ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প করলেন সফল নারী উদ্যোক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০০২ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর এক মেয়ে আর দু’ ছেলে নিয়ে বিপাকে পড়েন আবিদা সুলতানা মুক্তি। সংসার আর সন্তানদের জন্যে কিছু করার কথা ভাবতে থাকেন। একজন নারী হয়েও সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারার এক ব্যবসায়ে মনোযোগী হন। স্বামীর মোটর পার্টসের ব্যবসার হাল ধরেন তিনি। ভিন্ন ধারার এবং বেশ চ্যালেঞ্জিং ব্যবসা হলেও মেধা ও দক্ষতার কারণে অল্প দিনেই সফল হন। যশোরের মোটর পার্টস ব্যবসায়ীদের কাতারে নিজ নাম লেখান। এখন তিনি এ শহরের অন্যতম একজন সফল মোটর পার্টস ব্যবসায়ী। এভাবে জীবন সংগ্রামের কথা বলে চলেন সফল নারী উদ্যোক্তা ও জয়িতা সম্মাননাপ্রাপ্ত আবিদা সুলতানা মুক্তি।

এমনিভাবে উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের সংগ্রাম ও সফলতার গল্প বলেন সেরা নারী উদ্যোক্তার খেতাবপ্রাপ্ত তনুজা রহমান মায়া, জয়িতা সম্মাননাপ্রাপ্ত নারী উদ্যোক্তা লতিফা শওকত রূপা, ব্যবসায়ী মর্জিনা বেগম, নারী উদ্যোক্তা কোহিনূর সুলতানা, রোকসানা হুদা, সাদিয়া খান, দিল আফরোজ শিল্পীসহ অন্যান্যরা। সে কথা শুনে মুগ্ধ ও আবেগাপ্লুত হন উপস্থিত সবাই। কেউ কেউ প্রেরণা পান নতুন করে জীবন সংগ্রামের কিংবা ঘুরে দাঁড়ানোর শপথে। যশোর জেলা নারী উদ্যোক্তা কমিটির আয়োজনে পৌরপার্কে নারী উদ্যোক্তা সম্মেলনে এভাবে নিজেদের মধ্যে সুখ, দুঃখের কথা ভাগাভাগি করে একটি দিন কাটালেন যশোরসহ সারাদেশ থেকে আসা শতাধিক নারী উদ্যোক্তা। দিনব্যাপী তারা খেলাধুলা, গল্পগুজব, আনন্দ আড্ডা, সেলফি তুলে, নেচে গেয়ে নিজেদের মতো করে একটি দিন কাটান।

জাতীয় সংগীতের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে দিনব্যাপী দু’ পর্বের এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ। উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, উদ্যোক্তা হিসেবে নারীরা সারাদেশেই সফল হয়েছে। সরকার নারীদের এগিয়ে নিতে চেষ্টা করে যাচ্ছে। শুধুমাত্র নারীদের এগিয়ে নিতে অনেকগুলো প্রজেক্টও আছে।

তিনি আরও বলেন, এমন সম্মেলনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে। যাতে সারাদেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগের একটি মাধ্যম তৈরি হয়। এছাড়া, আরও যারা উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তাদেরও যাতে স্বপ্ন পূরণের পথ প্রশস্ত হয়। প্রধান অতিথি বলেন, ব্যাংকগুলো নারীদের ঋণ দিয়ে স্বস্তি বোধ করে কারণ তারা ঋণ পরিশোধে এগিয়ে রয়েছে। সর্বোপরি উদ্যোক্তা তৈরিতে নারী পুুরুষ সবাইকেই ঋণ দিতে এবং মার্কেট তৈরিতে সহযোগিতা করতে হবে। ব্যাংকগুলোর এক্ষেত্রে আরও স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করতে হবে।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন যশোর উইমেন চেম্বারের সভাপতি তনুজা রহমান মায়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত নারী উদ্যোক্তা ও বিউটি এক্সপার্ট কানিজ আলমাস খান ও প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন। উপস্থিত ছিলেন দৈনিক লোকসমাজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আনোয়ারুল কবীর নান্টু, দৈনিক গ্রামের কাগজ সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন, দৈনিক স্পন্দনের নির্বাহী সম্পাদক মাহাবুব আলম লাবলু, দৈনিক প্রতিদিনের কথার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ফারাজী আহমেদ সাঈদ বুলবুল ও দৈনিক সমাজের কথার বার্তা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় কানিজ আলমাস খান বলেন, উদ্যোক্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করতে গিয়ে নারীদের অনেক চড়াই উতরাই পার হতে হয়। এগুলো মেনে নিয়েই হার না মানা মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। ভালোবাসা ও সততার সাথে কাজ করলে সফল হওয়া যায়। তিনি সবাইকে আন্তরিকতা ও একতার সাথে কাজ করার আহবান জানান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নারী উদ্যোক্তা ও বিউটি এক্সপার্ট বাঁশিরা আক্তার বাঁশি, তৃপ্তি সিদ্দিকা, মমতাজ খাতুন, রোজী হোসাইন, রন্ধনশিল্পী নাসরিন হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে যশোর, খুলনা, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ঝিনাইদহ, নড়াইল, মেহেরপুর, মাদারীপুর, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা, কুমিল্লা, ব্রাহ্মনবাড়িয়াসহ সারাদেশের বিভিন্ন জেলার শতাধিক নারী উদ্যোক্তা অংশ নেন। অতিথিদের আলোচনা শেষে উদ্যোক্তাদের তিনটি রাউন্ডে বালিশ বদল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম পর্বের অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শিক্ষক মিনারা খন্দকার। দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু। বালিশ বদল খেলায় মোট তিনটি রাউন্ডে বিজয়ী নয়জনের মধ্যে তিনি পুরস্কার বিতরণ করেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও র‌্যাফেল ড্রয়ের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়। দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিশিষ্ট উপস্থাপক অ্যানি আসকর।