ফুল ব্যবসায়ীদের আশা ভঙ্গ !

মিরাজুল কবীর টিটো:
বিশ্ব ভালবাসা দিবস ও পহেলা ফাল্গুনে যশোরের ফুল ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত। প্রতিবছর এই দিনে তারা অনেক ফুল বিক্রি করলে ও গতকাল শুক্রবার ফুল কেনায় ক্রেতা ছিল না বললেই চলে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় এবার ফুলের দাম বেশি ও ইসলামী মহাসম্মেলন হওয়ার কারনেই ফুল বিক্রিতে ধস নেমেছে।
শুক্রবার ছিল বিশ্ব ভালবাসা দিবস ও পহেলা ফাল্গুন। একই দিনে দুটি দিবস উপলক্ষে যশোরে ফুল ব্যবসায়ীরা ভাল বিক্রির আশায় অনেক টাকার ফুল কিনে আনেন। কিন্তু তাদের সেই আশা পুরণ হয়নি। ক্রেতা না থাকায় চাহিদা অনুযায়ী ফুল বিক্রি না হওয়ায় তাদের আসল টাকায় উঠেনি। তাই তারা চিন্তিত হয়ে পড়েছে। শহরের ফুলেল দোকান ঘুরে জানা গেছে গোলাপ ফুল ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকায়,রজনী গন্ধা ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গতবছর গোলাপ,রজনী গন্ধ্যা ৫ টাকা ৭টাকায় বিক্রি হয়েছে। দাম বেশি হওয়ায় বিক্রিতে ধস নেমেছে বলে মনে করছেন ফুল ব্যবসায়ীরা। সেই সাথে এই দিনে ইসলামী মহা সমাবেশ হওয়াটাই আরেকটি কারণ বলে মনে করছেন।
শহরের গাড়িখানা রোডের বিয়োজন পুষ্প কেন্দ্রের সত্ত্বাধিকারী আবুল কাশেম জানান বিশ্ব ভালবাসা দিবস ও পহেলা ফাল্গুনে তিনি ৮০ হাজার টাকার ফুল কিনেছেন। গোলাপ ১৮ টাকাই কিনে ১০ টাকায়, রজনী গন্ধা ৮ টাকায় কিনে ১০ টাকায় বিক্রি করছেন। কিন্তু ফুল কেনার তেমন ক্রেতা না থাকায় ভাল বেচাকেনা হয়নি। তার মাত্র ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার ফুল বিক্রি হয়েছে। এতে তার মূল টাকা উঠবে না। একই কথা জানান সেন্ট্রাল ফুল ঘরের মালিক রফিকুল ইসলাম। তিনিও ৫০ হাজার টাকার ফুল কিনেছেন। বিক্রি তেমন না হওয়ায় চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। বাংলা ফুল ঘরের মালিক জাফর হোসেন জানান বিশ্ব ভালবাসা দিবস ও পহেলা ফাল্গুন উপলক্ষে তিনি ৬০ হাজার টাকার ফুল কিনেছেন। ক্রেতা কম থাকায় তিনি বিক্রি করেছেন ১৪ হাজার টাকার ফুল। এত কম বিক্রি হলে মুল টাকা উঠবে না। উল্টো লোকসান হবে। দড়াটানার মালঞ্চ ফুল ঘরের কর্মচারি আশরাফ হোসেন জানান বিশ্ব ভালবাসা দিবসে অনেক মানুষ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে গিয়ে পিকনিক করেছে। এটাও ফুল বিক্রি কম হওয়ার আরেকটি কারণ হতে পারে। পলি খাতুন নামে এক যুবতি জানান ফুল কিনতে এসেছি। দাম বেশি হওয়ায় না কিনে চলে যাচ্ছি। একই কথা জানায় রানী বেগম, মাসুম খানসহ আরো কয়েকজন ফুলের ক্রেতা।