উদীচী ট্র্যাজেডি স্মরণ


নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ মার্চ উদীচী ট্র্যাজেডি ‘যশোর হত্যাকাণ্ড দিবস’ বিস্তারিত কর্মসূচির মধ্যদিয়ে পালিত হয়েছে। উদীচী যশোর আয়োজিত এসব কর্মসূচির মধ্যে ছিল বিকেলে টাউন হল ময়দানে প্রতিবাদী সমাবেশ,সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সেদিনের ১০ শহিদের স্মরণে ১০টি মশাল প্রজ্বালন এবং শহিদ বেদিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ। প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, তদন্ত ত্রুটিপূর্ণ হলে সেটি থেকে ন্যায় বিচার পাওয়া যায় না। তাই পুনরায় তদন্তের মাধ্যমে উদীচী হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। বক্তারা বলেন, উদীচী সুস্থ-সাংস্কৃতিক চর্চা করে। যার কারণে ১৯৯৯ সালের ৬ মার্চ সংগঠনটির জাতীয় সম্মেলনে পৈশাচিক সেই বোমা হামলা চালানো হয়। শিল্পী-সাংস্কৃতিক কর্র্মীদের এভাবে হত্যার ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল ঘটনা। সমাবেশে উদীচী যশোরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহাবুবুর রহমান মজনুর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন,সংগঠনের উপদেষ্টা অ্যাড. কাজী আব্দুস শহীদ লাল, উদীচীর কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রবীর সর্দার, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন, সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনির, উদীচীর খুলনা বিভাগীয় কমিটির আহবায়ক সুখেন রায়, যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি একরাম উদ দৌলা, জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. অশোক রায়, সিপিবির জেলা সভাপতি অ্যাড. আবুল হোসেন, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাহামুদ হাসান বুলু, বিবর্তন যশোরের সভাপতি সানোয়ার আলম খান দুলু,উদীচী মাগুরা জেলা কমিটির সভাপতি বিশ্বজিৎ চক্রবর্তি, ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সভাপতি কেএম শরিফ ও সাধারণ সম্পাদক দিলিপ ঘোষ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উদীচী যশোর জেলা সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান খান বিপ্লব। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উদীচী শিল্পী কাজী শাহেদ নওয়াজ। প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা আরো বলেন, যারা বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের বিরোধিতা করে, যারা কখনোই চায়নি বাংলাদেশ নামক কোন রাষ্ট্র হোক, তারাই সাংস্কৃতিক কর্মীদের হত্যা করে আসছে। বাঙালি সংস্কৃতির চর্চা হোক, এটির লালন হোক, এটি যারা চায় না, উদীচী হত্যাকাণ্ডের দায় তাদেরই। আলোচনা পর্ব শেষে রওশন আলী মঞ্চ সংলগ্ন উদীচী হত্যাকাণ্ডের শহিদদের স্মরণে নির্মিত বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সেখানে ফুল দিয়ে উদীচী হত্যাকাণ্ডে নিহত ১০ শহিদকে শ্রদ্ধা জানায়। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শহিদ বেদিতে ১০টি আলোর মশাল প্রজ্বালন করা হয়। শহিদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়, উদীচী জেলা সংসদ, সমি¥লিত সাংস্কৃতিক জোট, সুরবিতান, জাসদ, সিপিবি, ওয়ার্কার্স পার্টি, তির্যক, চাঁদের হাট, সুরধুনী, শেকড়, পুনশ্চ, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, আশাবরী ও বিবর্তন । শেষে মঞ্চে পরিবেশিত হয় প্রতিবাদী সংগীতানুষ্ঠান।