কেশবপুরে নৌকার হাল ধরতে চান ওরা ১১ জন

সিরাজুল ইসলাম, কেশবপুর : কেশবপুরে জাতীয় সংসদের উপ-নির্বাচনে নৌকার কাণ্ডারী হতে ‘ওরা ১১ জন’ মাঠে নেমেছেন। নির্বাচনী মাঠের পাশাপাশি দলীয় হাইকমান্ডেও যোগাযোগ করছেন মনোনয়ন প্রত্যাশিরা।

কেশবপুরের সংসদ সদস্য সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেকের মৃত্যুর ১৫ দিন পার না হতেই উপ-নির্বাচনের আলোচনা শুরু হয়েছে। মায়ের শোক ভুলে ইসমাত আরা সাদেকের মেয়ে প্রকৌশলী নওরীন সাদেক  এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেছেন।

যশোর ৬ কেশবপুরের এই আসনটি ১৯৯৬ সালের পর হতে নৌকার দখলে। এর মধ্যে প্রয়াত শিক্ষামন্ত্রী এএসএইচকে সাদেক ১৯৯৬ এর ১২ জুন নির্বাচিত হয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ২০০১ সালের ১লা অক্টোবর নির্বাচনেও তার বিজয়ের ধারাটি অব্যাহত ছিল। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে অধ্যক্ষ আব্দুল ওহাব নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদের হুইপ মনোনীত হন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে এএসএইচকে সাদেকের সহধর্মিণী ইসমাত আরা সাদেক প্রথমবারের মত নির্বাচিত হয়ে প্রথমে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হন। এর ৩ দিন পরেই তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর তিনি বিজয়ী হন। চলতি বছর ২১ জানুয়ারি ইসমাত আরা সাদেক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর যশোর-৬ আসনটি  শূন্য হয়।

কেশবপুর নির্বাচন অফিস জানায়, কোন সংসদ সদস্যের মৃত্যু হলে স্বাভাবিকভাবেই আসনটি শূন্য হয়ে যায়। আলাদা করে আসনটি শূন্য ঘোষণার প্রয়োজন হয় না।

ইসমাত আরা সাদেকের মৃত্যুর পর পরই গত ২৪ জানুয়ারি কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে শোকসভায় জেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার শোক সভা করেন। তার কন্যা প্রকৌশলী নওরীন সাদেক দলীয় মনোনয়ন পেতে গণসংযোগ শুরু করেছেন। নওরীন সাদেক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের পরেই সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এইচএম আমীর হোসেন। বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা কাজী রফিকুল ইসলাম, কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাস্টার রুহুল আমীন, কেশবপুর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক গাজী গোলাম মোস্তফা, কেশবপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম মোড়ল, সদ্য অবসরপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডাঃ জি কে শামছুজ্জামান, কেশবপুর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও ট্রাস্টি সদস্য সাংবাদিক শ্যামল সরকার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অ্যাডভোকেট হুসাইন মোহাম্মদ ইসলাম ও বীমাবিদ শেখ রফিকুল ইসলাম।

সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এইচএম আমীর হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, দলীয় সভানেত্রী জনমত জরিপের ভিত্তিতে যদি মনোনয়ন দেন তাহলে আমি উপ-নির্বাচনে অন্যতম দাবিদার। কেননা আওয়ামী লীগের গত সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা আমার মনোনয়নের ব্যাপারে কারও কোন ডিসপুট ছিলো না কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যান থাকার কারণে আমার মনোনয়নে বাধা হয়েছিলো।