যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন ঘিরে প্রচারণায় সরগরম ক্রীড়াঙ্গন

মারুফ কবীর:

আর মাত্র চারদিন পর ১২ ফেব্রুয়ারি যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারনায় সরগরম যশোরের ক্রীড়াঙ্গণ। এবারের নির্বাচনে দুটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ২৭ পদের বিপরীতে ৫৪ জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হচ্ছে। প্রার্থীরা বেশির ভাগ সময় প্যানেলভুক্ত হয়ে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন এবং কুশল বিনিময় করছেন। অনেকে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করছেন ভোটারদের সাথে। সকলেই দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে যশোরের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন, নিয়মিত মাঠে খেলাধুলার আয়োজনসহ আরও অনেককিছু। প্যানেলের লিফলেট বিতরণ করছেন ভোটারদের কাছে। এমনকি প্যানেলভুক্ত হয়ে প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সাথে মতবিনিময় করছেন প্রর্থীরা। মল্লিক-সালেক-কবির ক্রীড়া উন্নয়ন পরিষদ এরই মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করেছে। তারা ক্ষমতায় থাকাকালীন যে সব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড করেছে তা তুলে ধরেছেন এবং নতুন আরও অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পাশশাপাশি উন্নয়নমূলক কাজের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।

অপরদিকে মোকসেদ সফী-সরু চৌধুরী ও আসাদুজামান মিঠুর নেতৃত্বাধীন ক্রীড়া উন্নয়ন ও অগ্রগতি পরিষদের প্রার্থীরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। তারা বিভিন্ন উন্নয়নের কাজের প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন ভোটারদের। তারাও সংবাদ সম্মেলন করে তাদের আগামীর পরিকল্পনার কথা জানাবেন বলে জানিয়েছেন প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আসাদুজামান মিঠু।

মল্লিক-সালেক-কবির ক্রীড়া উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ইয়াকুব কবির বলেন , বছরের শুরুতেই ক্রীড়াপঞ্জি প্রণয়ন করা হবে, ঢাকা থেকে উচ্চ মানের প্রশিক্ষক এন খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করবো, জাতীয় পর্যায়ে যশোরের খেলোয়াড়দের প্রতিনিধিত্বের হারানো গেীরব ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে খেলার মান বৃদ্ধিসহ প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেয়া হবে , আমাদের প্যানেল নির্বাচিত হতে পারলে সব ধরনের খেলা মাঠ আনবো। বছরে অন্তত একবার এজিএম করবো। খেলোয়াড়দের মান উন্নয়নে কাজ কবো। স্টেডিয়ামের অফিস ব্যবস্থা ডিজিটালাইজ করবো। সর্বোপরি যশোরের ক্রীড়াঙ্গনকে খেলা মূখর রাখার চেষ্টা করবো। তিনি আরও বলেন, বিগত মেয়াদে যশোরের ক্রীড়াঙ্গনে অনেক কাজ হয়েছে। কিছু কাজ চলমান ছিলো যা এবার নির্বাচিত হলে সম্পন্ন করবো। গত মেয়াদে কাজের মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য ছিলো জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সাথে সমন্বয় করে শামস-উল-হুদা স্টেডিয়ামের অধুনিক গ্যালারি ও গ্যালারির নিচে দোকান ঘর নির্মাণ। এছাড়া বহুদিন অযতেœ পড়ে থাকা মূল্যবান সুইমিংপুল আমরা পুনরায় সচল করেছি, নাদিরা ইসলাম স্মৃতি ইনডোর ভলিবল গ্রাউন্ড তৈরি হয়েছে এবং নিয়মিত খেলা হচ্ছে এখানে, স্টেডিয়ামের অবকাঠামোর সংস্কার করা হয়েছে, সদরের ১৫ টি ইউনিয়নকে নিয়ে সফলভাবে আন্তঃ ইউনিয়ন ফুটবল প্রতিযোগিতা অত্যন্ত জাঁকজমকভাবে করা হয়েছে।

মোকসেদ সফী-সরু চৌধুরী ও আসাদুজামান মিঠুর নেতৃত্বাধীন ক্রীড়া উন্নয়ন ও অগ্রগতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আসাদুজামান মিঠু বলেন, প্রথমত যশোরের খেলাধুলার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা থাকবে। আমার প্যানেল নির্বাচিত হলে ১২ মাস খেলা মাঠে রাখার চেষ্টা করবো। পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে সকল খেলা অনুষ্ঠিত হবে। ইনডোরের খেলাগুলো যাতে হয় সেদিকে নজর থাকরে আমাদের।

সাবেক জাতীয় ও যশোরের কৃতী ফুটবলার সৈয়দ মাশুক মুহম্মদ সাথী বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে কমিটি আসুক না কেনো, তাদের কাছে আমার আশা বছরজুড়ে যাতে খেলাধুলা মাঠে থাকে। এবং খেলায়াড়দের মূল্যায়ন হোক। সর্বোপরি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হোক এমন আশা প্রকাশ করেছেন ক্রীড়া সংগঠকরা।