর খুলনার ইতিহাসে ও ঐতিহ্যের অন্যতম দাবিদার প্রবীন জনপদ কপিলমুনি। এখানে জন্ম দেশবরেণ্য ব্যক্তিবর্গের। ঐতিহাসিক স্থান, বাস্তব প্রেক্ষাপট ও সময়ের প্রয়োজনে হাসপাতালের শয্যা বৃদ্ধি হলে বৃহত্তর এলাকার মানুষের দুর্ভোগ কমবে।

কপিলমুনি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ কওছার আলী জোয়ার্দ্দার জানান, রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধু ২০ শয্যা বিশিষ্ট যাদব চন্দ্র চ্যারিটেবল ডিসপেনসারি ও ভরত চন্দ্র হাসপাতাল হিসেবে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। অর্ধকোটি মানুষের স্বাস্থ্য সেবা প্রদানে একমাত্র সরকারি হাসপাতালটি অচিরেই ৩১ শয্যা উন্নীত হলে ৩ টি উপজেলার মানুষ সেবা পাবে।

পাইকগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ আরাফাতুল আলম বলেন, ‘হাসপাতালটির শয্যা বড়ানোর লক্ষ্যে আমরা সম্প্রতি ভূমি জরিপ করেছি, আমরা দেখেছি হাসপাতালের সম্পত্তি সিমানা সঠিক আছে কি না, বা কারো অবৈধ বসতি আছে কি না। আমাদের জরিপ সম্পন্ন হয়েছে এখন সীমানা প্রাচীর তোলা হবে।’