দুপুরের পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শূন্য হাসপাতাল, ইন্টার্নরা সব কাজের কাজি

বিল্লাল হোসেন  : মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫ টা। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডের মেঝেতে পড়ে যন্ত্রনায় ছটফট করছে ছুরিকাঘাতে আহত রিয়াজ হোসেন (২৮)। কিছু সময় পর সেখানে আসেন চিকিৎসক ইন্টার্ন মৌসুমি। রিয়াজকে ওয়ার্ডের অস্ত্রোপচার কক্ষে নিয়ে চিকিৎসাসেবা দেন। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বিকেলে মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি হন ৩ মাসের শিশুসহ ৪ জন। স্বজনরা জানান, তারা দীর্ঘ সময় মেঝেতে পড়েছিলেন। কোনো চিকিৎসকের দেখা পাননি। ভর্তির ১ ঘন্টারও বেশি সময় পরে রোগীর কাছে যান ইন্টার্ন চিকিৎসক মৌসুমি। তিনি টিকিটে কিছু ওষুধ লিখে চলে যান। সহকারি রেজিস্ট্রার বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দেখা পাননি কোনো রোগী।
মঙ্গলবার ভর্তি হওয়া রোগীদের দেখভালের দায়িত্ব ছিল সার্জারি ইউনিট-২ এর। এই ইউনিটে ৪ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াও সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মো শাহিনের দায়িত্ব ছিল। দুপুরের পর তাদের দেখা পাননি রোগীরা। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হেলেনা খাতুনের (৩৮) স্বজনরা জানায় ইন্টার্ন চিকিৎসক তাদের রোগীকে গুরুত্ব দিয়ে দেখেননি। এই বিষয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসক মৌসুমি জানান, অনকলে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসককে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তার পরামর্শে তিনি ছুরিকাঘাত ও সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীর চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, শুধু সার্জারি ইউনিট না অন্য ইউনিটেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। নিয়মানুযায়ী ওয়ার্ডে রোগীর ভর্তি হওয়ার পর ইন্টার্নরা তার প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে প্রয়োজনমতো সংশ্লিষ্ট ইউনিটের কনসালটেন্ট বা সহকারী রেজিস্ট্রার বা অনকলে দায়িত্বরত চিকিৎসককে জানাবেন। তিনি এসে রোগীর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কিন্তু ইন্টার্নরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ভুমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছেন। তারা অনকলে কোনো চিকিৎসককে ডাকছেন না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডাকলেও বিশিষেজ্ঞ চিকিৎমকরা সময় মত আসছেন না। আসতে বাধ্য হলে রোগীর সাথে খারাপ ব্যবহার করছেন। এ অবস্থায় ইন্টার্নরা রোগীর ছাড়পত্র দেয়ার পাশাপাশি অন্যত্র রেফার্ডও করছেন। আবার রোগীকে মৃত ঘোষণা করছেন তারা। গত ৩ ফেব্রুয়ারি সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন মণিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া গ্রামের মৃত জোবেদ আলী বিশ্বাসের ছেলে শাহজালাল বিশ্বাসকে (৬৫) মৃত ঘোষণা করেন ইন্টার্ন চিকিৎসক মৌসুমী। ঘরের সিড়ি বেয়ে ছাদে ওঠার সময় পড়ে গিয়ে মাথা ও বুকে আঘাত পেয়েছিলেন তিনি। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে আগুনে পুড়ে বৃদ্ধা মনোয়ারা খাতুনের (৫৫) মৃত ঘোষণা করেন ইন্টার্ন চিকিৎসক মহিউদ্দিন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় জানান, প্রতি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ইন্টার্নের প্রাথমিক চিকিৎসার পর প্রয়োজনে অবশ্যই অনকলে চিকিৎসক বা সহকারী রেজিস্ট্রার রোগীর কাছে আসবে । তিনি রোগীর অবস্থা খারাপ থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে ডাকবেন। এই নিয়ম না মেনে ইন্টার্ন চিকিৎসক যদি সব কিছু একা একা করার পর রোগীর অবস্থা খারাপ হলে দায়ভার তাকে (ইন্টার্ন) নিতে হবে।