ভাতাপ্রাপ্তদের কার্ড বিতরণ করতে গ্রামে গ্রামে যাচ্ছেন ইউএনও

জামির হোসেন, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ):আগে স্ব-চক্ষে দেখছেন। তারপর করছেন কাগজপত্র যাচাই বাছাই। এরপর নিচ্ছেন উপস্থিত গ্রামবাসীদের মতামত। শেষ অবধি সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বিতরণ করছেন সরকারি ভাতার কার্ড। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ইউএনও সূবর্ণা রানী সাহা গ্রামে গ্রামে যেয়ে এভাবে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের কার্ড বিতরণ করছেন। ইতোমধ্যে ইউএনও ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)সহ উপজেলার অন্যান্য কর্মকতা মিলে পৌরসভাসহ প্রায় সবকটি ইউনিয়নে ভাতা ভোগীদের কার্ড বিতরণের কাজ সম্পন্ন করেছেন। প্রকৃত দুঃস্থরা কার্ড পাওয়ায় এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারসহ গ্রামের সাধারণ মানুষ।

উপজেলার কয়েকটি গ্রামে ঘুরে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বললে তারা জানায়, ইতোপূর্বে সরকারি সুবিধাভোগীদের তালিকা ও কার্ড বিতরণে নানা অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি করা হত। বর্তমানে কালীগঞ্জের ইউএনও নিজে উপস্থিত থেকে যাচাই বাছাই করায় এখন প্রকৃতরাই কার্ড পাচ্ছেন। গ্রামবাসীরা কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করেও জানায়, ইতোপূর্বে কার্ড বিতরণে এমনও নজির আছে, যে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে সুবিধাবাদী অনেকই ওই কার্ড হাতিয়ে নিত। সেখানে প্রকৃত ভুক্তভোগীরা বঞ্চিত হত। এ বছর ইউএনও নিজে ইউনিয়নে এসে প্রকৃতদের কার্ড দেয়ায় অনিয়ম হয়নি।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সূবর্ণা রানী সাহা জানান, সমাজের প্রকৃত দুঃস্থ অসহায় মানুষকে সরকারি ভাতার কার্ড প্রদান নিশ্চিত করতেই তিনি ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে যাচ্ছেন। এ কার্য্যক্রমে আগে থেকেই দুঃস্থদের আবেদন করতে ইউনিয়ন থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। নির্ধারিত দিনে ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বর ও গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে আবেদন বাছাই শেষেই কার্ড প্রদান করা হচ্ছে। তিনি জানান, ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে ৫/৭ টি করে কার্ড বরাদ্দ আছে। কিন্তু কোথাও কোথাও বেশি আবেদন জমা পড়ায় সে ক্ষেত্রে তিনি উপস্থিত গ্রামবাসীর সহায়তায় দুঃস্থ তালিকা সম্পন্ন করেন। এতে করে প্রকৃত ভুক্তভোগীদের চিহ্নিত করা সহজ হচ্ছে। ইউএনও আরো জানান, সরকারিভাবে অনেক আগে থেকেই স্বচ্ছতার মাধ্যমে ভাতার কার্ড প্রদানে নির্দেশনা থাকলেও এবছর ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ তাকে এই কার্যক্রমে বেশি তৎপর হতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। গ্রামে মাইকিং শুনে ইউনিয়ন অফিসে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে ভাতার কার্ডপ্রাপ্ত সুন্দরপুর দুর্গাপুর ইউনিয়নের আলাইপুর গ্রামের অসহায় বৃদ্ধ আবু রসুল সাংবাদিকদের জানায়, বাড়ির ভিটে মাটিটুকু ছাড়া তার আর কিছুই নেই। ৩ ছেলেই বাজারে ভ্যান চালায়। খুব কষ্টের মধ্যে পরিবারের দিন কাটত। আগে অনেকবার চেয়ারম্যান মেম্বরদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো কার্ড পাইনি। এবারই মাইকিং শুনে লাইনে দাঁড়ানোর পর শহরের অফিসাররা তাকে এই কার্ডটি দিয়েছেন। এতে সে বেজায় খুশি। ওই ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ওহিদুল ইসলাম জানান, ইউএনও তত্বাবধানে এবার স্বচছতার মাধ্যমে কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। এতে তার গ্রামবাসীরা খুশি।

কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আয়ুব হোসেন ইউএনওর এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, তিনি দুঃস্থদের ভাতার কার্ড বিতরণে কখনো কোনো অনিয়মকে প্রশ্রয় দেননি।