মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর গোলাবর্ষণে ২ রোহিঙ্গা নারী নিহত

স্পন্দন আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) রায়ের দু’দিন পার হতে না হতেই মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর হাতে প্রাণ হারালেন রাখাইনের দুই রোহিঙ্গা নারী। উত্তর রাখাইনের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত একটি গ্রামে সামরিক বাহিনীর গোলাবর্ষণে তারা নিহত হন।

শনিবার (২৫ জানুয়ারি) স্থানীয় সংসদ সদস্য ও গ্রামবাসীর বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানায়।

উত্তর রাখাইনের কিন তাউং গ্রামে এ হামলায় নিহতদের একজন গর্ভবতী ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানায়। একই ঘটনায় গ্রামটির অপর সাত ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

উত্তর রাখাইনের বুথিডাউং শহরের সংসদ সদস্য মং কিআউ জানান, কিন তাউং গ্রামের কাছে অবস্থান করা সেনাবাহিনীর এক ব্যাটেলিয়ন মধ্যরাতে গ্রামটির ওপর গোলা বর্ষণ করে।

তিনি বলেন, ‘কোনো যুদ্ধ ছাড়াই তারা শুধু শুধু গ্রামের ওপর গোলা বর্ষণ করে।’

এ নিয়ে রাখাইনে এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো কোনো বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটলো।

এর আগে, ৭ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) কাউক ইয়ান গ্রামে এক মাইন বিস্ফোরণে চার রোহিঙ্গা শিশু নিহত হয়।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট, রাখাইনে কথিত ‘আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি’র (আরসা) সেনাচৌকিতে হামলার অভিযোগে রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযানে নামে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর এ আগ্রাসনে রাখাইনের অন্তত ২৪ হাজার রোহিঙ্গা অধিবাসী নিহত হন। হামলা থেকে বাঁচতে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

রাখাইনে রোহিঙ্গা বিরোধী এ আগ্রাসনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের নভেম্বরে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নেদারল্যান্ডের হেগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মামলা করে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। ডিসেম্বরে শুনানির পর বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) মামলার অর্ন্তবর্তী আদেশ দেন আদালত। এতে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গা গণহত্যা বন্ধ ও রাখাইনে বাস করা রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।