যশোরে ঢাকা রোডের শতাধিক স্থাপনা গুড়িয়ে দিয়েছে সওজ

মিরাজুল কবীর টিটো : যশোর শহরের ঢাকা রোডে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। বুধবার মুড়লি থেকে কোল্ডস্টোরেজ মোড় পর্যন্ত শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয় সওজ কর্তৃপক্ষ। এ সময় দুইতলা, তিনতলা ভবনসহ অনেক দোকানপাট ভাঙা পড়ে। অভিযানের নেতৃত্ব দেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের অ্যাসেট অ্যান্ড ’ল অফিসার অনিন্দিতা রায়। আজও এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।

এদিকে বিকেলে এ অভিযান চলাকালে বকচর র‌্যাব ক্যাম্পের সামনে একজন প্রকৌশলী ও বুলডোজার চালককে মারপিট করেছে র‌্যাব সদস্যরা। এসময় উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্বদানকারী ম্যাজিস্ট্রেটকেও লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে র‌্যাব বিষয়টিকে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা বলে দাবি করেছেন।

এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম মোয়াজ্জেম হোসেন। তারা হামলার শিকার দু’জনকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। তবে তারা এ নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে কথা বলতে রাজি হননি।

যশোর সড়ক ও জনপথ অফিস সূত্র জানায়, বারান্দীপাড়া ঢাকা রোড, মণিহার মুড়লি সড়ক ফোর লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প অনুমোদন হয় গত ২৬ নভেম্বর। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ এ প্রকল্প অনুমোদন দেয়। এরপর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উদ্যোগে সীমানা মাপ দিয়ে অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়। সেই সাথে অবৈধ দখলদারদের স্থাপনা সরিয়ে নিতে নোটিশ দেয়াসহ মাইকিং করা হয়। তারপরও যারা তাদের স্থাপনা সরিয়ে নেয়নি তাদের স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে উচ্ছেদের সময় বকচর এলাকার দুইটি তিনতলা ভবনের কিছু অংশ, চারপাঁচটি দুইতলা মার্কেট, বাড়িসহ শতাধিক কাচাপাকা দোকান ভাঙা পড়ে। সেই সাথে রাস্তার ধারের গাছ উপড়ে ফেলা হয়। দুর্ঘটনা রোধে বিদ্যুৎ বিভাগ, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের উপস্থিত রাখা হয়। উচ্ছেদের সময় অনেকেই নিজ উদ্যোগে তাদের স্থাপনা ভেঙে নিতে দেখা গেছে।

এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগ-২ এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রফিকুন্নবী জানান অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দিতে স্থাপনার মালিকদের অনেকবার নোটিশ দেয়াসহ মাইকিং করা হয়েছে। কিন্তু অনেকেই অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেয়নি। একারনে বুলডোজার দিয়ে সেগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ তাদের বৈদ্যুতিক খাম্বা সরিয়ে নেয়ার ব্যয়ের বাজেট দেয়ার পর তাদের খরচ দেয়া হবে। বৈদ্যুতিক খাম্বা সরিয়ে নেয়ার পর রাস্তা চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হবে। এ সড়কে চারলেনে পাশাপাশি ছোটখাটো যানবাহন চলাচলেরও ব্যবস্থা করা হবে। উচ্ছেদ কার্যক্রম থেকে একটি স্থাপনাও বাদ পড়বে না।

উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দানকারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের খুলনা জোনের স্টেট অফিসার সিনিয়র সহকারী সচিব অনিন্দিতা রায় বলেন, বুধবার বিকেলে উচ্ছেদকারী দলটি শহরের বকচর এলাকায় র‌্যাবের অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে আসে। এ কার্যালয়ের প্রাচীরটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায় নির্মিত হওয়ায় উচ্ছেদকারী দল র‌্যাব সদস্যদের তাদের গাড়ি সরিয়ে নিতে বলেন। গাড়ি সরিয়ে নেয়ার পর প্রাচীরটি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেয়া হয়। এর কিছু সময় পর র‌্যাব সদস্যরা ক্যাম্প থেকে বের হয়ে এসে বুলডোজার চালক প্রতাপ কুমার ও উপসহকারী প্রকৌশলী তরুণ কুমার দত্তকে মারপিট করে এবং বুলডোজারের সামনের কাচ ভেঙে দেয়। এরপর তাদের ধরে ক্যাম্পের ভিতর নিয়ে যায়।

অভিযানে নেতৃত্বদানকারী ম্যাজিস্ট্রেট অনিন্দিতা রায় অভিযোগ করেন, র‌্যাব কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই উচ্ছেদের বিষয় জানে। তাদের সাথে সড়কের কর্মকর্তাদের কথাও হয়েছে। র‌্যাব সদস্যরা যা করেছে তা গ্রহণযোগ্য না।

অবশ্য র‌্যাব সদস্যরা দাবি করেন, ‘ম্যাজিস্ট্রেট ম্যাডাম কোনো কথা শুনতে রাজি হননি। গাড়ি সরানোর সময় পর্যন্ত দেননি। র‌্যাব অফিস একটি নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকা। অস্ত্রসহ সরকারি সম্পদ নিয়ে সরে যাওয়ার আগেই ভাঙচুর শুরু করা হয়। ক্যাম্প কমান্ডারের সাথে মোবাইলে কথা বলিয়ে দিতে চাইলেও তিনি কথা বলেননি। এভাবে সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রাচীর ভাঙা যুক্তিযুক্ত হয়নি বলে দাবি করেন তারা।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে বক্তব্য নেয়ার জন্য র‌্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের অধিনায়কের দাফতরিক মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করলেও রিসিভ হয়নি।