শহরাংশে ভৈরব খনন, বদলাচ্ছে শুধু তারিখ

মিরাজুল কবীর টিটো ও রিমন খান : দুই মাস যেন শেষ হচ্ছে না পানি উন্নয়ন বোর্ডের। ভৈরব নদের যশোর শহরাংশ খনন সম্পর্কে জেলার মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় ‘আগামী দুই মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে’ বলে জানালেও অবস্থাদৃষ্টে শেষ হবে না বলে মনে হচ্ছে। এর আগেও পানি উন্নয়ন বোর্ড একাধিকবার সময়ের কথা উল্লেখ করেছিল।

বাস্তবতা হচ্ছে, ভৈরবের দাড়াটানা অংশের কাজ বন্ধ রয়েছে। এর কারণ বাইরের অতিরিক্ত পানি ভৈরবে এসে জমা পড়ছে। কোনোভাবে বাসাবাড়ি, ক্লিনিকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, জেলখানার ব্যবহৃত পানি থামানো যাচ্ছে না। ফলে স্কেভেটার নামানো যাচ্ছে না। পানি নিষ্কাশন করাও যাচ্ছেনা। আবার সামনে বর্ষা মৌসুম। সব মিলিয়ে এখনই খনন কাজ শুরু করতে না পরলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ‘দুই মাস’ বছরেও শেষ হবে না।

এদিকে পৌরসভার দাবি-যশোর শহরকে দুই ভাগে ভাগ করেছে ভৈরব। প্রতিদিনের ব্যবহৃত দক্ষিণাংশের পানি পড়ে বিল হরিয়ানায়। আর উত্তরাংশের পানি পড়ে ভৈরবে। এই পানি নিষ্কাশনের দায়িত্ব ভৈরব খনন কর্তৃপক্ষের পৌসভার না।

গত রোববার জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় এক প্রশ্নের জবাবে

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদুল ইসলাম জানান, ভৈরব নদ খননে যশোর শহর অংশের কাজ এবং সৌন্দর্য্য বর্ধণে পার্ক নির্মাণের চলমান কর্মযজ্ঞ আগামী দুই মাসের মধ্যে শেষ হবে। এছাড়াও বকুলতলায় গাছগুলো রেখেই পৌরসভাকে পার্ক নির্মাণ করতে হবে। কোনোভাবে গাছ কাটা চলবে না।

কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি সূত্র জানিয়েছে, ভৈরব নদ খননের লক্ষে গত বছরের ২৮ মার্চ নদের ধারের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। সে সময় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল নভেম্বর ২০১৯ এ খনন কাজ শুরু করা হবে। এজন্য ৫টি স্কেভেটর দিয়ে কচুড়িপানা অপসারণ করা হয়। নদের পানি নিষ্কাশনের জন্য স্যালোমেশিন লাগানো হয়। সিদ্ধান্ত মতে একমাস পর পানি নিষ্কাশন করে খনন কাজ শুরু করা হবে। কিন্তু ডিসেম্বর মাসে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল পানি নিষ্কাশন করে ভৈরব নদ খনন কাজ করার মতো অবস্থা তৈরি করা যায়নি। সেই সাথে রয়েছে মাটি রাখার জায়গা সঙ্কট।

আরো জানানো হয়, কোনো অবস্থাতেই দ্রুত গতিতে ভৈরব নদ খনন কাজ করা যাচ্ছে না। খনন কাজের জন্য স্যালোমেশিন দিয়ে প্রতিদিন যত পানি নিষ্কাশন করা হয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি পানি জেলখানা, বাসাবাড়ি, ক্লিনিকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে এসে ভৈরব নদে এসে জমা হচ্ছে। ভৈরব নদে পানি আসা বন্ধ করা যাচ্ছে না। বর্তমানে ভৈরব নদের যে পরিমানে পানি রয়েছে তাতে স্কেভেটর নামিয়ে খনন কাজ শুরু করা যাবে না। স্কেভেটর দেবে যাবে। সেটা আনতে আরেকটি মেশিন আনতে হবে। পানি নিষ্কাশন ও কাঁদা অপসারণ করে যখন কাজের অবস্থা তৈরি করা যাবে তখন দ্রুত গতিতে খনন কাজ করা হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদুল ইসলাম আরো জানান, এ পর্যন্ত ভৈরবের ৯৬ কিলোমিটারে মধ্যে ৬০ কিলোমিটার খনন হয়েছে। বাকি রয়েছে শহরের কাঠের পুলের পশ্চিম পাশ থেকে ৩৬ কিলোমিটার। এরমধ্যে শহর অংশের খনন কাজে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পানি। পানি আসার কারণে ভৈরবের মাটি এতই নরম থাকছে, সেখানে স্কেভেটর নামিয়ে কোনো ভাবেই খনন করা যাবে না। এ জন্য খনন গতি এগুচ্ছে না। ভৈরব নদের পাশ চ্যানেল করে দিয়েও পানি আসা কোনো ভাবে বন্ধ করা যাচ্ছে না।

অন্যদিকে যশোর পৌরসভার সচিব আজমল হোসেন জানান, পৌরসভার দক্ষিণাংশের পানি ড্রেনের মাধ্যমে বিল হরিয়নার মাধ্যমে নিষ্কাশন হয়। উত্তরাংশের জেলখানা, বিভিন্ন বাড়ি, ক্লিনিকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পানি যাচ্ছে ভৈরব নদে। তার দায়ভার পৌরসভার না।

ফলে ভৈরবের দড়াটানা অংশের কাজ কবে নাগাদ শুরু হবে তার কোনো উত্তর মিলছে না। ফলে ফের সময় চাইতে পারে পানি উন্নয়ন বোর্ড।