আজ বসন্তে ভালোবাসা

বিল্লাল হোসেন : বর্ষপঞ্জি বদলে যাওয়ায় এবার প্রথম বারের মতো পহেলা ফাল্গুনের দিনে ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস পড়েছে। তাই ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক আজ যেমন বসন্ত তেমনি  ভালোবাসায় একাকার হবে দিনটি। এ উপলক্ষে যেমন সবার জীবনে বসন্তের রঙিন পরশ ছুঁয়ে যাবে তেমনি অনেকেই গুনগুনিয়ে গেয়ে উঠবে ‘ভালোবেসে সখী নিভৃতে যতনে আমার নামটি লিখো’ তোমার মনের মন্দিরে’।

ভালোবাসার বর্ণ,গন্ধ ও কোনো রঙ নেই… নেই কোনো আকার। তবুও পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত শব্দগুলোর একটি ‘ভালোবাসা’। ফাল্গুনের প্রথম দিন আর ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’বা বিশ্ব ভালোবাসা দিবস একই দিনে আপন করে নেবে তরুণ প্রজন্ম। ফাল্গুন আর ভালোবাসার উচ্ছ্বাসে আজ মুখর হবে নানা বয়সের মানুষ। যেন হৃদয় রাঙানোর মহাদিনে একে অপরকে বলবে সখি ভালোবাসি তোমায়। এই দিনে মন খোলা যায়। কেমন সে দিন,কেমন দিনে তাকে বলা যায়।

রবীন্দ্রনাথ তার গানেই বলেছেন, তাহাতে এ জগতে ক্ষতি করে/নামাতে পারি যদি মনোভাবে দু’কথা বলি যদি কাছে তার/ তাহাতে আসে যাবে কি বা কার’। মনোভাবে নামানো নিয়েই যখন কথা তখন হোক না সে দিন শীত, গ্রীষ্ম কিংবা বসন্তের।

আজ ভোর হতেই মানুষ আপন আপন ভাষায় গেয়ে উঠবে ‘এই সুরে কাছে দূরে, জলে স্থলে বাজায় বাঁশি-ভালোবাসি ভালোবাসি। আর বসন্তের রঙে মন হবে রঙিন। এই রং ছড়িয়ে বসন্ত বিরাজ করে সবার মনে। এই দিনে প্রকৃতিকে রাঙাতে ব্যস্ত থাকে পলাশ ,শিমুল আর কৃষ্ণ । কচি সবুজ পাতা, লাল-হলদে ফুল বসন্তের রঙে রাঙিয়ে দেবে প্রকৃতি। আর প্রকৃতির সেই রঙ দেখেই কোকিল গাইতে শুরু করবে কুহু কুহু……।

বিনোদন কেন্দ্রগুলো সরব হবে তরুণ-তরুণীসহ সব মানুষের পদচারণায়। প্রেমশার বাগিয়ে হৃদয়ে বন্দরে ঘুরে বেড়াবে। ভালোবাসা দিবসে ভালোবাসার শুভেচ্ছা শুধু প্রমিক প্রেমিকা নয়, প্রযোজ্য বাবা-মা নই – ভাইবোন, বন্ধু সকলের ক্ষেত্রেই। প্রযুক্তি কল্যাণে হাইটেক, ডিজিটালের যুগে মুঠোফোনের ক্ষুদে বার্তা, ই-মেইল, অথবা ফেসবুকে পুঞ্জ পুঞ্জ প্রেমকথার কিশলয় পল্লবিত হয়ে রাত ১২টার পর থেকেই গোলাপের ইশারা বিনিময়, আর মনের গহীনের কথকতার কলি ফোটাবে তারা। ভালোবাসা নিয়ে কবিতা আর গান সুরে-বেসুরে শোনানো হবে প্রিয়জনকে। ভালোবাসার এই দিনে চকোলেট, পারফিউম, বই ইত্যাদি শৌখিন উপঢৌকন প্রিয়জনরা এক অপরকে উপহার দেবে। কেউ কেউ খোঁপায় গুজে দেবে গোলাপ।

পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস  ঘিরে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান। কেউ কেউ গতকালও বসন্ত উৎসব পালন করেছে।

কথিত আছে, ২৬৯ কিংবা ২৭০ খ্রিষ্টাব্দে রোমান স¤্রাট ক্লডিয়াস মৃত্যুদণ্ড দেন সেন্ট ভ্যালেইন্টাইনকে। কারো মতে, অন্ধ প্রেমিকার চোখের দৃষ্টি ফেরাতেই জীবন দিতে হয়েছে তাকে। কেউ বলে, বিয়ে প্রথা নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে নিজে বিয়ে করে বিদ্রোহী হন তিনি। আবার কারো মতে, রোগীর সেবা আর খ্রিষ্ট ধর্ম প্রচারের অপরাধে জীবন দিতে হয় চিকিৎসক ভ্যালেনটাইনকে। ভালোবাসার এই হৃদয় ছোঁয়া অমর ঘটনাকে স্মরণ করে রাখতে পোপ প্রথম জুলিয়াস ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারিকে সেন্ট ভ্যালেন্টাইন ডে হিসেবে ঘোষণা করেন।