শার্শার বহুলালোচিত ধর্ষণ মামলায় আব্দুল লতিফ অভিযুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের শার্শার বহুলালোচিত ধর্ষণ মামলায় আব্দুল লতিফকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনার জড়িত থাকার অভিযোগ না পাওয়ায় দুইজনের অব্যহতির আবেদন করা হয়েছে। মামলার তদন্ত শেষে আদালতে এ চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই’র ইন্সপেক্টর মোনায়েম হোসেন। অভিযুক্ত আব্দুল লতিফ শার্শার লক্ষণপুর গ্রামের আব্দুল মাজেদের ছেলে।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ভুক্তোভোগী নারী ২০১৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বর যশোরে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ৫০ হাজার টাকা ঘুষ না পেয়ে গোড়পাড়া ক্যাম্পের এক পুলিশ সদস্যসহ তিনজন তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে। এছাড়া আরো দুজন তার ঘরের বাইরে পাহারায় ছিলো। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় ৩ জনকে আসামি করে শার্শা থানায় একটি মামলা হয়। আসামিরা হলো লক্ষণপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুল কাদের, আব্দুল মাজেদের ছেলে আব্দুল লতিফ এবং চটকাপোতা গ্রামের মৃত রমিজ উদ্দিনের ছেলে কামরুজ্জামান ওরফে কামরুল। প্রথমে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান শার্শা থানা পুলিশের ইন্সপেক্টর (তদন্ত) ফরিদ ভূঁইয়া। তিনি এ মামলার এজাহারভুক্ত ৩ আসামিকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করেন। এরপর মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। এ মামলার তদন্ত চলাকালে আটক আসামিদের মধ্যে আব্দুল লতিফ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এছাড়া এ মামলার তিন আসামিসহ কয়েকজনের ডিএনএ পরীক্ষা করানো হয়। এরিপোর্টে শুধুমাত্র আব্দুল লতিফের ডিএনএ এর নমুনার মিল ছিল। এছাড়া তদন্তে সন্দিগ্ধ পুলিশ সদস্য ও এজাহারনামীয় আসামি আব্দুল কাদের ও কামরুলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে চার্জশিটে। আসামির দেয়া জবানবন্দি ও সাক্ষীদের বক্তব্যে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় আব্দল লতিফকে অভিযুক্ত করে আদালতে এ চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। এদিকে, এই ধর্ষণকাণ্ডে গোড়পাড়া ক্যাম্পের সাবেক ইনচার্জ এসআই খাইরুল ইসলামের জড়িত থাকার গুঞ্জন ওঠে। কিন্তু পুলিশি তদন্তে ও ডিএনএ টেস্টে তা প্রমাণ হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় হয়।